অলোকপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়: অভিনয় জীবনের ৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে ঊষা গাঙ্গুলির, এই ২০২০তে। তাঁর তৈরি নাট্যদল ‘‌রঙ্গকর্মী’‌ও ৪৪ বছর পেরিয়ে গেল। সেই উপলক্ষে আয়োজন করেছেন নাট্যউৎসব, যেখানে তাঁর পরিচালনায় যেমন নাটক হচ্ছে, তিনি অভিনয়ও করছেন অন্য নাটকে, আমন্ত্রিত হয়ে এসেছে কয়েকটি নাট্যদল। উৎসব চলছে বিনোদিনী কেয়া মঞ্চে।
বছর তিনেক হল আনোয়ার শাহ রোডে তৈরি করেছেন স্টুডিও থিয়েটার। নাম দিয়েছেন ‘‌বিনোদিনী কেয়া মঞ্চ’‌। ইন্টিমেট স্পেস। অন্তরঙ্গ আয়তন বলে নাটকের উপস্থাপনায় যে কোনও সমঝোতা নেই, সেটা স্পষ্ট হল তাঁরই পরিচালনায় ‘‌আত্মজ’‌র অভিনয় দেখে। সেখানে অন্তত ২০ জন শিল্পী অভিনয়ের দক্ষতা এবং সূক্ষ্মতা নিয়ে দর্শকদের কাঁধে প্রায় নিঃশ্বাস ফেলছেন। দেওয়াল ঘেঁষে বড়জোর একশ জন দর্শক বসতে পারবেন। যখন ‘‌আত্মজ’‌ অভিনীত হচ্ছে, তখন পিন পড়ার শব্দও শোনা যাবে, এতটাই মগ্ন হয়ে নাটক দেখছেন দর্শকরা।
আজ থেকে ঠিক ৫০ বছর আগে, ১৯৭০ সালে ‘‌মৃচ্ছকটিকম’‌ হিন্দি নাটকে বসন্তসেনা-‌র চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ঊষা গাঙ্গুলি। তখন তিনি নৃত্যশিল্পী। এবং ঊষা পাণ্ডে থেকে বৈবাহিক সূত্রে হয়ে গেছেন ঊষা গাঙ্গুলি। সেই তাঁর প্রথম থিয়েটারে অভিনয়। তাঁর অভিনয় জীবনের ৫০ বছরে আমরা তাঁর মুখোমুখি। যেদিন তাঁর সঙ্গে আমাদের কথা হয়, তার দু’‌দিন পরেই ১৬ জানুয়ারি ছিল তাঁর নিজের নাট্যদল ‘‌রঙ্গকর্মী’‌র ৪৪ বছরের জন্মদিন।
• অভিনয় জীবনের ৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে ২০২০তে। শুরুতেই আপনাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
•• অনেক ধন্যবাদ। সত্যিই ৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে এবার। সেই ১৯৭০ সালে আমি প্রথম থিয়েটারে অভিনয় করি। সঙ্গীত কলামন্দিরের ‘‌মৃচ্ছকটিকম’‌ নাটকে বসন্তসেনা। সেই নাটকের সেট করেছিলেন সুরেশ দত্ত, লাইট করেছিলেন তাপস সেন।
• তার আগে কখনও নাটক করেননি?‌
•• না। আমি তো নাচতাম।
• প্রথম নাটকে যখন অভিনয় করলেন, ততদিনে আপনি ঊষা পাণ্ডে থেকে ঊষা গাঙ্গুলি হয়ে গেছেন?‌
•• হ্যাঁ, ৬৮তে আমার বিয়ে।
• তার মানে কমলেন্দু গাঙ্গুলি আপনাকে বিয়ে করার পর আপনি গাঙ্গুলি বা বাঙালি হলেন?‌
•• আমি ছোট থেকেই বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত। কিন্তু বাঙালি না হলে আমি নাটক করতে পারতাম না। আমার বাবা থিয়েটার করতে দিতে চাইতেন না।
