সৌগত চক্রবর্তী: • জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পর অভিনেতা ঋদ্ধি সেনের জীবন কতটা পাল্টাল?
•• (‌হেসে)‌ একদমই পাল্টায়নি। থিয়েটার, সিনেমা নিয়ে একদম আগের মতোই আছি।
• এই যে জাতীয় পুরস্কার পেলে, কেমন লাগছে?‌
•• নিঃসন্দেহে এটা খুবই ভাল অভিজ্ঞতা। কোনওদিনই কল্পনা করিনি যে জাতীয় পুরস্কার পাব। কিন্তু সত্যি বলতে কি, যখন জাতীয় পুরস্কারের কথা ঘোষণা হল তখন টেরই পাইনি। আসলে তখন মুম্বইতে একটা শুটিং-‌এ ব্যস্ত ছিলাম। যখন খবরটা শুনলাম ঠিক তার ১০মিনিট পরেই শুটিং। কাজেই আমার মনে হয়েছিল, যে কারণে এই পুরস্কার সেই ব্যাপারটাতেই মনসংযোগ করা উচিত। ফলে জাতীয় পুরস্কার ব্যাপারটা কী, কেউ পেলে তার কীরকম অনুভূতি হওয়া উচিত সেটা ভাবার সময় ছিল না। পরে অবশ্য খুবই ভাল লেগেছিল। আসলে এটা আমার কাছে ছিল কোয়ায়েট আনএক্সপেক্টেড একটা ঘটনা। ফলে এর বিশালত্ব অনুভব করতে একটু সময় লেগেছিল। পরে যখন সবার কাছে থেকে ফোনে শুভেচ্ছা বার্তা আসতে লাগল, তখন আস্তে আস্তে এই প্রাপ্তির ব্যাপারটা মাথায় ঢুকলো।‌
• সেই সময় তো কাজলের সঙ্গে ‘‌হেলিকপ্টার ইলা’‌র শুটিং ছিল। সেটে তোমার পুরস্কার পাওয়ায় কাজলের রিঅ্যাকশন কী?‌
•• কাজল ম্যাম খুব খুশি হয়েছিলেন। সেদিন বিকেলেই আমার জন্যে কেক আনা হয়েছিল। আমরা সবাই মিলে কেক কেটে আনন্দ করেছিলাম।
• ‘‌নগরকীর্তন’ ছবিতে তোমার চরিত্রের নাম ‘‌পরিমল’‌ বা ‘‌পুটি’‌। কীরকম এই চরিত্রটা?‌‌
•• ‘‌পুটি’‌ এমনই একটা মেয়ে—তাকে আমি মেয়েই বলব, কারণ সেখানে একজন পুরুষের আড়ালে একটা নারীসত্ত্বা লুকিয়ে আছে। সে এমনই একটা মেয়ে যে আর পাঁচজনের মতোই ভালবাসতে চায় বা ভালবাসা চায়। কীর্তনদলের বংশীবাদক মধুও তাকে সেই সম্মানটাই দেয়। তার জীবনে প্রেম আসে। অনেক বাধাবিপত্তির মধ্যে দিয়েই সেই প্রেমটা এগিয়ে যায়। সবাই বলতে পারেন এটা একটা অন্যরকম প্রেমের গল্প। কিন্তু আমার কাছে তা নয়। এটাও একটা নারী-‌পুরুষের প্রেমের গল্প। রাধা আর কৃষ্ণের সম্পর্কটা যেমন পবিত্র, মধু আর পুটির সম্পর্কটাও ততখানিই পবিত্র।
• চিত্রনাট্য পাওয়া, তারপর ফ্লোরে যাওয়া—এর মাঝখানে এই চরিত্রের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলে?‌
