আজকালের প্রতিবেদন: মাত্রাতিরিক্ত সীসা–মিশ্রিত রঙিন দ্রব্যের ব্যবহার শিশুর বুদ্ধি এবং আচরণগত বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। সীসা একটি ভারী ধাতু যা মানু্ষের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। সীসার ক্ষতিকর প্রভাব ও সীসামুক্ত রঙের ব্যবহার নিয়ে কলকাতায় একটি সচেতনতামূলক আলোচনাসভার আয়োজন করে পরিবেশ সম্পর্কিত গবেষণা সংস্থা টক্সিক্স লিঙ্ক। যেখানে চিকিৎসক, পরিবেশবিদ, গবেষক ও বিভিন্ন রঙ প্রস্তুতকারক সংস্থার আধিকারিকেরা ছিলেন। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুনীতা সাহা বলেন, ‘সীসা–মিশ্রিত রঙ ‌শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। ৬০ শতাংশের ক্ষেত্রে দেখেছি ইডিওপ্যাথিক নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডারে ভুগতে। সচেতনতাবোধ জরুরি।’‌ গবেষক সুস্মিতা এক্কা বলেন, ‘শরীরে সীসা ঢুকলে তা চর্বির মধ্যে জমতে থাকে। স্নায়ু ছাড়াও কিডনি, হার্টের, মেটাবলিক সিনড্রোম সমস্যা হয়।’‌ টক্সিক্স লিঙ্কের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর সতীশ সিনহা জানিয়েছেন, ‘‌বাড়িতে চেয়ার, টেবিল, জলের কল, খেলনা, আঁকার সরঞ্জাম, ফুলের টব–সহ আরও একাধিক গৃহসজ্জার ও গৃহস্থের ব্যবহারের জিনিসে সীসার মিশ্রণ থাকে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে। বড় রঙ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো মানলেও ছোট সংস্থাগুলো এখনও মানছে না।’ ‌টক্সিক্স লিঙ্কের প্রোগ্রাম কো–অর্ডিনেটর প্রশান্ত রাজনকার বলেন, ‘‌কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক এ বিষয়ে ‘‌দি রেগুলেশন অন লেড কনটেন্টস ইন হাউজহোল্ড অ্যান্ড ডেকোরেটিভ পেইন্টস রুলস, ২০১৬’‌–তে জানায় গৃহস্থে ব্যবহৃত দ্রব্য ও গৃহসজ্জার জিনিসের রঙে সীসার মাত্রা ৯০ পিপিএম–এর নীচে সীমিত রাখতে হবে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেখেছি রঙের কৌটোর লেবেলে লেখা সীসামুক্ত, বাস্তবে তা নয়। নিয়মকানুন কঠোরভাবে প্রণনয় ও সচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছি।’‌ ছিলেন পীযূষ মহাপাত্র, ডাঃ কে কে সেনগুপ্ত প্রমুখ।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top