আজকাল ওয়েবডেস্ক: সুশান্ত সময় কাটাতে চেয়েছিলেন বলিউডের এক নায়িকার সঙ্গে। ২০১৮ সালের হাতে লেখা একটি নোট থেকে উদ্ধার হল সেই তথ্য। তিনি রিয়া চক্রবর্তী নন, বা সারা আলি খানও নন। তিনি কৃতি স্যানন। ‘‌রাবতা’ ছবির সহ অভিনেতা।‌ 
‘ইন্ডিয়া টুডে’র একটি রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালের ২৭ এপ্রিল একটি ‘ডেইলি চার্ট’ তৈরি করেছিলেন সুশান্ত। কী কী ছিল তাতে?‌ 
১ রাত আড়াইটের সময় ঘুম থেকে উঠবেন।
২ ‘সুপারম্যান’ চা খাবেন।
৩ বেদমন্ত্র জপ করে স্নান করবেন।
৪ স্মোকিং ছেড়ে দেবেন।
৫ দিদি প্রিয়াঙ্কা ও বন্ধু মহেশের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।
৬ আড়াই লিটার জল খাবেন।
৭ কেদারনাথের স্ক্রিপ্ট পড়বেন। ইত্যাদি ইত্যাদি আরও কত কী!‌ কিন্তু সেই পাতারই আট নম্বর পয়েন্টটায় সকলের চোখ আটকিয়েছে। লেখা ‘‌কৃতির সঙ্গে সময় কাটাব।’‌ প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি নেহাতই বন্ধু ছিলেন না তাঁরা?‌ নয়তো আলাদা করে তাঁর ‘‌টু ডু’ তালিকায় এই কথাটি লেখা থাকবে কেন!‌ কৃতির সঙ্গে কি তাহলে বন্ধুত্বের থেকেও বেশি কোনও সম্পর্ক ছিল সুশান্তের? 
‘রাবতা’–এর শুট চলাকালীনই তঁাদের দু’জনকে নিয়ে অনেক জলঘোলা হয়েছিল।  মনে করা হয়েছিল, অঙ্কিতাকে ছেড়ে দেওয়ার কারণ কি তবে কৃতিই?‌ কিন্তু দু’‌জনেই সেকথা অস্বীকার করেছিলেন।

তারপরে রিয়া চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর ছবি দেখার পর থেকে কৃতির কথা ভুলে যায় মানুষ। ‘‌রাবতা’‌ মুক্তি পেয়েছিল ২০১৭ সালে। এবং এই নোটটি ২০১৮ সালের। তার মাঝের সময়ে তাহলে কোনও গল্প থাকতেই পারে বলে এখন মনে করছেন অনেকে। সুশান্তের সৎকারে খুব বেশি মানুষের যাওয়ার অনুমতি ছিল না। করোনা মহামারীতে তওখন লকডাআউন চলছিল। কিন্তু কৃতিকে সেখানে দেখা গিয়েছিল। তারপরে তিনি যেই পোস্টটি করেছিলেন সেটি পড়ে চোখে জল চলে এসেছিল নেটিজেনদের। ‘সুশ, আমি জানতাম তোমার বুদ্ধিদীপ্ত মনটাই তোমার সবথেকে প্রিয় বন্ধু, আবার সবচেয়ে বড় শত্রুও বটে... কিন্তু আমার যখনই একথা মনে হচ্ছে যে এরকম কিছু সময় তুমি কাটিয়েছ যেখানে বাঁচার থেকে মরে যাওয়াটাকেই ভাল বলে মনে হয়েছে, তখনই আমি ভেঙে পড়ছি। এখন মনে হচ্ছে কেউ যদি তোমায় শান্তি দিতে পারত... তোমাকে যারা ভালবাসত, তাদের যদি তুমি দূরে না সরিয়ে দিতে... তাহলে হয়তো আমি তোমার ভেতরের কষ্টগুলোকে সারিয়ে দিতে পারতাম। কত কিছুই না মনে হচ্ছে এখন। আমার বাকি আধখানা হৃদয় নিয়ে তুমি চলে গেলে। আর যেই অর্ধেকটা রয়ে গিয়েছে, তা তোমাকে চিরকাল জীবন্ত রাখবে।’ লেখাটায় আফশোষ ছিল অনেকখানি।
এই তালিকার সঙ্গে পাওয়া গিয়েছে সুশান্তের হাতে লেখা আরও বেশ কয়েকটি পাতা। কোনওটায় হিজিবিজির কেটে অনেক কথা বলতে চেয়েছিলেন তিনি। কোনওটায় আবার বিখ্যাত কবি ও দার্শনিক কবির ও রুমির লেখা কিছু উদ্ধৃতি। রাজনীতি, বিজ্ঞান, আধ্যাত্মিক জগৎ সব নিয়েই তিনি ভাবতেন। এবং সেই কথাগুলে লিখে রাখতেন। হিজিবিজি কাটতেন। ঠিক যেভাবে তাঁর মনের মধ্যে সবকিছু একসঙ্গে চলাফেরা করত। 

জনপ্রিয়

Back To Top