অদিতি রায়: ‌নাম ‘‌রানি’‌ হলেও তার হাবভাব, সাজসজ্জা, কাজকর্মে কোথাও নামমাহাত্মের ছিটেফোঁটা নেই!‌ একে তো অতি সাধারণ চেহারা, জামাকাপড়ও মলিন, না পারে ইংরেজি বলতে, না পারে নিজের মাতৃভাষা বাংলাটাও ঠিকঠাক বলতে!‌ তারওপর আবার কানে শোনেনা মেয়েটা!‌ তাকে বলা হয় এক, সে করে আর এক। তবুও এহেন মেয়েটির প্রতি অগাধ স্নেহ মাইকেলের। মাইকেল যখন সিনেমা বানাতে যায়, তখন রানিকেই করে নেয় তার প্রধান সহকারী!‌ ফলে যা হওয়ার তাই হয়, ঘেঁটে ঘ বোধহয় একেই বলে!‌
এ হল আসলে ‘‌ফিল্ম উইদিন ফিল্ম’‌। ৯ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে সত্রাজিৎ সেনের ‘মাইকেল‌’‌। ‘‌মাইকেল’‌-‌এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ‘রানি‌’। এই সাদামাটা, হাস্যকর ‘‌রানি’‌র‌ চরিত্রে যাঁকে দেখা যাবে তিনি চেহারা বা আদবকায়দায় সম্পূর্ণ বিপরীত!‌ আপাদমস্তক ফ্যাশনদুরস্ত পারদর্শী সায়নী দত্ত। যাঁকে এতদিন গ্ল্যামার সর্বস্ব চরিত্রেই দেখেছেন দর্শক।
এটাই তো চ্যালেঞ্জ। বলছেন সায়নী। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে, চুলটা কোনওমতে বেঁধে একই জামা পরে রোজ চলে যেতেন শুটিংয়ে। ওইভাবেই হয়ে উঠতেন ‘রানি‌’‌।‌ বিন্দুমাত্র মেকআপের ছোঁয়াও নিষিদ্ধ ছিল পরিচালকের কড়া হুকুমে!‌ ‘রানি‌’‌র বেশিরভাগ দৃশ্যই ছিল ‘‌মাইকেল’‌ এবং ‘ময়ূরবাহন‌’‌-‌এর সঙ্গে। অর্থাৎ মীর এবং সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গেই স্ক্রিন শেয়ার করেছেন সায়নী। তাই মনোযোগ আর সাজগোজের ওপর ছিল কই?‌ ঠিকমতো অভিনয়টা করতে হবে তো!‌ তারওপর চরিত্রটা পুরোটাই কমিক। এটা‌ তো আরও বড় চ্যালেঞ্জ। হাস্যরস এবং ভাঁড়ামির মধ্যে যে সুক্ষ্ম বিভাজনটা আছে, সেটা অতিক্রম না করাটা বেশ কঠিন ব্যাপার, স্বীকার করলেন অভিনেত্রী।
‘মাইকেল‌’‌-‌এর পাশাপাশি ‘‌কায়া’‌-‌তেও সিনেমা নির্দেশকের (‌কৌশিক সেন)‌ সহকারী হিসেবে অভিনয় করেছেন সায়নী। এই ছবিও মুক্তি প্রতীক্ষায়। যদিও ‘কায়া‌’‌তে সায়নীকে তাঁর স্বাভাবিক গ্ল্যামারাস অবতারেই দেখা যাবে। আপাতত ফিল্ম কেরিয়ার নিয়ে যথেষ্ট খুশি তিনি। ব্যক্তিগত কিছু অনিশ্চয়তার কারণে বেশ কিছুদিন অভিনয় থেকে দূরেই ছিলেন সায়নী। ছবি বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও দ্বিধার মধ্যে ছিলেন। এবার গা ঝাড়া দিয়ে ময়দানে নেমেছেন। আর ফিরে তাকাবেন না, জানিয়ে দিলেন। ‘মাইকেল‌’‌ তাঁর জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। আরও কিছু ছবির কাজ শুরু হবে এও জানালেন।
কেরিয়ারের গতি তো উর্ধমুখী, এবার কি মন দেওয়া নেওয়ার কথা ভাবছেন?‌ কোনও প্রেম নেই জীবনে, সাফ জানালেন সায়নী। সঙ্গে শোনালেন একটা গল্প। এক বন্ধুকে (নৃত্যশিল্পী সুদর্শন চক্রবর্তী‌)‌ সায়নী জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোমার সাফল্যের মন্ত্র কী?‌ বন্ধুর জবাব ছিল, প্রেমে না পড়া!‌ প্রেমে পড়লে ফোকাস পুরো ঘেঁটে যায়!‌ হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন। কাজেই শুটিং না থাকলেই দেশে বিদেশে ঘুরতে বেড়িয়ে পড়েন। বলেই খিলখিল করে হাসতে শুরু করলেন সায়নী।‌

জনপ্রিয়

Back To Top