অদিতি রায়: • যাঁরা আপনাকে বহুদিন ধরে চেনেন তাঁরা জানেন আপনার মধ্যে একটা ‘‌ফাইটিং স্পিরিট’‌ আছে। এই লড়াকু মনোভাব কার কাছ থেকে পেয়েছেন?‌
•• আমার পরিবারের কাছ থেকে, মা, বাবা, ঠাম্মা।
• পরিস্থিতি?‌
•• পরিস্থিতি তো শেখায়, সেই পরিস্থিতির সঙ্গে লড়ে যাওয়ার মানসিকতাটা আমার পরিবারের কাছ থেকেই শেখা। হেরে গেলে চলবেনা, জীবন তার ছন্দেই চলবে।
• আপনার সমসাময়িক বা অপেক্ষাকৃত নতুন নায়িকারা অধিকাংশই একটা বড় ছাতার নীচে রয়েছেন, বড় ব্যানারের ছবি করছেন, এই অবস্থায় আপনার টিকে থাকার লড়াইটা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে মনে করিয়ে দেয়না?‌
•• হুম‌!‌ অবশ্যই ঋতুদি আমার প্রেরণা। একটা সময় ছিল, আমি শুধুই ঋতুদির কথা ভেবে মনে জোর আনতাম। কীভাবে উনি নিজেকে থামতে দেননি, কীভাবে স্রোতের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে নিজের অবস্থানটা পাকাপোক্ত করেছেন, এটা ভেবেই শক্তি সঞ্চয় করতাম। আর সত্যি কথা বলতে কী, আমি ভয়ও পাইনা, কোনও কিছুর পিছনে অযথা ছুটিও না। আমার ভাগ্য আমার সহায়, সেটা তো কেউ কেড়ে নিতে পারবেনা!‌ আমাকে কাজটা পেতেই হবে, তার জন্য আমাকে মাথায় ছাতা নিতেই হবে, বা এটা-‌ওটা করতে হবে, এমনটা আমি ভাবিনা!‌ আমার ভাগ্যে থাকলে এমনিতেই সাফল্য আসবে। ছাতা থাকুক বা না থাকুক।
• ভাগ্যে বিশ্বাস করেন?‌ পরিশ্রমে নয়?‌
•• দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। মুম্বইতেই দেখুন না, প্রতি বছর শয়ে শয়ে নতুন ছেলেমেয়েরা যাচ্ছে, তারা হয়তো অনেকের থেকেই অনেক বেশি প্রতিভার অধিকারী, পরিশ্রমী, বা সুন্দর দেখতে, কিন্তু ভাগ্য সহায় হলনা বা একটা দুটো কাজ পেলেও সেভাবে ক্লিক করলনা। তাহলে শুধু নিষ্ঠা দিয়ে কী হবে?‌ জায়গাটা না পেলে পরিশ্রম করব কোথায়?‌ সেকারণেই আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি, এবং ভাগ্যে বিশ্বাস করি।
• আপনার কেরিয়ারের এই সময়টায় আপনি খুশি?‌
•• খুব খুশি। খুশিতে থাকাটা আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবনে খুশি না থাকলে কোনও কাজেই মনোনিবেশ করতে পারবনা। আর যে কাজই করিনা কেন, খুশি মনে না করলে সেটা যথাযথ হবেনা।
• ‘হানিমুন‌’‌-‌এ কাজ করতে রাজি হওয়ার কারণ কী?‌
•• আমি অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম, এবার যে ছবিগুলোতে কাজ করব তাতে যেন আমার করার কিছু থাকে। ৪টে দৃশ্যে থাকলেও দর্শক যেন বলেন, ওই ৪টে দৃশ্যেই আমি ভাল কাজ করেছি। এটাই এখন আমার কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে। ‘‌বস’‌ ঘরানার ছবিতে আমার পরিচিতি তৈরি হলেও, এবার শিল্পী হিসেবে আমি পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে চাই। ‘হানিমুন‌’‌-‌এর প্রস্তাব আসার আগে আমি ‘চালবাজ‌’‌-‌এর শুটিং করে লন্ডন থেকে দেশে ফিরে ঠিক করেছিলাম ৩/‌৪ মাস আমি আর কোনও নতুন কাজে হাত দেবনা। তখনই চাকিদা (প্রেমেন্দু বিকাশ চাকি‌)‌ গল্পটা নিয়ে আমার কাছে আসেন। শুনেই রাজি হয়ে যাই। এরপর কিন্তু আর কোনও চিত্রনাট্যে হ্যাঁ বলিনি। ভাল গল্পের জন্য অপেক্ষা করব ঠিক করেছি।
• ‘‌হানিমুন’‌ সমরেশ বসুর গল্প অবলম্বনে। একই বিষয় নিয়ে আগেও তৈরি হয়েছে ‘ছুটির ফাঁদে‌’‌। আপনি যে চরিত্রে অভিনয় করছেন সেটা করেছিলেন অপর্ণা সেন। তুলনায় ভয় লাগছে?‌
•• ওরে বাবা‌!‌ ওটা নিয়ে ভাবিইনি‌!‌ তাহলে অভিনয়টাই ঘেঁটে যেত। অপর্ণা সেন ‘গডেস‌’‌। ওঁর সঙ্গে আমার তুলনা!‌
• সোহমের সঙ্গে পরপর কাজ করছেন। আপনাদের জুটিতে দর্শক যদি ‘‌বোর’‌ হয়ে যান?‌
•• আমার কী মনে হয় জানেন?‌ গল্পই এখন হিরো। ভাল গল্প থাকলে নায়ক-‌নায়িকা নিয়ে দর্শক মাথা ঘামান না। আর জুটি হিসেবে হিট যদি বলতে হয়, তাহলে আমার আর দেব-‌এর পর কিন্তু কোনও জুটিই তৈরি হয়নি!‌ কাজেই জুটি নিয়ে এখন আর দর্শকের কোনও মাথাব্যথা নেই।
• সোহম-‌শুভশ্রী জুটির রসায়ন কী?‌
•• আমাদের জুটি মোটেই প্রেমে গদগদ টাইপের নয়। দেখলে মনে হয় অনেকদিন বিয়ে হয়ে গেছে (হাসি‌)‌!‌ চুমু খেলেও গালেই চুমু খাব!‌ আসলে আমাদের দুজনের অফস্ক্রিন সম্পর্কটাও খুব সহজ। ‘হানিমুন‌’‌-‌এ আমার চরিত্রের নাম জয়তী। সে একদম আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের মতোই। সাদামাটা চেহারা, সারাক্ষণ শাড়ি পরতে ভালবাসে। দেখুন, একটা মেয়ে যতোই উচ্চাকাঙ্খী বা পেশাদার হোকনা কেন, সংসার করা, বরের জন্য রান্না করা, সন্তান মানুষ করার আকাঙ্খা থেকেই যায়। এই সত্ত্বাটা সব মেয়েরই মনের গোপন কোণে লুকিয়ে থাকে।
• আপনারও এরকম কিছু আকাঙ্খা আছে নাকি?‌
•• কিছু মানে?‌ পুরোপুরি আছে!‌ আর মনের কোণে লুকিয়ে নেই, অত্যন্ত সরবে আছে (হাসি‌)!‌ 
• সেই আকাঙ্খা কবে বাস্তবায়িত হবে?‌
•• সেটা এখনও জানিনা, তবে রয়েছে, থাকুক (হাসি‌)‌‌!‌ আপাতত কাজেই মন দিই!‌

জনপ্রিয়

Back To Top