লোপামুদ্রা ভৌমিক: শিল্প সৃষ্টির জন্য খোলা আকাশ, দখিনা বাতাস, সবুজ মাঠ বা নীল সমুদ্রের সত্যিই কি খুব প্রয়োজন আছে?‌ প্রশ্ন তুলে দিল লকডাউন। কারণ, যাঁদের মধ্যে সৃষ্টির নাছোড় বায়না আছে, তাঁরা এই আড়াই মাসে চার দেওয়ালের মধ্যেই নানান দৃশ্যকে সাজিয়ে নিয়ে তাক লাগাচ্ছেন বহির্বিশ্বকে। সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে ছড়িয়ে দিচ্ছেন শিল্পের ছোঁয়া। সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়। আবৃত্তি ও অভিনয় জগতের পরিচিত মুখ। তাঁর সংস্থা এসপিসি ক্রাফ্‌ট গত এপ্রিল থেকে শুরু করেছে অনলাইন কবিতা ও গল্পপাঠ শেখানোর ক্লাস। এই মুহূর্তে শিক্ষক সুজয়প্রসাদের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৩৬। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পাশাপাশি আমেরিকা, কানাডা, গ্রেট ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, বাহরিন থেকেও ক্লাসে অংশ নিচ্ছেন আগ্রহীরা। তাছাড়া কানাডানিবাসী অভিষেক ও শ্যামশ্রী ঘোষের সংস্থা ঘোষ কোম্পানির সঙ্গে জুটি বেঁধে এসপিসি ক্রাফ্‌ট ডিজিটাল মিডিয়ায় আনতে চলেছে ১৯১৮–র স্প্যানিশ ফ্লু–র সময় রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন লেখা ও গানে সাজানো গীতি আলেখ্য ‘‌যুদ্ধজ্বর ও রবীন্দ্রনাথ’‌। ইংরেজি ও বাংলা— দুটি ভাষাতেই মুক্তি পাবে এই আলেখ্য। আজ নজরুলের জন্মদিন। এই উপলক্ষে আগামী ২৮ মে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুক্তি পাবে নজরুলের গান ও কবিতার একটি কোলাজ। ৩০ মে ঋতুপর্ণ ঘোষের মৃত্যুদিন উপলক্ষে জয় সরকারের সঙ্গীতায়োজনে মুক্তি পাবে একটি অন্যরকম ভিডিও। যেখানে গানে থাকবেন লোপামুদ্রা মিত্র। শ্রীজাতর লেখা কবিতা পাঠ করবেন সুজয়প্রসাদ। এ ছাড়াও ৭ জুন রবীন্দ্রনাথের গান নিয়ে ওয়ার্কশপ করবেন প্রমিতা মল্লিক। বাংলা থিয়েটারের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সাক্ষাৎকারভিত্তিক একটি আর্কাইভ তৈরিরও তোড়জোড় চলছে। দিল্লির সংস্থা ‘‌হাফ পেন্সিল’‌–এর সহযোগিতায় পুরনো বাংলা থিয়েটারের ইতিহাস নিয়ে গবেষণামূলক ভিডিও প্রকাশেরও উদ্যোগ শুরু হয়েছে। কবে আবার মঞ্চের পর্দা সরে আলো জ্বলে উঠবে কেউ জানে না। কিন্তু জীবনের সংজ্ঞা তো চরৈবেতি। আর ছড়িয়ে পড়াতেই শিল্পের সার্থকতা। সে মঞ্চই হোক বা সামাজিক মাধ্যম— কী যায় আসে। ‌‌‌‌                                  ছবি:‌ সংগৃহীত

জনপ্রিয়

Back To Top