• উনি কি রক্ষণশীল ছিলেন?‌
•• রক্ষণশীল নন। আমাকে তো নাচ করতে উৎসাহ দিয়েছেন। কিন্তু থিয়েটার করা নিয়ে আপত্তি ছিল।
• কমলেন্দুবাবু উৎসাহ দিয়েছেন নাটক করার ক্ষেত্রে?‌
•• শুধু উৎসাহ নয়, আমাদের দল ‘‌রঙ্গকর্মী’‌র প্রতিষ্ঠাতা সদস্যও ছিলেন উনি। ৭৬-‌এর ১৬ জানুয়ারি আমাদের ‘‌রঙ্গকর্মী’‌র জন্ম। সেজন্যই এখন সপ্তাহ জুড়ে নাট্যউৎসব চলছে আমাদের ‘‌বিনোদিনী কেয়া মঞ্চে’‌। বছর তিনেক হল আমরা এটা তৈরি করেছি।
• ‘‌বিনোদিনী কেয়া মঞ্চ’ তো স্টুডিও থিয়েটার। ছোট জায়গা। অন্তরঙ্গ পরিসর। ফলে দর্শক সংখ্যা কম। কলকাতায় প্রসেনিয়াম মঞ্চ বা বড় প্রেক্ষাগৃহে বহু সময় বেশি দর্শক থাকেন না বলেই কি স্টুডিও থিয়েটারে নাটক করছেন?‌
•• না, না, না। আমি যেভাবে প্রথম থেকে ‘‌মহাভোজ’‌, ‘‌লোক কথা’‌, ‘‌হোলি’‌ ইত্যাদি নাটক করেছি আবরণ ছাড়া, সেট ছাড়া, মঞ্চ ছাড়া, তাতে ‘‌স্পেস’‌টা কোনও বাধা হয়নি কখনও। আমি রাস্তায় ঘাটে, গলি গঞ্জে আমার নাটকের শো করেছি। স্টুডিওতে শো করেছি। বড় প্রেক্ষাগৃহে শো করেছি। আকাদেমি বা রবীন্দ্রসদনে শো করেছি। এখনও করি। আমি গ্যারেজেও শো করেছি। হাওড়ায় একটা বাড়ির ছাদে বিভিন্ন পরিবারের ২৩৬ জন মানুষের সামনে শো করেছি। সবাই পরিবার নিয়ে আমাদের নাটক দেখেছেন। এই ভাবনাটা আমার মাথায় সব সময় ছিল যে দর্শকের সঙ্গে একটা ক্লোজ-‌কমিউনিকেশন হবে। ঘনিষ্ঠ সংযোগ। আমাকে যে স্পেস দেবে, আমি তার উপযোগী করে আমার থিয়েটারকে দর্শকের সামনে নিয়ে যাব। একবার এক লক্ষ লোকের সামনে ময়দানে একটা সমাবেশে আমরা ব্রেখট আর গোর্কির ‘‌মা’ করেছিলাম।
• সেটা কি বামফ্রন্টের সমাবেশ?‌
•• হ্যাঁ। ৮০-‌র দশকে। ওখানে আট ফুট উঁচুতে স্টেজ করা হয়েছিল।আমরা সেখানে নাটক করেছি। নানারকমের স্পেস-‌এ নাটক করতে আমার ভাল লাগে। যেখানে সেখানে আমরা নাটক করতে পারি। তার জন্যে নাটকের উপস্থাপনায় কিন্তু কোনও খামতি থাকে না। কলেজস্ট্রিট কফিহাউসের ভেতরেও আমরা ‘‌বেটি আই’‌ আর ‘‌মাইয়ত’‌ করেছি। কফি হাউসের টেবিল চেয়ারগুলো একটু সরিয়ে আমরা নাটক করেছি ওখানে।
• তার মানে, থিয়েটারটা যাতে মঞ্চ বা উপকরণের অভাবে থমকে না যায়, সেটাই আপনার বরাবরের ভাবনা ছিল?‌
•• হ্যাঁ, আমি নাটকটা সব জায়গায় পৌঁছে দিতে চাই। স্পেস কোনও সমস্যা হয়নি কখনও। যেখানে যে স্পেস পাব, সেখানে করব। রবীন্দ্রসদন, আকাদেমি, কিংবা গিরিশ মঞ্চে আমি ‘‌চণ্ডালিকা’‌, ‘‌হাম মুখতারা’‌, ‘‌কাশীনামা’‌—আমার সব নাটক করেছি। করবও। স্পেস আমার কাছে কোনও বাধা নয়। দর্শকের সঙ্গে কমিউনিকেট করা, তাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনই আমার মূল উদ্দেশ্য। আমি লন্ডনে এক মাস নয় দিন ছিলাম। ওখানে শেক্সপীয়রের নাটকও স্টুডিও থিয়েটারে অভিনীত হচ্ছে।
