দেশ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভা নিলেও প্রত্যেক মন্ত্রীর বা বলা ভাল মন্ত্রকের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতটা তৈরি করে দেন আমলারা। সহজভাবে বলতে গেলে এঁরাই দেশের অর্থনৈতিক–রাজনৈতিক–সামাজিক মেরুদণ্ড। বর্তমানে আর্থিক পাওনাগণ্ডার নিরিখে বেসরকারি ক্ষেত্রের ‘‌চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার’‌ (‌সিইও)‌ পদের সঙ্গে তুলনীয় তো বটেই, সম্মানের নিরিখে কয়েক যোজন এগিয়ে থাকবেন সরকারি পরিচালন ব্যবস্থার এই স্তম্ভরা। মেধার পাশাপাশি ঐকান্তিক ইচ্ছে থাকলে এই পেশায় আসা তেমন কঠিন কিছু নয়। ফের শুরু হয়েছে দেশ গড়ার কারিগরদের বেছে নেওয়ার বার্ষিক কেন্দ্রীয় প্রবেশিকা, যার গালভরা নাম ‘‌ইউপিএসসি–সিভিল সার্ভিসেস’‌। এ বছরের পরীক্ষা কবে, কোন যোগ্যতায় আবেদন, কেমন পদে নিয়োগ– জানাচ্ছেন চিরদীপ ভট্টাচার্য

আইএএস, আইপিএস অফিসারদের আদতে দেশ পরিচালন ব্যবস্থার স্তম্ভ বললেও অত্যুক্তি হয় না। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় ২৪টি সিভিল সার্ভিসে আসতে গেলে পেরোতে হবে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস পরীক্ষার বাধা। দেশের অন্যতম কঠিন এই পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ হয় অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ, ফরেন, পুলিস, অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিনান্স, রেভিনিউ, ডিফেন্স অ্যাকাউন্টস, অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি, পোস্টাল, রেলওয়ে ট্রাফিক, কর্পোরেট ল’‌, ইনফরমেশন এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির বিভিন্ন সার্ভিস সেক্টরে। এগুলির মধ্যে আবার বেশিরভাগের লক্ষ্য থাকে ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস (‌আইএফএস)‌, ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস (‌আইএএস)‌ এবং ইন্ডিয়ান পুলিস সার্ভিস (‌আইপিএস)–‌এর মতো পদগুলির দিকে।
পরীক্ষার তিনটি ধাপ— প্রিলিমিনারি (‌প্রিলিমস)‌, মেন এবং পার্সোনালিটি টেস্ট (‌বা ইন্টারভিউ)‌। প্রিলিমসে কোয়ালিফাই করলে তবেই বসা যাবে মেন পরীক্ষায়। মেনের পরে থাকবে পার্সোনালিটি টেস্ট। পদের সংখ্যা খুব একটা বেশি না হলেও চাকরি বা পদের স্ট্যাটাস ও প্রেস্টিজের কারণে সারা দেশের বহু সংখ্যক মেধাবী পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় বসেন।
২০১৮–র সিভিল সার্ভিসের মাধ্যমে পূরণ করার জন্য উপলব্ধ শূন্যপদ আপাতত ৭৮২।

যোগ্যতামান
যে কোনও শাখার গ্র‌্যাজুয়েট হলেই এই পরীক্ষায় বসা যায়। ১ অগস্ট, ২০১৮–‌র ভিত্তিতে প্রার্থীর বয়স সর্বনিম্ন ২১ বছর এবং সর্বাধিক ৩২ বছর হতে হবে অর্থাৎ, প্রার্থীর জন্মতারিখ থাকতে হবে ২ অগস্ট, ১৯৮৬ থেকে ১ অগস্ট, ১৯৯৭–‌এর মধ্যে। তফসিলি, ওবিসি এবং প্রতিবন্ধীরা সরকারি নিয়মানুসার বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় যথাক্রমে ৫, ৩ এবং ১০ বছরের ছাড় পাবেন। বিশেষত আইপিএস পদের জন্য প্রার্থীদের নির্ধারিত শারীরিক যোগ্যতামানও পূরণ করতে হবে।

