সংযুক্তা বসু: • ‘‌ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মোটি’‌ ছবিতে অনেক পুজোআচ্চা করতে হয়েছে আপনাকে। দেবদেবী, পুজোআচ্চা এ সবে বিশ্বাস করেন?‌
•• দাদু নাস্তিক ছিলেন। বাড়িতে আর কেউ পুজোআচ্চা করেন না। আমি দিদার কাছে মানুষ হয়েছি। ওঁর ঠাকুর দেবতা আমার কাছেই রয়ে গিয়েছে। তাই রোজই পুজো করি।
• এ ছবিতে আপনি একজন মহিলা পুরোহিতের ভূমিকায়। এবার কোনও বারোয়ারি দুর্গাপুজোয় পৌরোহিত্য করবেন নাকি?‌
•• (‌হাসি)‌ ও সব ছবির জন্যই থাক। তবে যেসব মহিলা পুরোহিত এখন পুজো করেন তঁাদের প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন আছে। বাড়িতে যদি দুর্গাপুজো হয় তাহলে পুরোহিত হওয়ার কথা ভেবে দেখতে পারি। (‌ঈষৎ মজা করে)‌।
• ‘‌ব্রহ্মা জানেন’‌ করতে গিয়ে কীরকম পুজোআচ্চা শিখলেন?‌
•• ছবিতে যেসব পুজো এসেছে সেগুলো শিখেছি। লক্ষ্মী পুজোর ঘটস্থাপন, আচারবিধি, সরস্বতী পুজোর পদ্ধতি, বিয়ে দেওয়া, সিঁদুরদানের মন্ত্র শিখেছি। এমনকী শ্রাদ্ধের মন্ত্রও।
• সংস্কৃত শিখেছেন?‌ পৌরোহিত্য কার কাছে শিখলেন?‌
•• হ্যঁা, সংস্কৃতের অধ্যাপক পোখরাজ চক্রবর্তীর কাছে সংস্কৃতের পাঠ নিয়েছি। পুজোর আচার পদ্ধতি একজন পুরোহিত মশাই শিখিয়েছেন, মানে, বেসিক যেগুলো। ছবিতে সামবেদীয় মন্ত্র পাঠে পুজো করি তাই তার মধ্যে রবীন্দ্রসঙ্গীত ও তঁার কবিতা আছে। মহিলা পুরোহিত নন্দিনী ভৌমিকও এভাবেই পুজো করেন।
• আন্তর্জাতিক নারী দিবস ৮ মার্চ। আর তার দু’‌দিন আগে ৬ মার্চ রিলিজ করছে ‘‌ব্রহ্মা জানেন.‌.‌.‌’‌ –‌এর মতো নায়িকা–‌প্রধান ছবি। কেমন লাগছে?‌
•• ২০২০–‌র নারী দিবসকে ডেডিকেট করেই এই ছবি। খুব ভাল লাগছে পুরুষশাসিত সমাজের কুক্ষিগত ধ্যানধারণা ভেঙে একটা ছবিতে পুরোহিতের ভূমিকায় আমি।
• নন্দিনী রায়–‌শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রযোজক সংস্থা উইনডোজ এখন প্রথিতযশা, কেমন লাগল এই হাউসের সঙ্গে প্রথম কাজ করে?‌
•• আমার কাছে এটা একটা অপরচুনিটি। এর সমসাময়িক, প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে ছবি করছেন ওঁরা যে ওঁদের ছবি এলেই সেটা ভাল চলছে। মানুষের খুব ভাল লাগছে। সৌভাগ্য যে আমি এমন একটা সংস্থার সংস্পর্শে এসেছি। তা ছাড়া অরিত্র মুখোপাধ্যায় এ ছবির পরিচালক, চিত্রনাট্য খুব সুন্দর করে লিখেছেন জিনিয়া সেন। এঁরা দু’‌জন কাজ করার সময় যথেষ্ট ক্রিয়েটিভ লিবার্টি দিয়েছেন।
• মায়ের নাম শতরূপা সান্যাল। প্রথমত পশু চিকিৎসক। তারপর সেই পেশা ছেড়ে অভিনয়, সিনেমা ও তথ্যচিত্র নির্মাণ। এত কাজ করেও মা হিসেবে কতটা পাশে থাকতে পেরেছেন সারা জীবন?‌
•• হান্ড্রেড পার্সেন্ট পাশে থেকে বড় করেছেন। আমাদের দুই বোনের প্রেরণা মা। আমি যে এখন অভিনয় করি, প্রোডাকশন হাউস চালাই, স্কুল চালাই, এনজিও করি— একসঙ্গে এত রকম কাজ করার শিক্ষা মায়ের কাছেই।
