সম্রাট মুখোপাধ্যায়- চরিত্র পছন্দ না হলে রেয়াত করেননি কাউকেই, কোনও দিনই। শ্রীদেবী, যাঁর মেজাজ নিয়ে স্ত্রিপ্ট পড়ানোর সময় থেকেই চিন্তায় থাকতেন প্রযোজক–‌পরিচালকরা।
একটা সময় ভাবা হত, সাহসী পোশাক মানেই শ্রীদেবী। অথচ ঘটনা এটাই, চিত্রনাট্যে পোশাকের অতি–উদারতা দেখে সোজা পরিচালককে না বলে দিয়েছেন বহুবার। জিতেন্দ্রর সঙ্গে তখন তাঁর জুটির সাফল্য তুঙ্গে। এই সময় অফার এল ‘হোশিয়ার’ করার। কিন্তু ছবিতে নায়িকার যে ধরনের খোলামেলা পোশাক পরার কথা, তা না–পসন্দ শ্রীদেবীর মায়ের। অতএব এ ছবি করলেন না শ্রী। তাঁর জায়গায় এলেন মীনাক্ষী শেষাদ্রি। ছবি তুমুল হিট হল। মীনাক্ষীও নায়িকা হিসেবে উঠে এলেন দ্রুত। অথচ এ নিয়ে শ্রীদেবী কখনও ঘনিষ্ঠ মহলেও আক্ষেপ করেননি। ‘জানবাজ’–‌এর বেলাতেও একই ঘটনা। সেবার ওই ছবিতে ফিরোজ খান শ্রীদেবীর জন্য যে চরিত্রটি ভেবেছিলেন, তাকে ঘিরে একটি খোলামেলা গানের দৃশ্য ছিল। শ্রীদেবী ওই চরিত্রটি ছেড়ে দিয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট একটি চরিত্র নেন, ছেড়ে–দেওয়া চরিত্রটি করেন ডিম্পল কাপাডিয়া।
তবে এটা ভাবলে ভুল হবে, ছোট চরিত্র করতে দ্বিধা করতেন না শ্রীদেবী। বিলক্ষণ নারাজ ছিলেন তাতে। তাই পছন্দের সহ–‌অভিনেতা জিতেন্দ্রর সঙ্গে করেননি ‘‌কামইয়াব’‌ বা ‘‌খুদগর্জ’‌–‌এর মতো ছবি। ‘‌বিজয়’‌–‌এর প্রস্তাবে নারাজ হলে যশ চোপড়ার অন্য প্রোজেক্ট ‘‌চাঁদনি’‌ থেকে বাদ পড়ে যেতে পারেন, এমন ঝুঁকি নিয়েও ‘‌বিজয়’‌ ছেড়েছেন। চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি বলে। দেব আনন্দের দীর্ঘ দিনের ইচ্ছে ছিল শ্রীদেবীকে নিয়ে ছবি করার। ‘‌সাচ্চে কা বোলবালা’‌ করতে গিয়ে ডেকেওছিলেন তাঁকে। শ্রীদেবী চুক্তিবদ্ধও হলেন। কিন্তু শুটিং শুরুর আগে দেবসাহেব অতিরিক্ত কিছু ‘‌ডেট’‌ চাইলেন। তাতেই বিপত্তি, ছবি থেকে বেরিয়ে এলেন শ্রী। আর তার জায়গায় এলেন মীনাক্ষী। যিনি ‘‌বিজয়’‌–‌এও ঢুকেছিলেন শ্রীদেবীর ছেড়ে–যাওয়া চরিত্রে। একইভাবে ডিম্পল শুধু ‘‌জানবাজ’‌ সূত্রেই নয়, আরও একবার উপকৃত হয়েছিলেন শ্রীদেবীর সিদ্ধান্তে। আর তা হল ‘‌আজুবা’‌র সময়। অমিতাভ বচ্চন খচিত এই ছবির অফার অনেক দিন ঝুলিয়ে রেখে শেষ পর্যন্ত শ্রী বাতিল করেন, কারণ চিত্রনাট্য পড়ে তাঁর মনে হয়েছিল, তাঁর চরিত্রটি ঢেকে যাচ্ছে নায়কের ছায়ায়। তবে ‘‌লেকিন’‌–‌এর সময় শ্রীদেবীর ইচ্ছে ছিল না এ ছবি ছাড়ার। লতা মঙ্গেশকর স্বয়ং চেয়েছিলেন শ্রীদেবী এ ছবিতে থাকুন। কিন্তু ডেট–‌এর সমস্যায় ছবি ছাড়তেই হয়। আর এ ছবিতেও সে চরিত্র করেন ডিম্পল কাপাডিয়া।
