আজকালের প্রতিবেদন: প্রয়াত হলেন অভিনেতা মৃণাল মুখোপাধ্যায়। বাংলা সিনেমার উত্তম–‌উত্তর নায়ককুলের অন্যতম। একসময় সদ্য তরুণ কোনও নায়ক বা পার্শ্বনায়ক চরিত্র থাকলেই ডাক পড়ত যাঁর। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৬। ক্যান্সারে ভুগছিলেন। সঙ্গে জন্ডিসও আক্রমণ করেছিল। অবশেষে মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস পড়ল তাঁর। মৃত্যুকালে রেখে গেলেন জনপ্রিয় গায়িকা ও অভিনেত্রী কন্যা জোজো, অভিনেতা পুত্র দেবপ্রিয় ও কন্যা মডেল টিনা মুখোপাধ্যায়কে। এদিন রাতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হল কেওড়াতলা শ্মশানে।
মৃণাল মুখোপাধ্যায় জন্মসূত্রে ছিলেন জামশেদপুরের ছেলে। জন্ম ১৯৪৩ সালে। পড়াশোনা করেছেন রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে কলকাতায় চলে আসেন এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার ডিগ্রি করেন সংখ্যাতত্ত্ব বিষয়ে। বরাবরই পড়াশোনায় ভাল ছাত্র ছিলেন মৃণাল। তবে পাশাপাশি অভিনয়ের নেশাও ছিল খুব। অভিনয় করতেন মঞ্চে।
পর্দায় প্রথম অভিনয়ের সুযোগ আসে ১৯৬৫ সালে। অগ্রগামী পরিচালিত ‘‌শঙ্খবেলা’‌ ছবিতে। ছোট্ট একটি পার্শ্বচরিত্রে। ছবি হিট করে। নজরে পড়ে যান মৃণালও। দু’‌বছর পরে ডাক আসে অরুন্ধতী দেবীর কাছ থেকে। তিনি তখন বানাতে চলেছেন ‘‌ছুটি’‌ কিশোর প্রেম নিয়ে বেদনাবিধুর এক ছবি। নতুন মুখ চাই। নায়িকা বেছেছেন নন্দিনী মালিয়াকে। বিপরীতে বাছলেন মৃণাল মুখোপাধ্যায়কে। নিষ্পাপ মুখের এক তরুণকে। ছবির শেষে যাঁর বেদনায় চোখের জল ফেলবে দর্শককুল। হলও তাই। দর্শকেরা রুমাল ভিজিয়ে বেরোতেন হল থেকে। ছবি বক্স অফিস সাফল্য পেল। অরুন্ধতী পরিচালিকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেলেন। আর প্রথম নায়ক হয়েই পায়ের তলায় জমি পেয়ে গেলেন মৃণাল। সঙ্গে পেলেন সেরা অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার।
ঢুকে পড়লেন তপন সিংহ ক্যাম্পে। ‘‌আপনজন’‌, ‘‌এখনই’‌, ‘‌আঁধার পেরিয়ে’‌ সব ক’‌টিতেই অভিনেতা হিসেবে প্রশংসা পেলেন। কিন্তু কোনওটাতেই আর একা নায়ক নন। ‘‌অনিন্দিতা’‌ করলেন। তাতে শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় থাকলেও মৃণাল মুখোপাধ্যায়ের চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এ ‌ছবির আবার গান হিট করলেও, ছবি হিট হল না। আস্তে ‌আস্তে গ্রহণ লাগতে শুরু করল মৃণাল মুখোপাধ্যায়ের নায়ক কেরিয়ারে। পেশাদার মঞ্চে নিয়মিত কাজ করতেন। আস্তে আস্তে সে–জায়গাটা দুর্বল হলে ঢুকে পড়লেন দূরদর্শনের ধারাবাহিকে। প্রথম মেগা ‘‌জননী’‌তে চরিত্রাভিনেতা হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। এবং এরপর একদা কিশোর নায়ক মৃণাল মুখোপাধ্যায় হয়ে উঠলেন বাংলা ছবির নিয়মিত খলনায়ক। ঈষৎ কমেডি মেশানো একটা ছাঁচে তাঁকে ব্যবহার করা হত ছবির পর ছবিতে। এর মাঝে কয়েকটি হিন্দি ছবিতেও কাজ করেছেন। গানের গলা ছিল ভাল। মঞ্চে গানের অনুষ্ঠানও করেছেন একটা সময় নিয়মিত। শেষদিকে বাংলা ছবি ‘‌পোস্ত’তে ভাল কাজ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা সিনেমা ইতিহাসের একটা পাতায় দাঁড়ি পড়ল চিরকালের মতো। সদাহাস্যময় মানুষটির জন্য ইন্ডাস্ট্রিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।‌

জনপ্রিয়

Back To Top