• আপনি কি এখন বড় মঞ্চ বা প্রসেনিয়ামকে অগ্রাহ্য করতে চাইছেন?‌
•• তা নয়। বড় মঞ্চ তৈরির ক্ষমতা আমার নেই। প্রথম কথা, থিয়েটারের জন্যে ‘‌স্পেস’ কোনও প্রতিবন্ধক নয়। দ্বিতীয়ত, থিয়েটার‌‌ সবসময় পরীক্ষামূলক হবে। না হলে, থিয়েটার তো একটা জায়গায় আটকে থাকবে। তাই কলকাতার বাইরের যে সব দল পরীক্ষানূলক নাটক করছে, তাদের জন্যে আমাদের ‘‌বিনোদিনী কেয়া মঞ্চ’‌র দরজা খোলা। দুই অবহেলিত, প্রতারিত অনন্য অভিনেত্রীর নামে এই স্টুডিও থিয়েটার করেছি আমরা। সেখানে পরীক্ষামূলক নাটক বা নাট্য দল যেন অবহেলিত না হয়, সেটাও আমাদের লক্ষ্য।
• কলকাতায় থিয়েটারে কি পরীক্ষামূলক কাজ হচ্ছে না বলে আপনি মনে করেন?‌
•• সেভাবে বলতে চাই না। তবে, পুরনো ধারাকেই বয়ে নিয়ে যাওয়াটাই শুধু থিয়েটারের কাজ নয়। কলকাতায় নিশ্চয়ই কাজ হচ্ছে। কিন্তু কলকাতার বাইরে বহু দল আছে যারা নতুন ভাবে থিয়েটারকে দেখছে, যারা প্রয়োগধর্মী এক্সপেরিমেন্ট করছে। হাওড়ায় কিংবা গোবরডাঙায় কিংবা শহর থেকে দূরে কোনও জায়গায় পরীক্ষামূলক ভাল কাজ হচ্ছে, যা আমাদের ‘‌বিনোদিনী কেয়া মঞ্চে’‌ অভিনীত হচ্ছে।
• পরীক্ষা-‌নিরীক্ষাকেই কি আপনি সবচেয়ে গুরুত্ব দেন থিয়েটারে?‌
•• পরীক্ষা-‌নিরীক্ষা না থাকলে থিয়েটার এগোবে কী করে?‌ তাহলে তো থিয়েটার স্থবির হয়ে গেল।
• আপনার নাটকে সব সময়েই একটা বার্তা থাকে, সামাজিক বা রাজনৈতিক। আপনি কি মনে করেন, নাটকের মধ্যে এই সচেতনতা থাকাটা বাধ্যতামূলক?‌
•• নাটক করছি কেন?‌ আমার বা আমাদের তো একটা দায়বদ্ধতা আছে। সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা আছে। একটা দর্শন আছে। সেটাই তো মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। কিন্তু থিয়েটারকে থিয়েটার হতে হবে, নাটককে নাটক হতে হবে। নাটক তো বক্তৃতা নয়। সেখানে শিল্প থাকবে, দক্ষতা থাকবে। এবং সবটাই মানুষের সঙ্গে মিশে।
• মানুষের সঙ্গে মেশার জন্যেই কি ইন্টিমেট থিয়েটার বা স্টুডিও থিয়েটারের ভাবনা?‌
•• স্টুডিও থিয়েটারে এখানে অভিনয় করতে করতে অভিনেতা, অভিনেত্রীরা তো দর্শকদের ধরা-‌ছোঁয়ার মধ্যে থাকেন। ফলে, অভিনয়ের মধ্যে স্বাভাবিকতা থাকতে হবে অনেক বেশি, যেখানে অতিরেক নেই। এটা সহজিয়া পদ্ধতি, কিন্তু, দক্ষতায় বা চর্চায় কোনও ফাঁক নেই। থাকলে, সেই ফাঁকটা দর্শক অতি সহজেই ধরে ফেলবেন। কারণ, এখানে মঞ্চের বা আলোর মায়া নেই দোষ-‌ত্রুটি ঢেকে রাখার জন্যে।
