আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আলিবাগের বাংলো নিয়ে বেকায়দায় পড়ে গেলেন শাহরুখ খান। তাঁর এই বাংলোকে বেনামি সম্পত্তির তকমা দিয়ে বাজেয়াপ্ত করেছে আয়কর দপ্তর। শাহরুখকে নোটিশ পাঠিয়ে রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে বিচারবিভাগীয় কর্তৃপক্ষের কাছে। ৩ মাসের মধ্যে জবাব দিতে হবে শাহরুখকে। বিচারবিভাগের সিলমোহর পেলেই আয়কর দপ্তর এব্যাপারে ফৌজদারী মামলার পথে হাঁটবে। 
বেনামি সম্পত্তি লেনদেন নিষিদ্ধকরণ আইনে গত মাসেই দেজা ভু ফার্মসকে নোটিশ পাঠিয়েছিল আয়কর দপ্তর। জানা গেছে বলিউড বাদশার সংস্থা রেড চিলিজ এর দপ্তরে মেল মারফত নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁর নাকি কোনও জবাব আসেনি। আয়কর বিভাগের অভিযোগ, কৃষিকাজের জন্য আলিবাগের এই কৃষিজমি কিনেছিলেন বলিউডের অভিনেতা। কিন্তু পরে দেখা যায় ২০ হাজার স্কোয়ার মিটার ওই জমিতে বিলাসবহুল খামার বাড়ি তৈরি করেছেন শাহরুখ খান। যাতে বাংলোর পাশাপাশি সুইমিং পুল ও একটি ছোট হেলিপ্যাডও রয়েছে। এখানে নানা সময়ে ছুটি কাটাতে আসেন শাহরুখ। গতবছর এই ফার্ম হাউসেই তাঁর জন্মদিনের অনুষ্ঠান হয়েছিল। 
পরিসংখ্যান বলছে ২০০৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর শস্য উৎপাদন, উদ্যান পালনের জন্য নথিভুক্ত হয়েছিল দেজা ভু ফার্মস প্রাইভেট লিমিটেড। যার অধিকর্তা হিসেবে দেখানো হয়েছিল নমিতা ছিবা, রমেশ ছিবা ও সবিতা ছিবার নাম। দেজা ভু ফার্মসের আর এক ডিরেক্টর মোরেশ্বর আজগাওনকরকে সম্পত্তির মালিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এই জমিতে চারটি প্লটের উপর একটি বাংলো থাকবে বলে জানানো হয়। 
ফার্ম হাউসটি রয়েছে ১৯৯৬০ বর্গমিটার জায়গার উপর। আয়কর আধিকারিকরা জানান, শাহরুখ খান দেজা ভু ফার্মসকে ৮.‌৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছেন। ওই টাকা দিয়েই দেজা ভু জমিটি কিনেছিল। জমিটি ছিল কৃষিযোগ্য। সে কারণেই মোরেশ্বর নিজেকে কৃষিবিদ বলে দাবি করেছিলেন। জমিটি ওই কোম্পানির নামে করা এই শর্তে যে তিন বছরের মধ্যে সেখানে কৃষিকাজ শুরু হবে। যদিও ২০১১ সালে মোরেশ্বরের জায়গায় ডিরেক্টর হিসেবে আসে নমিতা ছিবার নাম। যিনি শাহরুখের শ্যালিকা। রমেশ ছিবা শ্বশুর। সবিতা ছিবা শাশুড়ি। আলিবাগ তহসিলদারের অভিযোগ, কোনও অনুমতি না নিয়েই সেখানে সুইমিং পুল বানানো হয়েছে। এজন্য নোটিশও পাঠানো হয়। শাহরুখ খান এবিষয়ে এখনও মুখ খোলেননি। 

জনপ্রিয়

Back To Top