ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত: এরকম একটা ঘটনা যে ঘটতে পারে, ভাবতেই পারিনি। ওঁর তুলনা উনি নিজেই। কী মর্মান্তিক, কী বেদনাদায়ক, বোঝাতে পারব না। চোখের জল বাধ মানছে না। পরশু লস এঞ্জেলসে এসেছি। এখানে পতি পরমেশ্বর, বারান্দা আর রাজকাহিনি— আমার এই তিনটে ছবির স্ক্রিনিং আছে। একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কিন্তু মন বসাব কী করে? এরকম খবর কী ভাবা যায়! এতটা আকস্মিক যে, নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারিনি। কতটা যে মর্মান্তি‌ক খবর আমার কাছে, তা কাউকে বোঝাতে পারব না। ভাবতেই পারছি না। কাউকে একটুও জানান না দিয়ে এভাবে চলে যাওয়া যায়! কেন চলে গেলেন? কোনও দিন তো দেখে বোঝা যায়নি, এতটা হৃদয়ের ব্যথা রয়েছে ওরকম একজন সুন্দর মানুষের মধ্যে। একজন ছটফটে, অফুরন্ত জীবনীশক্তির মানুষ চিরঘুমে শায়িত। নাহ্‌, মেনে নিতে পারছি না। ‘হাওয়া হাওয়াই’ আইকন এভাবে হাওয়ায় মিশে গেলেন! এ জন্যই কি লিপ দিয়েছিলেন ‘‌কিসি কে হাত না আয়েগি ইয়ে লেড়কি’তে! কত ছবির কত অসাধারণ গান, কত অসাধারণ অভিনয়ের টুকরো আজ কোলাজের মতো চোখের সামনে ঘোরাফেরা করছে। একটার পর একটা এসে স্মৃতি উসকে দিয়ে যাচ্ছে। কী ভীষণ জীবন্ত সে সব! সত্যিই বিশ্বাস করতে পারছি না। কিছুতেই না। ভারতীয় চলচ্চিত্রের হয়তো সবথেকে কালো দিন। এরকম একটা ভার্সেটাইল অভিনেত্রী আর হবে না। ঠিক যেমন হবে না ওরকম একটা নিখাদ মনের সহজ মানু্ষ। আমরা তো বড়ই হলাম ওঁকে দেখে দেখে। সদমা, হিম্মতওয়ালা, লমহে, মিস্টার ইন্ডিয়া বা হালের ইংলিশ ভিংলিশ— কী অসাধারণ অভিনয়! যখনই পর্দায় এসেছেন, কাঁপিয়ে দিয়েছেন। চোখ, মন— দুটোই যেন জুড়িয়ে গেছে। আমার কাছে শ্রীদেবীর ছবি মানেই ছিল একটা দুর্দান্ত এবং দারুণ উপহার। অন্য সব গিফট তার কাছে ম্লান। ওঁর সৌন্দর্যও তো ছিল ভুবন ভোলানো। চোখ জুড়োনো। যেন কোনও স্বপ্নরাজ্যের মুকুটহীন সম্রাজ্ঞী। শুধু বলিউডই তো নয়, দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমাতেও তাঁর প্রতিভার আলো ফেলেছেন একই রকমভাবে। যেখানেই হাত দিয়েছেন, সোনা ফলেছে। যোগ্যতা আর প্রতিভার অদ্ভুত সহাবস্থান ঘটেছিল শ্রীদেবীর জীবনে, কাজে। ওঁর চলে যাওয়াটা যে ভারতীয় সিনেমার কত বড় ক্ষতি, তা বলে বোঝানো যাবে না। এখনও অনেক কিছু দেওয়ার ছিল। আমরা বঞ্চিত হলাম। কষ্টটা এতটাই হৃদয় নিঙড়ানো যে, কথায় বোঝানো অসম্ভব। ভগবান এত নিষ্ঠুর কেন?‌ কেন তিনি প্রিয় মানুষদের কেড়ে নেন এত কম দিনে?‌ দেশ থেকে এতদূরে আছি। কিন্তু মনটা দেশেই পড়ে আছে। চোখের জল বাধ মানছে না কিছুতেই। মনে হচ্ছে একদম নিজের কাউকে হারিয়েছি। কোনও শিল্পীর চলে যাওয়ায় যখন সারা দেশ কাঁদে, তখন বোঝা যায় তাঁর জনপ্রিয়তা। তাঁর অবদান। শ্রীদেবী সেরকমই একজন শিল্পী। অভিনয়ে যিনি সকলের নিজের মানুষ হয়ে উঠতে পেরেছিলেন। মনে হচ্ছে ছুটে চলে যাই। একবার দেখে আসি শেষবেলায়। কাছে গিয়ে একবার স্যালুট জানাই। শ্রী থাকবেন শ্রী নিয়েই। আমাদের হৃদয়ে, আমাদের সিনেমার আত্মায়, অস্তিত্বে।

জনপ্রিয়

Back To Top