‌আজকালের প্রতিবেদন:‌ হঠাৎই উধাও জ্বরের প্রয়োজনীয় ওষুধ ক্যালপল ৬৫০। শহরে বেশ কিছু এলাকায় ওষুধের দোকানে ক্যালপল ৬৫০ মিলছে না বলে অভিযোগ শোনা যাচ্ছে ক্রেতাদের মুখে। জ্বর–সর্দি–কাশির মধ্যে হাতের কাছে এই ওষুধ না পাওয়াতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ কেন এই পরিস্থিতি? ‌‌এই বিষয়ে ওষুধ বিক্রেতাদের কাছে খোঁজ নিতে গেলে তারা জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই তারা দোকানে ক্যালপল ৬৫০ পাচ্ছেন না। কারণ জোগান বন্ধ রয়েছে। কিছু কিছু দোকানে এখনও এই ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে ঠিকই কিন্তু সেখানে কতদিন মজুত থাকবে তা বলতে পারছেন না কর্মীরা। মজুত ওষুধ শেষ হয়ে গেলে নতুন করে পাওয়া যাবে কিনা তা সঠিক জানা নেই বিক্রেতাদের। বাজারের অধিকাংশ দোকানেই অমিল। একটাই কথা চাহিদামত যোগান নেই। নভেম্বরের শেষ হতে না হতেই শীতের আমেজ শুরু। এই সময় ঘরে ঘরে জ্বর–সর্দি–কাশি নিত্যদিনের ব্যাপার। আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় শিশু থেকে বয়স্ক সকলেই এই সময় ভাইরাল ফিভার, সর্দি, জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। ক্যালপল ৬৫০ জ্বর কমানোর জন্য অতি পরিচিত একটি ওষুধ। অনেক সময় চিকিৎসকরাও এই ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন। সেখানে এই ওষুধ পাওয়া না গেলে কিছুটা হলেও রোগীরা বিপাকে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন বিক্রেতারা। গড়িয়াহাটের একটি ওষুধ প্রস্তুতকারক ও বিপণন সংস্থা জানান, প্রায় দু’‌ সপ্তাহ হয়ে গেল তাদের দোকানে ক্যালপল ৬৫০ ওষুধ নেই। সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ বলে একই কথা জানাল বাগুইআটির আরও একটি সংস্থা। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি ডাঃ নির্মল মাজি জানালেন, ‘‌জ্বর হলে আমরা সাধারণত প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খেতে বলি। ক্যালপল ৬৫০ তারই মধ্যে একটি। কাজেই এই ওষুধ পাওয়া না গেলে বিশেষ কিছু সমস্যা তৈরি হওয়ার কথা নয়। কারণ বিভিন্ন ধরণের প্যারাসিটামল বাজারে আছে।’‌ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ অপূর্ব মুখার্জি জানিয়েছেন, ‘‌ক্যালপল ৬৫০ পাওয়া যাচ্ছে না এরকম খবর এখনও শুনিনি। যদিও, এই ওষুধ খুব পরিচিত। তবে, না পাওয়া গেলেও বিশেষ অসুবিধে নেই। কারণ আরও নানান রকম প্যারাসিটামল ওষুধ পাওয়া যায় এবং সেগুলিরও কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।’‌ শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অপূর্ব ঘোষ বলেন, এটি জ্বরের প্রয়োজনীয় ওষুধ ঠিকই তবে এখন না পাওয়া গেলেও খুব একটা সমস্যা হওয়ার নয় কারণ প্যারাসিটামল জাতের অসংখ্য ওষুধ বাজারে পাওয়া যায়।   

জনপ্রিয়

Back To Top