প্রার্থীবাছাই কীভাবে
সর্বভারতীয় এই সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় দুটি স্তর। প্রথমে ৪০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি বা প্রিলিমস এবং এতে উতরোলে তবে বসা যাবে মেন পরীক্ষায়। সর্বাধিক ৬ বার (‌ওবিসি–দের ক্ষেত্রে ৯ বার)‌ এই পরীক্ষাটি দেওয়া যেতে পারে। তফসিলিদের ক্ষেত্রে এমন কোনও ব্যাপার নেই।
• প্রিলিমস:‌ পরীক্ষা হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ৩ জুন, রবিবার। সর্বভারতীয় পরীক্ষাকেন্দ্রগুলির মধ্যে এ রাজ্যে দুটি:‌ কলকাতা, শিলিগুড়ি। প্রিলিমসে থাকে দুটি পেপার, মোট ৪০০ নম্বরের— দুই ঘণ্টার প্রতিটি পেপার ২০০ নম্বরের। প্রশ্ন থাকে মাল্টিপল চয়েসধর্মী। প্রতি ভুল উত্তরের জন্য নেগেটিভ মার্কিং হয়‌। এক নজরে দুটি পেপারের সিলেবাস— পেপার ১ (‌জেনারেল স্টাডিজ টেস্ট)‌: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন সাম্প্রতিক ঘটনাবলি, ভারতের এবং ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস, ভারত ও বিশ্বের ভৌগোলিক পরিচিতি, ইন্ডিয়ান পলিটি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়ন, পরিবেশ ও বাস্তুবিদ্যাগত প্রাথমিক ধারণা, সাধারণ বিজ্ঞান। পূর্ণমান ২০০, সময় ২ ঘণ্টা, প্রশ্নের সংখ্যা ১০০, প্রতি প্রশ্নের মান ২। পেপার ২ (‌অ্যাপটিটিউড টেস্ট)‌: কম্প্রিহেনশন, ইন্টারপার্সোনাল স্কিলস (‌কমিউনিকেশন স্কিল–‌সহ)‌, লজিক্যাল রিজনিং অ্যান্ড অ্যানালিটিক্যাল এবিলিটি, ডিসিশন মেকিং অ্যান্ড প্রবলেম সলভিং, জেনারেল মেন্টাল এবিলিটি, বেসিক নিউমারেসি (‌দশম শ্রেণি মানের)‌, ডেটা ইন্টারপ্রিটেশন, ডেটা সাফিশিয়েন্সি (‌দশম শ্রেণি মানের)‌। পূর্ণমান ২০০, সময় ২ ঘণ্টা। এই পেপার ২–‌তে কমপক্ষে ৩৩%‌ স্কোর করতেই হবে।
• মেন:‌ এরপর প্রিলিমসে উতরোনো প্রার্থীদের অক্টোবর মাসে (‌সম্ভাব্য)‌ সামলাতে হবে মেন। এখানে মোট নম্বর ১৭৫০। মেইন–‌এর পেপারগুলি এক নজরে (‌পাশে বন্ধনীতে পূর্ণমান)‌:‌ পেপার ১: তালিকাভুক্ত যে কোনও একটি ভারতীয় ভাষা (‌৩০০);‌ পেপার ২: ইংলিশ (‌৩০০);‌ পেপার ৩: প্রবন্ধ রচনা (‌২৫০)‌;‌ পেপার ৪, ৫, ৬, ৭:‌ জেনারেল স্টাডিজ— তথ্যপুস্তিকায় দেওয়া বিষয়ের তালিকা থেকে যে কোনও দুটি বিষয়ের ২৫০ নম্বরের দুটি করে পেপার (‌মোট ১০০০)‌। এর পর পার্সোনালিটি টেস্ট (‌ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে)‌। এখানে পূর্ণমান ৩০০। সব মিলিয়ে ২০৫০ নম্বরের নিরিখে প্রার্থীবাছাই।

আবেদন প্রক্রিয়া
আবেদনের প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইন। http://www.upsconline.nic.in ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করা যাচ্ছে। পরীক্ষার ফি ১০০ টাকা। তফসিলি, প্রতিবন্ধী এবং মহিলা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফি হিসেবে কোনও টাকা লাগে না। অনলাইনে আবেদনের শেষ তারিখ ৬ মার্চ, সন্ধে ৬টা পর্যন্ত। তবে, স্টেট ব্যাঙ্ক চালানের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি জমা দেওয়া যাবে ৫ মার্চ পর্যন্ত।

জনপ্রিয়

Back To Top