নীলাঞ্জনা সান্যাল: ব্যাগের ওজনের ভারে ক্লান্ত শৈশব। নিত্যদিন ভারী ব্যাগের বোঝা নিয়ে স্কুল যাতায়াতের ফলে অনেকেরই পিঠে যন্ত্রণা হয়। ঝুলে পড়ে কাঁধ। রাজ্যের স্কুলপড়ুয়াদের এই ‘‌যন্ত্রণা’‌র হাত থেকে রেহাই দিতে প্রতিটি স্কুলের প্রত্যেক পড়ুয়ার জন্য আলাদা ‘‌ক্যাবিনেট’‌ তৈরি করা হচ্ছে। সরকারি স্কুলগুলিতে ইতিমধ্যেই এই ক্যাবিনেট তৈরি হয়ে চলে গেছে। স্কুলশিক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, প্রথম পর্যায়ে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক এবং পরে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্যও শ্রেণিকক্ষ বা তার বাইরে এই ক্যাবিনেট তৈরি করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি বলেন, ‘‌প্রতিটি স্কুলে ব্যাগ রাখার জায়গা করা হচ্ছে। স্কুলের ব্যাগ বা বইয়ের ওজন নিয়ে আমাদের নির্দিষ্ট ভাবনা–‌চিন্তা রয়েছে। কিন্তু কাজটি করতে অর্থের প্রয়োজন। কেন্দ্রের কাছ থেকে সাহায্য পেলে ভাল হত। কিন্তু ওরা তো কোনও টাকাই দিচ্ছে না। বিভিন্ন প্রকল্পে আমরা যা পাই, তার ৩০ শতাংশ টাকাও কেন্দ্র দিচ্ছে না। তা সত্ত্বেও আমরা চেষ্টা করছি। স্কুলকে পড়ুয়াদের কাছে আকর্ষক করে তোলার চেষ্টাও হচ্ছে।’‌ 
দপ্তর সূত্রে খবর, ক্যাবিনেট তৈরির এই পরিকল্পনা বছর দু‌য়েক আগের। ডিআই–দের কাছে নির্দেশও পাঠানো হয়েছিল। যে–‌সব স্কুলে শ্রেণিকক্ষ বড়, সেখানে ক্যাবিনেট থাকছে শ্রেণিকক্ষেই। প্রতিটি ক্যাবিনেটে সেই নির্দিষ্ট শ্রেণির পড়ুয়ার নাম লিখে তার হাতেই চাবি দেওয়া হচ্ছে। বেশ কিছু সরকারি স্কুলের প্রাথমিকের পড়ুয়ারা হাতে চাবিও পেয়ে গেছে। এখন প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বই স্কুলেই থাকে। অন্য শ্রেণির পড়ুয়ারা এই ক্যাবিনেটে যে–‌বই বা খাতাগুলি রোজ লাগে না, সেগুলি রাখতে পারবে। রোজ জলের বোতল বাড়ি থেকে বয়ে না নিয়ে গিয়ে, রেখে আসতে পারবে তা–ও। 
এ নিয়ে সিলেবাস কমিটির চেয়ারম্যান অভীক মজুমদার বলেন, ‘‌আমাদের স্কুলের বইয়ের ওজন বেশি নয়। ব্যাগের ওজনও কম। তা সত্ত্বেও পড়ুয়ারা যে–‌সব খাতা–‌বই রোজ বাড়িতে না নিয়ে গেলেও চলে, সেগুলি এই ক্যাবিনেটে রাখতে পারবে। সরকারি স্কুলে ইতিমধ্যেই ক্যাবিনেট দেওয়া হয়ে গেছে। বাকি স্কুলেও দেওয়া হবে। অনেক বেসরকারি স্কুলেও এই সুবিধে নেই। সেদিক দিয়ে সরকারের এই উদ্যোগ অভিনব।’‌ সরকারি স্কুলশিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৌগত বসু বলেন, ‘‌উদ্যোগটি ভাল। কিন্তু কার্যকর করতে শিখন–‌শিক্ষণ পদ্ধতির বদল প্রয়োজন। কারণ আমাদের এই পদ্ধতি এখনও মুখস্থ–‌নির্ভর। ফলে বাড়িতে গিয়ে পড়ার অভ্যেস পড়ুয়াদের মধ্যে রয়ে গেছে। যে উদ্দেশ্যে ক্যাবিনেট দেওয়া হয়েছে, সেই উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে না। পড়ুয়ারা ব্যবহার করছে খেলার ছলে।’‌ উল্লেখ্য, পিঠের ভার বেশি হলে পড়ুয়াদের মেরুদণ্ডে চাপ পড়ে। ২০০৬ সালের কেন্দ্রীয় নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পড়ুয়াদের ব্যাগের ওজন তাদের শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি হবে না। বছর দু‌য়েক আগে কোন্‌ শ্রেণির পড়ুয়ার স্কুলব্যাগের ওজন কত হবে, তাও বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্র। দপ্তর সূত্রে খবর, রাজ্যে ২০১৪ সাল থেকেই স্কুলব্যাগ–‌বিধি চালু রয়েছে। ‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top