•• তেমন কোনও প্রস্তুতি ছিল না। আসলে কৌশিককাকুর সঙ্গে কাজ করাটা ভীষণ আনপ্রেডিক্টেবল। সেখানে একটা স্বতঃস্ফূর্ততা থাকে। সেখানে আগে থেকে একটা চরিত্রের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে গেলে অসুবিধে হয়। কারণ, সেই আনপ্রেডিক্টেবিলিটিটা হারিয়ে যায় সেখানে। চরিত্রটা নষ্ট হয়ে যায়। আমি শুধু নজর দিয়েছিলাম, পুটি কেমন করে ভ্যানিটি ব্যাগটা নেবে বা ওড়নাটা ক্যারি করবে। এগুলো আমার মা আর বান্ধবীকে লক্ষ্য করে আয়ত্ত করেছি। পাশাপাশি অনেক ট্রান্সজেন্ডার মানুষের সঙ্গে দেখা করেছি। ওঁরা ওঁদের নানা অভিজ্ঞতা আমার সঙ্গে শেয়ার করেছেন। আসলে স্ক্রিপ্টটা এত সুন্দর করে লেখা যে একজন অভিনেতা শুধু সেটা পড়েই বুঝতে পারবে তাকে কী করতে হবে। তারওপর ঋত্বিকদাও আমাকে সুন্দর করে গাইড করে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।
• একটা ছবি নিয়ে একজন অভিনেতার দুটো পাওনা থাকে। প্রথমটা মানে পুরস্কারটা তুমি পেয়েই গেছ। কিন্তু ছবিটা দর্শক এখনও দেখেননি। কী মনে হচ্ছে?‌
•• আমার তো মনে হয় দর্শকের ছবি দেখাটাই আসল। মানে মানুষ কতখানি সেই ছবিটাকে গ্রহণ করলেন। নিজের শহরের মানুষ যতক্ষণ না সেই ছবিটা দেখছেন ততক্ষণ যে পুরস্কারই পাই না কেন কিছুই ম্যাটার করে না। এই ধরণের পুরস্কার পাওয়াটা নিঃসন্দেহে খুবই আনন্দের ব্যাপার। কিন্তু যার জন্যে এই পুরস্কার, সেটা যদি মানুষই না দেখল তাতে কতখানি লাভ হবে?‌ সেই জন্যেই খুব উত্তেজিত হয়ে আছি ১৫ ফেব্রুয়ারি আমার শহরের মানুষ এই ছবি দেখে কী বলবেন। ওঁদের রিয়্যাকশনটা কিন্তু আমার কাছে জাতীয় পুরস্কারের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
• এই ছবি দেখার পর দর্শকের কাছ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া আশা করছ?‌
•• আশা করব, এর পর যখন গাড়ির কাচে ঠকঠক করে কেউ ১০টাকা চাইবেন তখন কেউ ঘুমোবার ভান করবেন না বা মোবাইলে মনযোগ দেবেন না। কারণ তাঁরাও মানুষ, আমাদের মতোই তাঁরা ভালবাসা চান, ভালবাসতে চান।
• আপাতত আর অন্য কী কাজ করছ?‌
•• এই তো ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসে আমাদের একটা ওয়েবসিরিজ লঞ্চ হচ্ছে। সেখানে আমি পরমদা (‌পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়)‌, পায়েলদি (‌পায়েল সরকার)‌, সুরঙ্গনা—সবাই মিলে কাজ করেছি। সৃজিতদার (‌সৃজিত মুখোপাধ্যায়) ‘‌ভিঞ্চি দা’‌ ছবিতে একটা গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স আছে আমার। আর বাকিটা এখনই বলতে চাইছি না, কারণ আমার খুব একটা তাড়া নেই। একটু আনন্দ করে কাজ করতে চাই। তবে, ‘‌ফেলুদা’‌ আবার শুরু হবে। একটা নতুন পোর্টালে আসবে এই সিরিজ।
• আর থিয়েটার?‌
•• ‘‌স্বপ্নসন্ধানী’র ব্যানারেই নতুন থিয়েটার আসছে। উৎপল দত্তর ‘‌একলা চলো রে’‌ আবার নতুন করে তৈরি হচ্ছে। সেখানে আমি বা বাবা কৌশিক সেন তো আছেনই, থাকবেন দেবশঙ্কর হালদারও।‌ ‌‌‌‌
ছবি: বিপ্লব মৈত্র

জনপ্রিয়

Back To Top