তারিক হাসান
দুধ–কলার পুষ্টিতে একটা সময় মজে থাকতেন বাংলার মানুষ। অধিকাংশ মানুষের রোজের খাবারের তালিকায় এই দুটি জিনিস অবশ্যই থাকত। ফাস্ট ফুড, চাউমিনের দৌলতে তাতে কিছুটা ভাটা পড়েছিল। ফের পুরনো অভ্যাস ফিরিয়ে আনছে কেভেন্টার অ্যাগ্রো। বাংলাকে ফের দুধ, কলা খাওয়ার অভ্যাস করাচ্ছে।
লকডাউনের সময়ও যাতে বাংলার মানুষ সেই পুষ্টি অভ্যাস থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য বাড়ি বাড়ি পুষ্টিকর খাবারদাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। জুটি বেঁধেছে সুইগি ও জোম্যাটোর সঙ্গে। অর্ডার দেওয়ার ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতে এই জোট বাঁধা। এর জন্য কলকাতায় তৈরি করা হয়েছে ৫টি ডিস্ট্রিবিউশন ডিপোর নেটওয়র্ক। নিউ আলিপুর, আলিপুর, মনোহরপুকুর, স্বভূমি ও রাজারহাটের ডিপো থেকে দ্রুত বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাবে চাহিদার খাবার। 
কেভেন্টারের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ গ্রামবাংলার চাষিদের কলা চাষে আরও বেশি করে আগ্রহী করে তোলা। এখন প্রায় ২০ হাজার চাষি কলা চাষে যুক্ত। তাঁদের উৎপাদিত কলা জৈব পদ্ধতিতে পাকানোর পর পৌঁছে যাচ্ছে সাধারণের ঘরে। ২০১৩ সালে যখন কলার বিপণন শুরু হয় তখন অনেক চাষিই আগ্রহ দেখাননি। তবে উৎপাদিত কলার পুরোটাই কেভেন্টার বেশি দামে কিনে নিতে থাকায় আগ্রহ ক্রমে বাড়তে থাকে। শুধু কলা কেনাই নয়, কীভাবে কলা চাষ করলে আরও লাভজনক হবে, সেই প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। পাশাপাশি তারা তৈরি করছে ট্রেটা প্যাকে কেভেন্টার দুধ। রয়েছে লস্যি, মিল্ক শেক, ফ্রোজেন ফুডও। কলকাতা, শিলিগুড়ি, দুর্গাপুর, মেদিনীপুর, পাটনা, রুরকি, রাঁচিতে রয়েছে কলা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র। 
এর পাশাপাশি তাদের সংস্থার আরেকটি পণ্য বাংলার মন জয় করেছে। সেটি মেট্রো ডেয়ারি। আপাতত তারা দৈনিক প্রায় সওয়া ২ লাখ লিটার দুধের পসরা নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে সকলের বাড়ি বাড়ি। রয়েছে আইসক্রিমও। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, কলকাতা এবং আশপাশের জেলায় বেশ কয়েকটি মেট্রো জিরো ডিগ্রি আইসক্রিম পার্লার খোলা হয়েছে। যেখানে নিজের ইচ্ছেমতো স্বাদের আইসক্রিম তৈরি করিয়ে খাওয়া যাবে। পাওয়া যাবে কলকাতার ৩টি এবং দিঘা, হাওড়ার অবনী শপিং মলে। এ ছাড়াও গড়ে উঠেছে কেভেন্টার ক্রিম অ্যান্ড ফাজ, কফি ওয়ার্ল্ড।
এর পাশাপাশি পূর্ব ভারতে পার্লে অ্যাগ্রোর ফ্রুটি, অ্যাপি, অ্যাপি ফিজ–এর মতো ফলের রস জাতীয় পানীয়ের সংগ্রহ, উৎপাদন ও বিপণনের দায়িত্বে রয়েছে কেভেন্টার অ্যাগ্রো।
লকডাউনের সময় কোথায় পাওয়া যাবে কেভেন্টারের খাদ্যসামগ্রী?‌ সংস্থার ওয়েবসাইটে গিয়ে স্টোর লোকেটরের মাধ্যমে খুঁজে নেওয়া যাবে কাছাকাছি কোথায় আছে কেভেন্টারের সম্ভার। সেখানে দেওয়া বিশেষ নম্বরে ফোন করলে পৌঁছে দেওয়া হবে অর্ডার দেওয়া কেভেন্টারের খাদ্যসামগ্রী। আরও দ্রুত যাতে গ্রাহকদের কাছে সেগুলি পৌঁছে দেওয়া যায় তার জন্য সুইগি, জোম্যাটোর সঙ্গে জোট বাঁধা হয়েছে।
এই উদ্যোগ সম্পর্কে কেভেন্টার অ্যাগ্রোর সিএমডি ময়ঙ্ক জালান বলেন, ‘এখন গ্রাহকদের বাড়ির একেবারে দরজায় প্রতিদিনকার প্রয়োজনীয় পুষ্টির উপকরণ পৌঁছে দেওয়া দরকার। আশা করি, কলকাতার নাগরিকরা আমাদের এই ই–কমার্স উদ্যোগের প্রশংসা করবেন। সুইগি ও জোম্যাটোর যাঁরা রাইডার, তাঁদের প্রতি আমরা ঋণ স্বীকার করছি। এঁরাই অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন। সাধারণ মানুষ যে ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন, তা লাঘব করতে এই রাইডাররাই একটা মৌলিক পার্থক্য তৈরি করে দিচ্ছেন।’‌‌‌‌‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top