সৌম্যকান্তি দাস: করোনা সংক্রমণের ফলে বিশ্বব্যাপী যে সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে বিগত চার–‌পাঁচ মাস যাবৎ, তাতে কমবেশি সমস্ত ধরনের শিল্প, কলকারখানা, উৎপাদন প্রক্রিয়া, পরিষেবা ব্যবস্থা, ব্যবসা–‌বাণিজ্যর অবনতি হয়েছে। তার মধ্যেই মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে শিক্ষা ক্ষেত্রের নানাবিধ কার্যকলাপ। সমস্ত স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রম মোটামুটিভাবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে। ছাত্র, ছাত্রী, অভিভাভকরা এ ব্যাপারে কিছুটা হলেও নিশ্চিন্ত থাকতে পারছেন। আমরা যারা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত, তারা খুব ভাল করেই জানি, এই পঠন–‌পাঠনের সঙ্গে চাকরি ক্ষেত্রের যোগাযোগ ও সম্পর্ক কতটা নিবিড়। এমত অবস্থাতে বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি ক্যাম্পাস প্লেসমেন্ট নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা করা শুরু করেছে। অনলাইনে সম্পূর্ণ ক্যাম্পাস প্রসেস কীভাবে করা যায় সেই নিয়ে চলছে পরীক্ষা–‌নিরীক্ষা। হিউম্যান রিসোর্স আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পথ ঠিক করা হচ্ছে।
২০২১ পাশ আউট ব্যাচ ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র–‌ছাত্রীদের ক্যাম্পাস প্লেসমেন্ট নিয়ে আগামী দিনে এক নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা হতে চলেছে। কলেজে কলেজে এত বছর ধরে যেভাবে ক্যাম্পাস প্লেসমেন্ট  আয়োজন করা হত, সেই ফিজিক্যাল প্রক্সিমিটিটা কমিয়ে এবার অনলাইন প্রক্রিয়ার ভূমিকা অনেকটাই বেড়ে যেতে চলেছে, অন্তত যতদিন লকডাউন চলবে বা দেশের অবস্থা স্বাভাবিক না হবে। 
এমত অবস্থাতে সমস্ত অনলাইন টেকনোলজিকে সাদরে আহ্বান জানিয়েছি আমরা। নিজেদের তৈরি রাখছি যে কোনও ধরণের অনলাইন প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করবার। এই নতুন ব্যবস্থাতে, ছাত্রছাত্রীদের প্রস্তুতিতে যাতে কোনও রকম ব্যাঘাত না ঘটে তার জন্য সব রকম আয়োজন রাখা হচ্ছে।
২৯২১ পাশ আউট ব্যাচের ছাত্র–‌ছাত্রীদের প্রস্তুত করার জন্য ইতিমধ্যেই বিভিন্ন  ট্রেনিং ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিভিন্ন সেমিনার, ওয়েবিনার করা হচ্ছে, যাতে ছাত্র–‌ছাত্রীরা সব খবরাখবর রাখতে পারে, নিজেদের প্রস্তুত করে তুলতে পারে। বর্তমানে আমরা সবাই জানি গোটা বিশ্ব জুড়ে সি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, জাভা বা পাইথন ল্যাঙ্গুয়েজের কদর। এছাড়াও সি শার্প, রুবি, পিএইচপি এসবেরও বেশ কদর আছে। 
ছাত্র–‌ছাত্রীদের যে কোনও একটা কম্পিউটার ল্যাঙ্গুয়েজ জানতেই হবে। সঙ্গে থাকতে হবে নিজস্ব বিষয়ের ওপর দক্ষতা আর নিজেকে মেলে ধরার ইচ্ছা। যেখানে গোটা বিশ্ব জুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা বা রুজি–‌ রোজগার হারানোর ভয় গ্রাস করছে দিন দিন, সেখানে দাঁড়িয়েও চাকরি পাওয়ার সুযোগ যে কোনও সময় এসে দুয়ারে কড়া নাড়তে পারে। নিজেকে প্রস্তুত না রাখলে সুযোগ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ক্যাম্পাস প্রসেস থেকে চাকরি পেতে গেলে, বিশেষ করে আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে চাকরি পেতে হলে Aptitude স্কিল, প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ স্কিল আর কমিউনিকেশন স্কিল থাকা অত্যন্ত জরুরি। আমরা পর্যাপ্ত ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের প্রস্তুত করে তুলছি। এর মধ্যে উইপ্ৰো লিমিটেডের সাথে গাঁটছড়া বেঁধে টেকনো ইন্টারন্যাশনাল নিউ টাউনে শুরু হচ্ছে ‌‌‌‘‌উইপ্রো ট্যালেন্ট নেক্সট প্রোগ্রাম’‌ যা ছাত্রছাত্রীদের ‘‌ইন্ডাস্ট্রি রেডি’‌ করে তুলবে।
টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের পক্ষ থেকে আমরা বেশ কিছু ক্যাম্পাস প্লেসমেন্ট ইতিমধ্যেই অনলাইনের মাধ্যমে করে ফেলতে সক্ষম হয়েছি, অবশ্য সেগুলি সবই ২০২০ পাশ আউট ব্যাচের জন্য। এটা আশা করা যাচ্ছে ২০২১ পাশ আউট ব্যাচের ক্যাম্পাস প্লেসমেন্ট প্রক্রিয়াও সুষ্ঠুভাবে করা যাবে। সুতরাং, সময়কে সঠিক ভাবে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে হবে আমাদের।এই কঠিন সময়ের হাতে বন্দি না থেকে গড়ে তুলতে হবে নতুন রূপরেখা।
লেখক টেকনো ইন্টারন্যাশনাল নিউ টাউনের 
ট্রেনিং অ্যান্ড প্লেসমেন্টের প্রধান

জনপ্রিয়

Back To Top