আজকালের প্রতিবেদন: শুক্রবার আচমকা বন্ধ হয়ে গেল জি বাংলা আর সান বাংলার ১৫টি ধারাবাহিকের শুটিং। কলাকুশলীদের পাওনা নিয়ে চ্যানেলের সঙ্গে বিরোধের কারণেই স্তব্ধ হল শুটিং। আজ, শনিবার থেকে আবার শুটিং শুরু হবে কি না, পুরোটাই অনিশ্চিত। নানান বৈঠক চলছে। যদি রাতে কোনও মীমাংসাসূত্র বেরোয়, তাহলে হয়তো আজ আবার শুটিং শুরু হতে পারে।
কলাকুশলীদের সংগঠন ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট স্বরূপ বিশ্বাস বললেন, লকডাউনের সময় থেকে কলাকুশলীদের যে টাকা প্রাপ্য, সেটা দিতে টালবাহানা করছে দুটি চ্যানেল। তঁার বক্তব্য, চার–পঁাচ মাস ধরে যদি কলাকুশলীরা টাকা না পান, তাহলে তাঁদের সংসার চলবে কী করে?‌ ফেডারেশন থেকে এই করোনা–আবহে তাঁদের যথাসাধ্য সাহায্য করা হয়েছে। কিন্তু বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তাঁদের প্রাপ্য টাকা দিচ্ছে না চ্যানেল। স্বরূপ বিশ্বাস আরও অভিযোগ করলেন, এখনও পর্যন্ত কোভিড–‌ইন্সিওরেন্সের টাকা দেয়নি চ্যানেল। তাহলে কোন ভরসায় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করবেন তঁারা?‌ বারবার এ ব্যাপারে মেল করা সত্ত্বেও চ্যানেল থেকে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি বলে তঁার অভিযোগ।
এদিকে, জি বাংলা ও সান বাংলার ধারাবাহিকের শিল্পীরা কলটাইম অনুযায়ী শুক্রবার সকালেই পৌঁছে যান বিভিন্ন স্টুডিওয়। জানতে পারেন, শুটিং বন্ধ, কলাকুশলীরা কাজ করবেন না।
জি বাংলার অন্যতম শীর্ষকর্তা সম্রাট ঘোষ বললেন, আগে থেকে কোনও কিছু না জানিয়ে এভাবে শুটিং বন্ধ করা মানে টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিকে স্তব্ধ করে দেওয়া। করোনা–আবহে যখন অনেক জায়গাতেই কাজ বন্ধ, তখন ধারাবাহিকের কাজ চালু রেখে বহু মানুষের রুটি–রুজির ব্যবস্থা হয়েছে। এবার ক্ষতিপূরণ কে করবে?‌ করোনা–‌বিমার টাকা চ্যানেল থেকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইন্সিওরেন্স কোম্পানি থেকে এখনও কাগজপত্র এসে পৌঁছোয়নি। আর বকেয়া টাকাটা কলাকুশলীদের দৈনিক মজুরি নয়। এটা ‘‌কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি’‌ স্কিম অনুযায়ী আমরা দেব বলে জানিয়েছিলাম। কিন্তু তার জন্যে আচমকা শুটিং বন্ধ করাটা কোন যুক্তির মধ্যে পড়ে?‌ এবং বেছে বেছে দুটো চ্যানেলের ধারাবাহিকই কেন বন্ধ করা হল, এই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সব মিলিয়ে, টেলি–পাড়া আবার সঙ্কটে। বৈঠক চলছে। আজ শুটিং শুরু হওয়া বেশ অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top