আজকালের প্রতিবেদন, মুম্বই, ১২ আগস্ট- ভারতে দ্বিতীয় টেলিকম বিপ্লব। ৫ সেপ্টেম্বর। আটের দশকে উপগ্রহ–নির্ভর টেলিফোন যোগাযোগ এবং মোবাইল প্রযুক্তি চালু করে প্রথম বৈপ্লবিক পরিবর্তনটির হোতা ছিলেন প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর টেকনোক্র্যাট বন্ধু স্যাম পিত্রোদা। আর একুশ শতকের উন্নয়ন–গঙ্গার ভগীরথ মুকেশ আম্বানি। দেশ জুড়ে সস্তার মোবাইল পরিষেবা চালু করেছিল তঁার জিও ফোন। ৫ সেপ্টেম্বর জিও–‌র তিন বছর পূর্তিতে মুকেশ আনছেন জিও ফাইবার পরিষেবা। উচ্চক্ষমতা ও অবিশ্বাস্য গতির ফাইবার অপটিক কেবল মারফত একইসঙ্গে ল্যান্ডলাইন, কেবল টিভি ও ব্রডব্যান্ড সংযোগ। সেটাও সরাসরি। নতুন এই ল্যান্ডলাইন থেকে নিখরচায় ফোন করা যাবে সর্বত্র, আজীবন। আমেরিকা এবং কানাডায় যদি ফোন করার দরকার থাকে, মাসে মাত্র ৫০০ টাকা বাড়তি দিলেই যত ইচ্ছে ফোন করা যাবে। কেবল টিভি–‌র ক্ষেত্রে জিও আনছে অত্যাধুনিক ফোর কে প্রযুক্তির সম্প্রচার। যে ছবির পিক্সেল–ঘনত্ব হবে এইচডি, অর্থাৎ হাই ডেফিনিশন ডিজিটাল টিভির চার গুণ। আরও ভাল, আরও পরিষ্কার ছবি। জিও–‌র প্রতিশ্রুতি, প্রথম দফায় যঁারা সংযোগ নেবেন, তঁাদের ফোর কে সেটটপ বক্স দেওয়া হবে বিনামূল্যে। আর একসঙ্গে এক বছরের গ্রাহক হলে ফোর কে টিভিটাও মুকেশই দেবেন, স্বাগতিক উপহার হিসেবে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে বিদ্যুৎগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা, যার সবথেকে কম গতি হবে সেকেন্ডে ১০০ মেগাবাইট। এবং এত কিছু পাওয়া যাবে মাসে মাত্র ৭০০ টাকার বিনিময়ে। এটাই ‘‌বেসিক প্যাক’‌। এর পর সুবিধে যত বাড়বে, মাসিক খরচ সেই হিসেবে ধাপে ধাপে বাড়বে, যা সর্বোচ্চ হতে পারে মাসে ১০ হাজার টাকা। সেই পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের গতি হবে সেকেন্ডে এক গিগাবাইট!‌
এছাড়া অবশ্যই আরও নানা ধরনের অতিরিক্ত পরিষেবা যুক্ত হবে এক একটি পর্যায়ে, যা বিশদে জানাতে পারেননি মুকেশ। তবে সোমবার মু্ম্বইয়ে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের ৪২তম সাধারণ সভায় জিও ফাইবারের ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গেই জানিয়েছেন রিলায়েন্স জিও ইনফোকম–এর সঙ্গে মাইক্রোসফটের এক দীর্ঘমেয়াদি, সুসংহত ও অভিনব কৌশলগত সহযোগিতা সম্পর্ক শুরু হওয়ার কথা। প্রযুক্তির প্রয়োগে যত ধরনের উন্নতি সাম্প্রতিককালে হয়েছে, বিশেষ করে ব্যবসা–‌বাণিজ্যের প্রয়োজনে, তা নিয়ে যৌথভাবে কাজ করবে দুই সংস্থা। কম্পিউটারে তথ্যের সঞ্চয়, বিনিময় থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিবৃত্তি, সবই আছে সেই যৌথ উন্নয়ন পরিকল্পনায়। ভারতীয় শিল্প–বাণিজ্য এবং সামাজিক জীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে রিলায়েন্স–মাইক্রোসফটের সম্মিলিত উদ্যোগ, স্বপ্ন দেখিয়েছেন মুকেশ আম্বানি।                    
সিনেমা হল, মাল্টিপ্লেক্সের মতো রিলায়েন্সের জিও ফাইবার টিভিতেও নতুন ছবি মুক্তি পাবে। ‘‌ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো’‌ নামে এই পরিষেবা চালু হবে ২০২০ থেকে। গ্রাহকরা ভার্চুয়াল রিয়েলিটির পরের ধাপে পা রাখার সুযোগ পাবেন, যা ঘরে বসে অনলাইনে কেনাকাটা করার ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। মোবাইল ফোনে সিনেমা দেখার ক্ষেত্রে সিনেমা হলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা কৃত্রিমভাবে তৈরি করার জন্য যেমন আলাদা ভিআর ডিভাইস চালু হয়েছে, সেই একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে শপিং মলে না গিয়েও শপিং করার মজা ঘরে এনে দিতে। এবং পুরো বিষয়টি প্রায় কল্পবিজ্ঞানের মতোই রোমাঞ্চকর হতে চলেছে, যেখানে নিজের অবিকল ভার্চুয়াল প্রতিমূর্তির গায়ে পছন্দের পোশাক পরিয়ে দেখে নেওয়া যাবে, কেমন লাগছে! 
মুকেশ আম্বানি এদিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের অন্যতম মূল ব্যবসা জ্বালানি ও রাসায়নিক। তাতে রিলায়েন্সের নিজের হাতে থাকা শেয়ার সৌদি তেল সংস্থা আরামকো–কে বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি। আর সারা দেশে জ্বালানির খুচরো বিক্রির যে ব্যবস্থা, অর্থাৎ রিলায়েন্সের পেট্রোল পাম্পগুলি বেচে দিয়েছেন ব্রিটিশ সংস্থা বিপি–কে। দুই মিলিয়ে রিলায়েন্সের সিন্দুকে আসছে ১.‌১৫ লক্ষ কোটি টাকা। এবং মুকেশ এদিন ঘোষণা করেছেন, আগামী দেড় মাসের মধ্যে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের বাজারে কোনও ধার থাকবে না। ৩১ মার্চ ২০২১ সম্পূর্ণ ঋণমুক্ত হবে আপনাদের সংস্থা, শেয়ার–হোল্ডারদের হর্ষধ্বনির মধ্যে ঘোষণা করেছেন মুকেশ আম্বানি।  ‌‌

 

মুম্বইয়ে রিলায়েন্স গোষ্ঠীর ৪২তম বার্ষিক সাধারণ সভায় আকাশ ও ঈশা আম্বানি।

জনপ্রিয়

Back To Top