আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ভুল বোঝানো হচ্ছে। ‌সিবিএসই–র পাঠ্যক্রম থেকে অধ্যায় বাদ দেওয়া নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়েছে চারদিকে। শিক্ষাকে রাজনীতির থেকে দূরে রাখুন। আর রাজনীতিকে শিক্ষিত করে তুলুন। কটাক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মন্ত্রী ডঃ রমেশ পোখরিয়াল নিশাঙ্কের। প্রসঙ্গ, সেই সিবিএসই–র পাঠ্যক্রম থেকে গণতান্ত্রিক অধিকার, যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো, ধর্মনিরপেক্ষতার মতো অধ্যায় বাদ দেওয়া। 
মঙ্গলবার সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (‌সিবিএসই)‌ ঘোষণা করে, ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষে পড়ুয়াদের ওপর থেকে পাঠ্যক্রমের ভার অনেকটাই লাঘব করা হবে। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের পাঠ্যবিষয় ৩০ শতাংশ কমে যাবে। পাঠ্যক্রম থেকে গণতান্ত্রিক অধিকার, যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো এবং ধর্মনিরপেক্ষতার মতো বিষয় বাদ দেওয়ার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে কড়া সমালোচনা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, শশী থারুর, আরও অনেকে। যেই পরবর্তী প্রজন্ম নির্বাচনে বোতাম টিপবে, তারা যদি এসমস্ত বিষয় সম্পর্কে অবগতই না হয়, তবে তো মুশকিল। এই প্রশ্নটি তুলে কংগ্রেসের শশী থারুর টুইট করেছিলেন, ‘প্রত্যেকেরই উচিত এই বিষয়ে প্রশ্ন করা। কেন এই অধ্যায়গুলোকেই বাদ দেওয়া হল পাঠ্যক্রম থেকে? ‌তারা কি মনে করছেন, গণতন্ত্র, বৈচিত্র্য, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং এই জাতীয় বিষয় পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অপ্রয়োজনীয়?‌‌’‌ 
সমালোচনা শুরু হতেই উঠে বসলেন মানবসম্পদ উন্নয়নের মন্ত্রী পোখরিয়াল। তিনি টুইট করলেন, ‘‌সিবিএসই–র থেকে কী কী বিষয় কতদিনের জন্য বাদ দেওয়া হচ্ছে, সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য না নিয়েই মানুষ মন্তব্য করেছেন। গণতন্ত্র, বৈচিত্র্য, ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যআদি বিষয় বাদ দেওয়ার ঘটনাকে রাজনৈতিক স্তরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বলা হয়নি যে সারাজীবনের জন্য এই বিষয়গুলিকে বাদ দেও্যা হচ্ছে। কেবলমাত্র কোভিড পরিস্থিতিকে মাথায় রেখেই ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
বুধবার সিবিএসই জানিয়েছে, ‘‌পাঠ্যক্রম থেকে যে বিষয়গুলিকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে মিডিয়া মানুষের মনে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করছে। বাদ দেওয়া প্রত্যেকটি বিষয়ই এনসিইআরটি ( ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এজুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেইনিং ‌)–এর বিকল্প অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বোর্ডের সমস্ত অনুমোদিত স্কুলগুলিতে ইতিমধ্যেই তা কার্যকর করা হয়েছে।’‌
‌একাদশ শ্রেণীর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ্যক্রম থেকে বাদ যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো, নাগরিকত্ব, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা। ‘‌আঞ্চলিক সরকার’‌ নামাঙ্কিত পরিচ্ছেদ থেকে দু’‌টি বিভাগ বাদ যাচ্ছে। ‘‌কেন আঞ্চলিক সরকারের প্রয়োজন?‌’‌ এবং ‘‌ভারতে আঞ্চলিক সরকারের বৃদ্ধি’‌। 
দ্বাদশ শ্রেণীর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ্যক্রম থেকে বাদ যাচ্ছে ‘‌আধুনিক পৃথিবীতে নিরাপত্তা’‌, ‘‌পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ’‌, ‘‌ভারতে সামাজিক এবং নব্য সামাজিক আন্দোলন’‌, ‘‌আঞ্চলিক আকাঙ্ক্ষা’‌। অর্থনীতি পাঠ্যক্রম থেকে বাদ পড়ছে ‘‌ভারতের আর্থিক উন্নয়নের প্রকৃতি বদল’‌, ‘‌পরিকল্পনা কমিশন এবং পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা’‌। ভারতের বিদেশনীতির পাঠ্যক্রমেও পড়েছে কোপ। পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের পরিচ্ছেদ আর পড়তে হবে না পড়ুয়াদের। 
নবম শ্রেণীর রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আর পড়ানো হবে না গণতান্ত্রিক অধিকার, সংবিধানের প্রকৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিচ্ছেদ। দশম শ্রেণীর পড়ুয়াদের আর পড়তে হবে না ‘‌গণতন্ত্রের চ্যালেঞ্জ’‌, ‘‌জাতি, বর্ণ ও লিঙ্গ’‌, ‘‌গণতন্ত্র এবং বৈচিত্র‌্য’‌–র মতো পরিচ্ছেদ। 

জনপ্রিয়

Back To Top