• ‘‌রঙ্গকর্মী’‌ তৈরি করলেন কেন?‌ নিজের মতো করে নাটক করতে পারছিলেন না বলে?‌
•• অবশ্যই। নিজের মতো করে নাটক করব বলেই তো ‘‌রঙ্গকর্মী’‌র শুরু। প্রথমে এম কে রায়না, তৃপ্তি মিত্র, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তকে আমন্ত্রণ করে এনে আমাদের নাটকের পরিচালনা করিয়েছি। কিন্তু, আমন্ত্রিত পরিচালক নিয়ে তো দীর্ঘদিন দল চালানো সম্ভব নয়।
• ‘‌রঙ্গকর্মী’‌ শুরুর ২৫ বছর বাদে আপনি প্রথম বাংলা নাটক করেন ‘‌মুক্তি’‌। নিজেকে বাঙালি বলেন, অথচ, বাংলা নাটক করতে দেরি হল ২৫ বছর।
•• নিজেকে বাঙালি বলি না শুধু, আমি বাঙালি-‌ই। কিন্তু বাংলা নাটক করতে গেলে যেভাবে সেই ভাষাকে আত্মস্থ করতে হয়, ততটা হয়নি বলে মনে হত। আমি তো উৎপল দত্তের ‘‌মানুষের অধিকারে’‌ বা কেয়া চক্রবর্তীর নাটক দেখে দেখে বাংলা নাটক শিখেছি। কেয়া চক্রবর্তীর সঙ্গে 
আমার খুব বন্ধুত্বও ছিল। কিন্তু অনেকেই চাইছিলেন আমি বাংলা নাটক করি। মহাশ্বেতা দেবীর ‘‌মুক্তি’‌ গল্পটা আমাকে ভেতর থেকে টেনেছিল। এবং ‘‌মুক্তি’ তো বাংলার নাটক, বাঙালিদের নাটক।
• ‘‌মুক্তি’‌ হিন্দিতে করার কথা কি ভেবেছিলেন?‌
•• না। ‘‌মুক্তি’‌ হিন্দিতে করা যায় না। আমি রবীন্দ্রনাথের নাটক অনুবাদ করেছি, ‘‌নাথবতী অনাথবৎ’‌ অনুবাদ করেছি, ‘‌ঢোঁড়াই‌ চরিত মানস’‌ উপন্যাসটাও অনুবাদ করেছি, কিন্তু সারা রাত জেগেও জীবনানন্দের ‘‌ক্যাম্পে’‌ কবিতাটা অনুবাদ করতে পারিনি। ‘‌ঘাই হরিনী’‌র কী অনুবাদ করব?‌ সব কিছুর অনুবাদ হয় না। ‘‌মুক্তি’‌ নাটকেরও হয় না। 
আমেদ মিঁয়ার আম চুরির কথা বাঙাল ভাষায় না বললে, এই নাটকের অভিঘাত গভীর হত না। ‘‌মুক্তি’‌ বাংলার নাটক। ‘‌দুই বাংলা’র নয়। কারণ, বাংলার বিভাজন আমি ভেতর থেকে মেনে নিতে পারি না। এপার বাংলার সঙ্গে ওপার বাংলার কোনও তফাত আমি দেখি না। দেখতে পাই না।
• ‘‌মুক্তি’‌র পরে তো আপনি অনেক বাংলা নাটক করেছেন।
•• হ্যাঁ, এখন ভাষার বিভেদ আর আমার নেই। দুটোই আমার ভাষা। আমি হিন্দিতে ‘‌চণ্ডালিকা’‌ করি তো বাংলায় ‘‌মানসী’‌।
• আপনি হিন্দি নাটক করলেও তো সেখানে বাঙালি দর্শকের সংখ্যাই বেশি?‌
•• হ্যাঁ, আমার নাটকের ৯০ শতাংশ দর্শক বাঙালি।
• আপনি তো ‘‌মৃত্যুঘর’‌ নাটকে অভিনয় করছেন এখন?‌