• বেশ কিছু বছর ধরে মুম্বই, কলকাতা যাতায়াত করে কাজ করছেন। কাজের পথটা এত মসৃণ হল কী করে?‌
•• দেখতে মসৃণ মনে হয়। আসলে নয়। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে কাজ করতে হয়। স্ট্রাগল আছে। দু’‌সপ্তাহ মুম্বইতে থাকি, দু’‌সপ্তাহ কলকাতায়। হেকটিক। কারণ দু’‌জায়গাতেই অভিনয় ছাড়াও বহু পণ্যের ব্র‌্যান্ড ফেস আমি। ওইখানে একটা সুবিধে, একটা কাজ থেকে চেনওয়াইজ আরেকটা কাজের যোগাযোগ হয়।
• কীরকম ভাবে?‌
•• অনুষ্কা শর্মার সঙ্গে ‘‌পরি’‌ ছবিতে কাজ করার সময় রজত কাপুরের সঙ্গে আলাপ হয়। সেখান থেকে একটা শর্ট ফিল্ম ‘‌হাউ অ্যাবাউট আ কিস’‌। আমার বিপরীতে রজত। একটা অসমবয়সি প্রেমের সম্পর্ক ও শিক্ষার্থীর ক্রাইসিস নিয়ে এ ছবির গল্প আমারই লেখা। পরের মাসে জি ফাইভে মুক্তি পাবে।
• কালকি কেকলার সঙ্গে ‘‌নেকেড’‌ ছবিতেও তো একজন সাংবাদিকের চরিত্রে অভিনয় করলেন।
•• এটাও ওই চেনওয়াইজ আসা কাজ। একটা বাস্তব চরিত্র থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গল্পটা লিখি। বিষয়:‌ অনলাইন হ্যারাসমেন্ট। খুব সমসাময়িক বিষয়। সাংবাদিকের চরিত্রে অভিনয় করে ভাল লেগেছিল কারণ আমার জীবনে এ পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে সেরা কো–‌অ্যাক্টর কালকি।
• আর পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়?‌ ওঁর সঙ্গে তো ‘‌পরি’‌তে একসঙ্গে কাজ করলেন?‌
•• পরমদা ফ্যান্টাস্টিক অ্যাক্টর। মানুষ হিসেবেও পছন্দ করি। খুব বুদ্ধিদীপ্ত। পরিচালনার কাজটাও সুপরিকল্পিতভাবে করে। ওর পরিচালিত ‘‌খেলেছি আজগুবি’‌ ছবিতে পরমদার বিপরীতে কাজ করেও খুব ভাল লাগল। আরও কাজ করতে চাই একসঙ্গে।
• আর অনুষ্কা শর্মা?‌ বিরাট কোহলির স্ত্রী। ওঁরই প্রোডাকশন ‘‌পরি’‌তে কাজ করার অভিজ্ঞতা। যেখানে মুখ্য নায়িকা আবার অনুষ্কাই!‌
•• অনুষ্কা প্রোডাকশন চালান, কিন্তু কারও কাজে হস্তক্ষেপ করেন না।
 ‌• টলিউডে কোন পরিচালকের সঙ্গে কাজ করে সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন?‌
•• রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে কাজ করে খুব কমফর্টেবল লাগে। রাজদাও সর্টেড বা সুপরিকল্পিত ডিরেক্টর।
• সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনি তো খুব অ্যাক্টিভ। সব সময় ছবি পোস্ট করছেন, আপডেট দিচ্ছেন, কমেন্ট করছেন। এত সময় পান কী করে?‌ সবসময় অনলাইন থেকে কাজ হয় কীভাবে?‌
