আজকালের প্রতিবেদন: ইনস্টাগ্রাম লাইভে মুখোমুখি ভারতের দুই অধিনায়ক। ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন বিরাট কোহলি এবং ফুটবল দলের ক্যাপ্টেন সুনীল ছেত্রি। অজানা গল্পের বর্মিবাক্স খুলল আড্ডায়। ছোটবেলায় দুষ্টু ছিলেন দু’‌জনেই। কিন্তু ছেলেমানুষীর জেরে আরেকটু হলে ছাদ থেকে পড়ে যেতে পারতেন বিরাট, হতে পারত জীবনসংশয়!‌ 
কী ঘটেছিল?‌ বিরাট শুনিয়েছেন গল্প, ‘দিনটা ছিল ১৩ আগস্ট। ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতা চলছিল আমাদের মহল্লায়। সাধারণত আমাকে লাটাই হাতে দাঁড় করিয়ে দিত বড়রা। না হলে ঘুড়ি কেটে পড়লে সেটা ছুটে গিয়ে নিয়ে আসতে হত। দিল্লিতে কলোনির বাড়িগুলোর বৈশিষ্ট্য ছিল, এক বাড়ির সঙ্গে অন্য বাড়ির ছাদ জোড়া থাকত। তিন–চারটে বাড়ির ছাদ জুড়ে থাকার পর কিছুটা খালি জায়গা। আবার শুরু হত বাড়ি। মানে চাইলে একসঙ্গে তিন–চারটে বাড়ির ছাদ টপকে আপনি ছুটতে পারেন। সেদিন ঘুড়ি কেটে পড়ছে দেখে আমি ছুটতে শুরু করি। চোখ ঘুড়ির দিকে। মাথায় ঘুরছে ওটা নিতেই হবে। আমি তো ছুটছি। কিন্তু কখন যে ছাদের কিনারায় পৌঁছে গিয়েছি খেয়াল করিনি। খেয়াল করেছিল আমার বন্ধু পীযূষ। ও–ই আমাকে বাঁচিয়েছিল সেদিন। ও না থাকলে ছাদ থেকে সোজা মাটিতে পড়ে যেতাম। তারপর যে কী হত.‌.‌.‌।’‌‌ 
লাইভ সেশনে যখন এমন রোমহর্ষক গল্প চলছে তাঁর মধ্যেই ছেলেকে ফোন করেন মা সরোজ কোহলি। ‘‌লাইভ সেশনে আছি, তোমার সঙ্গে পরে কথা বলছি’‌, বলে ফোন রাখার পর বিরাট বলেন, ‘‌মায়ের কাছে ছোটবেলায় একবার খুব মার খেয়েছিলাম। কেন জানো?‌ বিয়েবাড়িতে দেখতাম বড়রা টাকা ওড়ায়। আমারও খুব ইচ্ছে। একদিন মা বাজার থেকে কিছু কিনে আনার জন্য ৫০ টাকা দিয়েছিল। আমি নোটটা কুচি কুচি করে ছিড়ে উড়িয়ে ছিলাম। ওড়ানোর পর মনে হল, এই রে। এবার জিনিস কিনব কী করে!‌ বাধ্য হয়ে বাড়িতে বললাম। ব্যাস, তারপর দুমাদুম মার (‌হেসে)‌‌।’‌ 
শুধু কি এটুকুই। টিকিট না কেটে বাসে ওঠা, বিনা নিমন্ত্রণে বিয়েবাড়িতে ঢুকে পাত পেড়ে খেয়ে আসা— সব করেছেন। ‘‌থ্রি ইডিয়টস’‌ সিনেমার ঢঙে নিমন্ত্রণ ছাড়াই পেটপুরে খেয়ে আসার শখ শুধু বিরাটের নয়, ছিল সুনীলেরও। ধরাও পড়েছিলেন। 
বড় হওয়ার পরেও কিছু কম কাণ্ড বাঁধাননি বিরাট। স্ত্রী অনুষ্কা শর্মার শুটিং দেখতে গিয়েছিলেন। সেখানে এক অদ্ভূৎ কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। কী হয়েছিল?‌ সুনীলের প্রশ্নে বিরাট বলেন, ‘শুটিং দেখতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। আসলে জেট ল্যাগ ছিল। কিন্তু মুশকিল হল, কোথায় ঘুমিয়েছি, সেটা অনুষ্কাকে কেউ জানায়নি। ব্যাস, শুটিং বন্ধ করে আমাকে খুঁজতে শুরু করেছিল সবাই। বেড়াতে গিয়েও একটা কাণ্ড বাধিয়েছিলাম। রাস্তায় বেরিয়েছি। হঠাৎ শুনি কে যেন নাম ধরে ডাকছে। আমি সব ভুলে সাইকেল চড়ে হাওয়া। পেছনে তাকাইনি। অনুষ্কা খুব রেগে গিয়েছিল সেদিন (‌‌জোরে হাসি)‌‌।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top