তবে মীনাক্ষী বা ডিম্পল কখনই শ্রীদেবীর পুরোপুরি প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারেননি। কিন্তু যিনি হয়ে উঠেছিলেন সেই মাধুরী দীক্ষিত অন্তত তাঁর কেরিয়ারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ছবির জন্য ঋণী শ্রীদেবীর কাছে। ‘বেটা’। অনিল কাপুরের জুটি হিসেবে কে বেশি ভাল, শ্রীদেবী নাকি মাধুরী— এই তর্ক যখন আসমুদ্রহিমাচল, ঠিক তখনই, নয়ের দশকের গোড়ায় এ ‌ছবি ছেড়ে দেন শ্রীদেবী। অথচ ইন্দ্রকুমারের এই ছবির চিত্রনাট্য লেখাই হয়েছিল শ্রীদেবীকে ভেবে। কিন্তু সে সময় শ্রী–র নাকি মনে হয়, অনিলের সঙ্গে তাঁর জুটি এবং সেই জুটিতে এত বেশি ছবি করা, তাঁর নিজস্ব কৃতিত্বকে ঢেকে দিচ্ছে। অতএব ওই ছবি তিনি ছেড়ে দেন। শোনা যায়, ‘‌দিল তো পাগল হ্যায়’‌–‌তেও মাধুরীর করা চরিত্রটিতে নাকি শ্রীদেবীকেই প্রথমে ভেবেছিলেন যশ চোপড়া।
এ‌ তো গেল তাঁর সমসাময়িক নায়িকাদের কথা, শ্রীদেবীর ছবি না করার সিদ্ধান্ত উঠে আসতে সাহায্য করেছে উত্তর–প্রজন্মের তিন নায়িকাকেও। ‘‌বাজিগর’‌–‌এর প্রাথমিক চিত্রনাট্যে যমজ বোনের কথা ছিল। ঠিক ছিল, সেটা করবেন শ্রীদেবী। কিন্তু পরে সেই চরিত্র ভাগ হয়ে যায় কাজল আর শিল্পা শেট্টির মধ্যে। আবার ‘‌মোহরা’‌ না করায় ‘‌তু চিজ বড়ি হ্যায় মস্ত মস্ত’‌ হয়ে যান রবিনা ট্যান্ডন। হাল আমলে ‘‌বাহুবলী’‌‌তে রানি শিবাগামীর চরিত্র অফার করা হয়েছিল শ্রীদেবীকে। তাঁর পাল্টা শর্তে রাজি হতে না পেরে পিছিয়ে আসেন প্রযোজকরা। চরিত্রটি করেন রামাইয়া। তবে এর চেয়েও বড় ‘‌বিকল্প’‌ বাছার উদাহরণ দেখান বি আর চোপড়া। তখন শোনা যাচ্ছিল, শ্রীদেবী পর্দায় ফিরতে চান, ‘‌বাগবান’‌ ছবিতে অমিতাভের বিপরীতে তাঁকে চান মুভি মোগল। কিন্তু শ্রীদেবী এ ছবিকে ‘‌কামব্যাক’‌ ছবি বানাতে চাননি। তাঁর জায়গায় আসেন হেমা মালিনী।
সেরা ঘটনা? ‘‌মোহব্বতে’‌‌তে অমিতাভ, শাহরুখ, ঐশ্বর্যের পাশে তাঁকে চান যশ চোপড়া। শ্রীদেবী তখন ছবি করছেন না। তাঁকে ভেবে তৈরি করা চরিত্রটাই ছবি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

জনপ্রিয়

Back To Top