•• হ্যাঁ। ইলা মিত্রর জীবন নিয়ে এই নাটক পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশের মুকুল আহমেদ। আমি ইলা মিত্রর ভূমিকায় অভিনয় করছি। চট্টগ্রামের সঙ্গে ইলাদির নিবিড় যোগ। এই নাটক নিয়ে ফেব্রুয়ারিতে আমরা বাংলাদেশ যাচ্ছি।
• আপনার‌‌ পরিচালনায় ‘‌আত্মজ’‌ নাটকও তো সমকালীন সময়ের বিষয়। এবং প্রতিবাদী নাটক।
•• হ্যঁা, এই সময়ের বিষয়। অবশ্যই এ নাটকে প্রতিবাদ আছে।
• বারবার খুব সচেতন হয়েই আপনি নাটকের বিষয় বাছেন।
•• সচেতনতা ছাড়া নাটক করে তো কোনও লাভ নেই। সমাজ ও রাজনৈতিক সচেতনতা ছাড়া নাটক করা আমার কাছে অর্থহীন। এই সচেতনতার বার্তাই চাই মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এবং তাদের ভাবনার সঙ্গে লেনদেন ঘটাতে।
• আপনাদের ‘‌রঙ্গকর্মী’‌-‌তে এত সদস্য, এত অভিনেতা, অভিনেত্রী আছেন। এই থিয়েটারকে কি প্রফেশনাল থিয়েটার বলা যাবে?‌
•• অবশ্যই প্রফেশনাল। রিহার্সাল, নিয়মানুবর্তিতা এগুলো তো আছেই। সর্বোপরি, আমি মনে করি, প্রফেশনাল মানে সার্বিকভাবে শিল্পের দক্ষতা, অভিনয়ের দক্ষতা, প্রযোজনার দক্ষতা। এখন তো স্যালারি গ্রান্ট পান বহু দল। সেটা তো তাদের সাহায্যই করে। কিন্তু গ্রান্ট পাওযার জন্যে তো থিয়েটার নয়। থিয়েটার কেন করছি, তার একটা উদ্দেশ্য থাকে। সেটা না থাকলে থিয়েটার করে লাভ নেই। সেজন্যে, হঠাৎ করে হাসির নাটক, কমেডি নাটক আমি বাছতে পারব না। জনমনোরঞ্জন করাই থিয়েটারের উদ্দেশ্য নয়।
• কিন্তু থিয়েটার করে রুটি-‌রুজির জোগাড় করা কি সম্ভব নয়?‌
•• দেখুন, থিয়েটার আমরা করি প্রাণের তাগিদে। আমি তো কলেজে পড়িয়ে রুটি-‌রুজির জোগাড় করেছি। কিন্তু একদিনও থিয়েটার থেকে বিচ্যুত হইনি।
• তার মানে, থিয়েটার প্রফেশনাল হবে দক্ষতায়, কিন্তু কমার্শিয়াল হবে না?‌
•• থিয়েটারকে প্রফেশনাল হতেই হবে। কিন্তু থিয়েটারের পক্ষে কমার্শিয়াল হওয়া সম্ভব নয়। এখানে পাবলিক থিয়েটার তো কমার্শিয়াল থিয়েটার ছিল, যেটা মৃত্যুবরণ করেছে বহু বছর আগে। আর, কমার্স মানে তো বাজার। থিয়েটারকে বাজার যদি গ্রাস করে, তাহলে থিয়েটারের কী রইল?‌ থিয়েটারে ট্রেনিং দরকার, শিক্ষা দরকার, ডিসিপ্লিন দরকার, প্রযোজনার সার্বিক দক্ষতা দরকার—সেটাই প্রফেশনালিজম। কিন্তু থিয়েটার কখনও কমার্শিয়াল হতে পারে না। তাহলে থিয়েটারের মৃত্যু হবে। এ নিয়ে আমার কোনও দ্বিধা নেই।

কথা বলতে বলতে ‘‌মৃত্যুঘর’‌-‌এর নায়িকা যেন মৃত্যু নয়, থিয়েটারের আরও জীবনের স্বপ্নে ঢুকে পড়েন। বিশ্বাস হয়, এই স্বপ্ন বহুদিন বেঁচে থাকবে।

ছবি:‌ বিপ্লব মৈত্র ‌ ‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top