সৌগত চক্রবর্তী‌: ‌• ‘‌ফেলুদা’ কে নিয়ে তথ্যচিত্র ‘‌ফেলুদা:‌ ফিফটি ইয়ার্স অফ রয়ে’‌জ‌ ডিটেকটিভ’‌ তথ্যচিত্রের জন্য জাতীয় পুরস্কার পেলেন। প্রাথমিক অনুভূতি কীরকম?‌
•• দারুণ, দারুণ আনন্দ হচ্ছে। আমি তো এই ফিল্ম মেকিং জগতে একজন আনকোরা। তবুও এই স্বীকৃতি একদম প্রথম ছবিতেই। চারদিক থেকে অভিনন্দন বার্তা আসছে। যেন একটা ঘোরে আছি। আমি এই পুরস্কার ডেডিকেড করছি পৃথিবী জোড়া ফেলুদা ভক্তদের, আমার ছবির কলাকুশলীদের আর পুনা ফিল্ম ইনস্টিটিউটে আমার এডিটিং-‌এর শিক্ষক যোগেশ মাথুর ও সন্দীপ রায় এবং ললিতা রায়ের উদ্দেশে। শেষের দু’‌জন না থাকলে, আমাকে উৎসাহ না দিলে এই কাজটা করা সম্ভব হত না।
• ফেলুদার প্রতি আপনার এই যে আগ্রহ সেটা ঠিক কী থেকে?‌ ফেলুদার গল্প পড়ে না ছবি দেখে?‌
•• অবশ্যই গল্প পড়ে। কারণ গল্প তো এসেছে প্রথম। তার অনেক পড়ে ফেলুদাকে নিয়ে ছবি তৈরি হয়েছে। যতদূর মনে পড়ছে আমার পড়া ফেলুদার প্রথম গল্প ‘‌বাদশাহী আংটি’‌। তার পরে পড়ি ‘‌সোনার কেল্লা’‌। তারপর একে একে ফেলুদার সব গল্প পড়ে ফেলা। এবং সেটা ফেলুদার প্রতি আমার আগ্রহ থেকেই। তারও অনেক পরে ‘‌সোনার কেল্লা’‌ ছবি দেখলাম।
• শুনলাম পুরস্কার পাওয়ার পরেই আপনি সন্দীপ রায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। আপনার সাফল্যে কী বললেন তিনি?‌
•• বাবুদা (‌সন্দীপ রায়)‌ তো দারুণ খুশি। আমি যেতেই জিজ্ঞেস করলেন, কী রে সিনেমাটা কবে বানাচ্ছিস?‌
• তাহলে এবার কাহিনিচিত্র তৈরি করছেন?‌
•• হ্যাঁ, আমার ফিচার ফিল্মের জন্য আপাতত দুটো গল্প বেছেছি। একটা সত্যজিৎ রায়ের লেখা ‘‌মাস্টার অংশুমান’‌ আর একটা আমারই লেখা একটা থ্রিলার। তবে আমার ইচ্ছে থ্রিলারটাই আগে তৈরি করা। কারণ, এই তো সত্যজিৎ রায়ের একটা বিষয় নিয়ে ছবি তৈরি করলাম। এর পরেই আবার সত্যজিৎ রায়ের গল্প নিয়ে ছবি তৈরি করলে সেটা একটু একঘেয়ে লাগতে পারে।
• এর আগে কি কোনও তথ্যচিত্র বা ছোট ছবি তৈরি করেছেন?‌
•• না, না। একেবারেই নয়। তবে সিনেমা প্রচুর দেখেছি বা এখনও দেখি। আর সেই ক্ষেত্রে আমি কোনও বাছবিচার করি না। সেই সিনেমা দেখতে দেখতেই একটা বোধ তৈরি হয়েছিল। সেটাই আমাকে সাহস দিয়েছে এই ছবি তৈরির।
• সাধারণত এই দেশে তথ্যচিত্র বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি পায় না। আপনি এই সাহস দেখালেন কীভাবে?‌
•• আরে সাহস তো আমাকে দিয়েছে এই পৃথিবীর ‘‌ফেলুদা’ ভক্তরা। নাহলে হয়তো এই ছবিটা করাই আটকে যেত। নিজের পুঁজি ভেঙে এই ছবিটা করতে গিয়ে তো আটকে গিয়েছিলাম। তারপর পৃথিবীর ফেলু ভক্তরা চাঁদা তুলে এই ছবি সম্পূর্ণ করলেন। তবে আমার ছবিই যে এই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি পেল তা নয়। এর আগে অন্তত দুইজন এই সাহস দেখিয়েছেন। সুপ্রিয় সেন ২০০৫ সালে তাঁর তথ্যচিত্রর বাণিজ্যিক মুক্তি ঘটিয়ছেন। আর একজন ইন্দ্রাণী। পুরো নামটা মনে নেই। তিনিও তথ্যচিত্রের জন্যেই জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন।
• ছবির বাণিজ্যিক‌ মুক্তির পর এই শহরে কীরকম উন্মাদনা দেখলেন?‌
•• সেটা তো ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমার মনে একটা সম্ভাবনা ছিলই যে এই ছবির বাণিজ্যিক মুক্তি ঘটালে সাফল্য আসবেই। কিন্তু সেটা যে এতটাই তা কল্পনাও করতে পারিনি। পরপর দু’‌সপ্তাহ হাউসফুল হয়েছে। আমার মোবাইলের ইনবক্স ফুল হয়ে গেছে দর্শকের প্রশংসায়। আর আমি দেখেছি এই দর্শকের একটা বড় অংশ ১‌৮/‌১৯ বছরের নতুন প্রজন্ম। যাঁদের আমরা ওয়াই জেনারেশন বলতে অভ্যস্ত। যাঁরা আমাদের মতো একটা ফেলুদা পড়ে অধীর আগ্রহে আর একটা ফেলুদার গল্প পড়ার জন্য একটা বছর হাপিত্যেশ করে বসে থাকতে হয়নি। এই ওয়াই জেনারেশনের ফেলুদার প্রতি আগ্রহ দেখে মনে হয়েছে ফেলুদা অমর হয়ে থাকবেন। তাঁর জনপ্রিয়তার মৃত্যু নেই।  ‌
ছবি:‌ সঙ্কর্ষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

জনপ্রিয়

Back To Top