•• না না আমি কাজের ফঁাকে দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ে অনলাইন থাকি। মিডিয়া ফলোয়িং কত জানেন?‌ ইনস্টাগ্রামে ১৪ লক্ষ আর ফেসবুকে ২০ লক্ষ। সোশ্যাল মিডিয়া আমাকে একটা অনবদ্য প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে নিজেকে ও নিজের কাজকে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে। ব্যবসা সংক্রান্ত সব যোগাযোগের ক্ষেত্রেই সোশ্যাল মিডিয়াকে সিরিয়াসলি নিই। আর অভিনয়, সিনেমা তো আছেই।
• কিন্তু একটা আধুনিক মাধ্যম, ওয়েব সিরিজে আপনি এখনও নেই। কেন?‌
•• ওয়েব সিরিজে অনেক সময় যায়। আমার অনেক রকম কাজের দায়িত্ব নেওয়া আছে। যদি একান্ত ভাল ওয়েব সিরিজের চরিত্র আসে তবেই কাজ করব।
• আপনার দিদি চিত্রাঙ্গদা চক্রবর্তীও সুঅভিনেত্রী। যদি কোনও দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় দু’‌বোনে?‌
•• প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনও প্রশ্নই নেই। আমরা দু’‌বোন সেভাবে বেড়েই উঠিনি যে মন কষাকষি হবে। তা ছাড়া আমরা দুজন আলাদা ধরনের মানুষ।
• এই যে এত সব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন, বাবা উৎপলেন্দু চক্রবর্তী কি সে সম্পর্কে জানেন?‌
•• শুনুন, কোনও আইডিয়া নেই। বছর তিনেক আগে সংবাদপত্র মারফত একটা বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। তারপর থেকে কোনও খবর নেই। আমাদের কোনও উৎসাহও নেই। আমার মা‌কে যতটা কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে, যে যন্ত্রণা পেতে দেখেছি তাতে আমি এখনও এত মহান হইনি যে সব ক্ষমা করে দেব। থাক ওসব কথা।
• সোশ্যাল মিডিয়ায় এত খোলামেলা পোশাক পরা ছবি পোস্ট করেন। তার পাশে আবার লাল পেড়ে শাড়ি পরে ‘‌ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মোটি’‌–‌তে পুরোহিতের রোলে একেবারে নায়িকার ভূমিকায়?‌ দর্শক ভারসাম্য রাখতে পারবেন তো?‌
•• দর্শক কীভাবে নেবেন সেটা তঁাদের মানসিক প্রস্তুতি ও গ্রহণযোগ্যতার ব্যাপার। আমি বিকিনিও পরি, লাল পেড়ে শাড়িও। এবং দুটো পোশাকই গ্রেসফুলি ক্যারি করি। যতদিন পারব ততদিন নিজেকে এই দুই ইমেজেই রাখব।
• ‘‌ব্রহ্মা জানেন.‌.‌.‌’‌ ছবির একটা ওয়ান লাইনারে গল্পের আভাস দেওয়া যাবে?‌
•• একটি মেয়ের গল্প। তার নাম শবরী। শবরীর বিয়ে হয় এক রক্ষণশীল পরিবারে। সেই পরিবারের লোকেরা জানে যে শবরী অধ্যাপনা করে। আড়ালে সে যে পৌরোহিত্য করে সেটা তারা জানে না। এইটুকুই বলব। বাকিটা জানতে হলে ছবি দেখতে হবে।
• ‘‌ব্রহ্মা জানেন.‌.‌.‌’‌–‌এর নায়িকা তো বিবাহিতা, আপনি বিয়ে করবেন কবে?‌
•• দেরি আছে। ভালই দেরি। (‌হাসি)‌
• তেমন কেউ আছেন?‌
•• সেটা তো বিয়ের আগে জানা যাবে। রহস্যটা থাক।
• দেশ–‌বিদেশে বেড়িয়ে বেড়ান। তেমন কোনও ভ্রমণপিপাসু বন্ধু আছে?‌
•• (‌প্রাণখোলা হাসি)‌ আরে না না। সব জায়গাতেই দেশে বিদেশে অনেক আত্মীয়পরিজন আছেন। তঁাদের কাছেই বেড়াতে যাই।‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top