আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ প্রয়াত হলেন বলিউডের প্রিয় ‘‌শাম্মি আন্টি’‌। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই বয়সজনিত অসুখে ভুগছিলেন জনপ্রিয় কমেডিয়ান শাম্মি। পারিবারিক জীবনে দারিদ্র, একাকিত্বের ঝড়ঝাপটা সামলিয়েও পর্দার সামনে কখনও নিজের কমিক সেন্সে ভুল করেননি শাম্মি। 
তৎকালীন বম্বেতে পার্সি যাজকের ছোট মেয়ে নার্গিস রাবাদির জন্ম ১৯২৯ সালে। জন্মের তিন বছরে মধ্যেই বাবাকে হারান। দুই মেয়ে মণি এবং নার্গিসকে মানুষ করতে পার্সি পরিবারগুলির অনুষ্ঠানে রাঁধুনির কাজ করতেন তাঁদের মা। ৪০–এর দশকের শেষের দিকে নার্গিসদের পারিবারিক বন্ধু চিনু মামা তাঁকে অভিনেতা–পরিচালক শেখ মুখতারের কাছে নিয়ে যান। নিজের পরবর্তী ছবিতে বেগম পারার সঙ্গে দ্বিতীয় নায়িকা হিসেবে নতুন মুখ খুঁজছিলেন মুখতার। নার্গিসকে দেখেই পছন্দ হয়ে যায় মুখতারের। তখন বলিউডে অন্য নায়িকা নার্গিসের রমরমার জন্য মুখতার তাঁর নাম বদলিয়ে রাখেন শাম্মি। ১৯৪৯ সালে মুক্তি পায় শাম্মির প্রথম ছবি ‘‌উস্তাদ পেড্রো’‌। ১৯৫১ সালে গায়ক মুকেশের নায়ক হিসেবে ছবি ‘‌মলহর’–এ প্রথম ‌নায়িকা হন। পরের বছর দিলীপ কুমারের নায়িকা হন ‘‌সঙ্গদিল’–এ। ছবি ফ্লপ করে। তারপর থেকে একাধিক ছবিতে কখনও দ্বিতীয় নায়িকা, কখনও কমেডিয়ান, কখনও খলনায়িকা হিসেবে অভিনয় করেছিলেন শাম্মি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘‌দিল আপনা প্রীত পরায়ি’‌, ‘‌ইত্তেফাক’‌, ‘‌জব জব ফুল খিলে–র’‌ মতো ছবি। কিশোর কুমারের সঙ্গে ‘‌হাফ টিকিট’‌ ছবিতে তাঁর কমিক টাইমিং–এর প্রশংসা আজও করে বলিউড। পরিচালক সুলতান আহমেদের সঙ্গে ৭ বছরের বিবাহিত জীবনে ইতি টেনে ১৯৮০ সালে বাপেরবাড়ি ফিরে যান শাম্মি। সেসময় তাঁকে ফের বলিউডে কাজ পাইয়ে দিতে সাহায্য করেন নার্গিস, রাজেশ খান্না, সুনীল দত্ত, দিলীপ কুমারের মতো শাম্মির বন্ধুরা। এমনকি ১৯৮৫ সালে নিজের প্রযোজিত ছবি ‘‌পিঘল্‌তা আসমান’‌ ফ্লপ করায় যখন অর্থাভাব ফের গ্রাস করে তাঁকে, তখন দূরদর্শনে কাজের ব্যবস্থা করে দেন রাজেশই। কমেডি সিরিয়াল ‘‌দেখ ভাই দেখ’‌, ‘‌জবান সাম্ভালকে’‌, ‘‌শ্রীমান শ্রীমতি’–তে শাম্মির অভিনয় আজও দর্শকদের মনে আছে। বহু হিন্দি ছবিতেও পার্শ্বচরিত্রে এরপর অভিনয় করেছিলেন শাম্মি। তাঁর অভিনীত শেষ ছবি ২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘‌শিরিন ফরহাদ কি তো নিক্‌ল পড়ি’‌।   
     ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top