অলোকপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
রাত পোহালেই তাঁর শতবর্ষ শুরু। এবং এই শতবর্ষ আরও নতুন নতুন সত্যজিৎ–‌আবিষ্কারে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। সেই আভাসই দিলেন সত্যজিৎ–‌পুত্র সন্দীপ রায়।
১৮ বছর আগে বিশপ লেফ্রয় রোডের বিখ্যাত এই বাড়িতে বিশ্ববন্দিত পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের কত যে অমূল্য সম্পদ থেকে গেছে তার ইয়ত্তা নেই। নিজের ব্যস্ততায় প্রচুর ফাইলপত্র, কাগজ, নেগেটিভ, চিঠিপত্র ইত্যাদি তন্নতন্ন করে দেখার অবকাশ হয়নি সন্দীপ রায়ের। লকডাউনে মাসখানেকের এই অবসর অমূল্য এই গুপ্তধনের আবিষ্কারে রোমাঞ্চকর হয়ে উঠেছে, স্বীকার করলেন সন্দীপ রায়।
১৯২১–‌এর ২ মে সত্যজিতের জন্ম। এবার ২ মে, শনিবার তাঁর শততম জন্মদিন এবং জন্মশতবর্ষের সূচনা। পরিকল্পনা ছিল বছরে তিন–‌চারটে প্রদর্শনী হবে ওঁকে নিয়ে। তাতে তাঁর আঁকা, চিত্রনাট্যের খসড়া, লেখালেখি  ও সঙ্গীতকার সত্যজিতের পরিচয় পাওয়া যাবে বিস্তৃতভাবে। চিত্রপরিচালক সত্যজিতের নানান মুহূর্তের ছবি নিয়ে প্রদর্শনী তো থাকবেই। ঠিক আছে, অপু ত্রয়ী (পথের পাঁচালী, অপরাজিত, অপুর সংসার)–‌সহ ‘‌রেস্টোর’‌ করা ছবির প্রদর্শন। 
সন্দীপ গত এক মাসে যা যা সত্যজিৎ–‌সম্পদ আবিষ্কার করেছেন, তার মধ্যে আছে সত্যজিতের তোলা অজস্র ফটোগ্রাফ। বিদেশে স্টিল ক্যামেরায় অজস্র ছবি তুলেছেন। সেইসব ছবিতে কত যে বিশ্বখ্যাত মানুষের ছবি আছে, তার ইয়ত্তা নেই।
সত্যজিতের তোলা এইসব অপ্রকাশিত ছবি নিয়ে প্রদর্শনী যেমন হবে, তেমন বইও প্রকাশিত হবে এইসব ছবি নিয়ে। ছবিগুলির পরিচিতি তৈরি করছেন সন্দীপ। ‌শতবর্ষ উদ্‌যাপনে এইসব অমূল্য আলোকচিত্র নতুন সংযোজন। 
সত্যজিৎ বাবা সুকুমার রায়ের ‘‌আবোল তাবোল’‌ ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন। এবার তাঁর ইংরেজি অনুবাদে একই বইয়ে থাকবে উপেন্দ্রকিশোর, সুকুমার ও নিজের লেখা। বইয়ের নাম— ‘‌থ্রি রে’‌জ’‌। 
প্রকাশিত হবে সত্যজিতের প্রবন্ধ সঙ্কলন। সন্দীপ বললেন, ‘‌বাবার অনেক ভাল ভাল সাক্ষাৎকার দেশ–‌বিদেশের বহু পত্রিকায় বেরিয়েছে। গৃহবন্দি হয়ে আরও কিছু দুর্মূল্য সাক্ষাৎকার পাওয়া গেল। সব নিয়ে শতবর্ষেই প্রকাশিত হবে এক সাক্ষাৎকার সঙ্কলন।’‌
‘‌সন্দেশ’‌–‌এর একাধিক বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হবে, যা একান্তভাবেই হবে সত্যজিৎ সংখ্যা। সত্যজিতের লেখার পাশাপাশি থাকবে ওঁকে নিয়ে লেখা বিশিষ্টজনেদের মূল্যবান আলোকপাত। থাকবে চিঠিপত্র। সন্দীপ বললেন, অনেক অমূল্য চিঠিও আবিষ্কার হয়েছে। দেশ–‌বিদেশের বহু বিশিষ্ট মানুষের সত্যজিৎকে লেখা চিঠি। সত্যজিৎ–‌গবেষণায় যা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেবে। সন্দীপ এইসব চিঠির নির্বাচিত সঙ্কলন প্রকাশ করতেও চান। রাজ্য সরকারেরও সত্যজিৎ–‌শতবর্ষ পালনের নানান পরিকল্পনা ছিল। আছেও। জানালেন সন্দীপ। 
আরেকটি উল্লেখ্য আবিষ্কারের কথা জানালেন সন্দীপ— বাবা যখন লেক অ্যাভিনিউ থেকে লেক টেম্পল রোডে এলেন, তখনও প্রচুর কাগজ, ফাইল, জিনিসপত্র এসেছিল সঙ্গে। সেগুলো সেখান থেকে চলে আসে বিশপ লেফ্রয় রোডে। বললেন, পুরনো অ্যালবামে পারিবারিক অমূল্য বহু ছবি পাওয়া গেছে, যা এখনও অপ্রকাশিত। এছাড়া, ‘‌পথের পাঁচালী’‌র শুটিং চলাকালীন বেশ কিছু ছবি তুলেছিলেন বংশী চন্দ্রগুপ্ত (পথের পাঁচালীর শিল্পনির্দেশক), সুব্রত মিত্র (সিনেমাটোগ্রাফার), দীনেন গুপ্ত (সহকারী সিনেমাটোগ্রাফার) ও সৌমেন্দু রায় (ক্যামেরা কেয়ারটেকার)। নেগেটিভগুলো অক্ষত। এই বিশাল প্রাপ্তির আঁচ নিয়ে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি দোসরা মে–‌কে। 

জনপ্রিয়

Back To Top