অদিতি রায়- হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে নয়, মদের ঘোরে জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে শ্রীদেবীর! দুবাই পুলিসের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছিল, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে শ্রীদেবীর। তখনই বিস্ময় প্রকাশ করে বনি কাপুরের ছোটভাই সঞ্জয় কাপুর বলেছিলেন, শ্রীদেবীর হৃদ্‌রোগ ছিল এমন কোনও তথ্য পরিবারের কাছে নেই!‌ ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর উল্লেখ নেই। ইতিমধ্যেই ‘খালিজ টাইমস‌’‌ ময়নাতদন্তের রিপোর্টের কপি প্রকাশ করেছে, সেখানে লেখা রয়েছে, মৃত্যুর কারণ— জলে ডুবে আকস্মিক মৃত্যু। রক্তে অ্যালকোহলও পাওয়া গেছে বলে দাবি দুবাইয়ের ফরেনসিক দপ্তরের। 
জেরা করা হচ্ছে বনি কাপুরকে। রেকর্ড করা হয়েছে তাঁর বয়ান। খতিয়ে দেখা হচ্ছে শ্রীদেবীর কললিস্ট। দুবাইয়ের যে হোটেলে শ্রীদেবী ছিলেন, সেখানকার সিসি টিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শ্রীদেবীর ঘর পরীক্ষার পাশাপাশি হোটেলের করিডর, লবির সিসি টিভি বাজেয়াপ্ত করেছে দুবাই পুলিস। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে রুম সার্ভিসে থাকা দুই ওয়েটারকেও, যাঁরা শনিবার দুপুরে শ্রীদেবীর ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন জল ও খাবার। এরই মধ্যে ভারতে নিয়ে আসার জন্য শ্রীদেবীর মরদেহ সংরক্ষণে পাঠানো হয়েছে আল মুহাইসানায়।‌ 
বেশ কিছু প্রশ্ন উঠেছে ইতিমধ্যেই। দুবাইয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান সেরে বনি কাপুর তাঁর ছোটমেয়ে খুশি–সহ পরিবারের সকলের সঙ্গে মুম্বই ফিরে গিয়েছিলেন, কিন্তু দু’‌দিন দুবাইয়েই কেন থেকে গেলেন শ্রীদেবী?‌ কেন ওই দু’‌দিন হোটেলের ঘর থেকে তাঁকে বেরোতে দেখা যায়নি?‌ দু’‌দিন পর শ্রীদেবীকে না জানিয়ে হঠাৎই দুবাইয়ে ফিরলেন কেন বনি কাপুর?‌‌ বনি কাপুর না অন্য কেউ, মৃত্যুর সময় কে উপস্থিত ছিলেন শ্রীদেবীর ঘরে?‌
কী হয়েছিল সেদিন?
আত্মীয় মোহিত মাড়োয়ার বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ছোটমেয়ে খুশিকে নিয়ে দুবাই থেকে মুম্বই ফিরে এসেছিলেন বনি কাপুর। শ্রীদেবী একাই ছিলেন দুবাইয়ের ‘জুমেইরাহ এমিরেটস টাওয়ার‌’ হোটেলে। স্ত্রীকে ‘সারপ্রাইজ ডিনার‌’–এ আমন্ত্রণ জানানোর জন্য মুম্বই থেকে দুবাই পৌঁছন বনি কাপুর। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ। হোটেল রুমে পৌঁছে শ্রীদেবীকে ঘুম থেকে তোলেন বনি। মিনিট পনেরো কথাবার্তার পর ‘সারপ্রাইজ ডিনার‌’‌–এর প্রস্তাব দেন স্ত্রীকে। তৈরি হওয়ার জন্য শ্রীদেবী ঢোকেন বাথরুমে। ১৫ মিনিট পেরিয়ে যাওয়ার পরও বেরোচ্ছেন না দেখে ডাকাডাকি শুরু করেন বনি। সাড়া না পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিচলিত বোধ করেন। দরজা ভেঙে বাথরুমে ঢুকে দেখেন, জলে উপচে–পড়া বাথটবে ডুবে রয়েছেন অচৈতন্য, নিথর শ্রীদেবী‌!
তাঁকে তুলে এনে জ্ঞান ফেরানোর ব্যর্থ চেষ্টার পর এক বন্ধুকে ফোন করেন বনি কাপুর। রাত ৯টা নাগাদ পুলিসকে খবর দেন। চিকিৎসক নিয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছয় পুলিস। পরীক্ষার পর শ্রীদেবীকে মৃত ঘোষণা করা হয়! ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জেনারেল ডিপার্টমেন্ট অফ ফরেনসিক মেডিসিনে।
বনি কাপুরের উপস্থিতি নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। বনি ওই দিন শ্রীদেবীর মৃত্যুর আগে বা পরে আদৌ হোটেলের রুমে ছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অন্য একটি মতও উঠে আসছে, মৃত্যুর আধঘণ্টা আগে শ্রীদেবী একাই ছিলেন হোটেল রুমে। বাথটব উপচে জলে ভেসে যায় ঘর। তার পর বাথরুমের দরজা ভেঙে আবিষ্কার করা হয় তাঁর নিথর দেহ।
কীভাবে ডুবে গেলেন শ্রীদেবী?
ফরেনসিক রিপোর্ট বলছে, মদ্যপান করেছিলেন শ্রীদেবী। দুটো মতামত উঠে আসছে। প্রথম মত— বাথরুমে ঢুকে ধীরে ধীরে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন, বাথটব পরিপূর্ণ হয়ে যায় জলে, অচৈতন্য শ্রীদেবীর মাথা ডুবে যায়, দম বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। দ্বিতীয় মত— বাথরুমে ঢুকে মদ্যপানের জেরে বেসামাল হয়ে বাথটবে পড়ে যান শ্রীদেবী, সংজ্ঞা হারিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয় তাঁর।
এবার কী?
পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণের সূত্র ধরে এগোচ্ছে দুবাই পুলিস। দুবাইয়ে রশিদ হাসপাতাল শ্রীদেবীর ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করার পর, তাঁর মৃত্যু–সংক্রান্ত সব কাগজপত্র ফাইলবন্দি করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে সরকারি আইন দপ্তরে। সরকারি আইনজীবী সমস্ত কাগজপত্র খঁুটিয়ে দেখবেন, কোনও অসঙ্গতি চোখে না পড়লে তবেই পরিবারের হাতে শ্রীদেবীর মরদেহ তুলে দেওয়ার ছাড়পত্র দেবেন। অন্যথায় পরবর্তী তদন্তের নির্দেশ দেবেন। ইতিমধ্যে শ্রীদেবীর পাসপোর্ট বাতিলের আবেদনও গ্রাহ্য হয়েছে। জারি হবে হোয়াইট পাসপোর্ট।
শেষ খবর, শ্রীদেবীর মরদেহ দেশে ফিরতে আরও দেরি। দুবাইয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন কাপুর পরিবারের লোকজন। রহস্যের কালো মেঘ সরে গিয়ে চাঁদনির আলো কখন পৌঁছবে দেশে, প্রতীক্ষায় আপামর ভারতবাসী।‌

জনপ্রিয়

Back To Top