রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়: আমার সিনেমা জীবনের প্রথম নায়কই তো তাপস পাল। তাপসদা। দাদা। সে ‌ছবির নাম ‘‌দান প্রতিদান’‌। সালটা ১৯৯৪। উনি তখন প্রবলভাবে স্টারডমের নায়ক আর আমি এক্কেবারে নবাগতা, নবিশ। নতুন কাজ করছি বলে শুটিংয়ের সময় খুব সহযোগিতা করেছিলেন, যাতে আমি কাজ করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করি।
তারপর তো বহু বহু ছবিতেই একসঙ্গে কাজ করেছি। প্রথমদিকে দাদা আমার বিপরীতে নায়ক ছিলেন। দ্বিতীয় পর্বে আমার ভাশুর, দাদা, ভাই.‌.‌.‌ এ সব ভূমিকাতেই তাপসদা অভিনয় করেছেন। অর্থাৎ আমার আর তাপসদার সহ অভিনয়ের যাত্রাটা বেশ লম্বা ছিল। ছিল বৈচিত্রময়ও।
বুঝতেই পারছেন এটা আজকের পরিচয় নয়। সুদীর্ঘ সময়ের যোগাযোগ। অনেক রকম সময়ের বাঁক পেরিয়ে এসেও দাদার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না এমনটা খুব কম সময় হয়েছে। মধ্যেখানের কয়েকটা বছর বাদ দিলে দাদার সঙ্গে চিরকাল যোগাযোগ ছিল।
এই তো মাত্র কিছুদিন আগেও একটা অনুষ্ঠানে দেখা হল আমাদের। ক‌.‌.‌.‌.‌ত গল্প হল!‌ বড় ভাল মানুষ। মজার মানুষ। ওঁকে আমি বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বলে মনে করি। অপূরণীয় ক্ষতি হল বাংলা চলচ্চিত্র জগতের। খুব শূন্যতা বোধ হচ্ছে। এতটাই কাতর যে সব গুছিয়ে বলার মানসিকতায় নেই। ওই অনবদ্য অভিনয়, আর ওই ভুবনভোলানো হাসি যে আর দেখতে পাব না ভাবতেই পারছি না।
আমি, প্রসেনজিৎ, তাপসদা একসঙ্গে প্রচুর ছবি করেছি। আউটডোর শুটিংয়ে গেলে আমাদের যে কত মজার মুহূর্ত তৈরি হত তার কোনও হিসেব নেই। শুটিংয়ের ফঁাকে একসঙ্গে খাওয়া‌দাওয়া গানবাজনা লেগেই থাকত। ওকে নিয়ে আজ হয়তো অনেকে অনেক কথা বলবেন, আমি সেদিকে যেতেই চাই না।
একটা কথাই বলব, তাপসদা ইন্ডাস্ট্রির একজন অতি আপন মানুষ। এ ভেরি গুড সোল। সেই সঙ্গে অভিনেতা তাপস পালের দক্ষতাকেই স্মরণ করছি।
ক’‌দিন আগেও দাদার সঙ্গে দেখা হল। বললেন, ‘‌রচনা, আমার তোদের সঙ্গে কথা বলতে খুব ভাল লাগে রে.‌.‌.‌!‌ বাড়িতে আয়, তুই আমার বাড়িতে আয়। কবে আসবি বল না?‌’‌ কতবার যে ফোন করে বাড়িতে ডেকেছেন। বড় আপশোস রয়ে গেল যে সময় সুযোগ করে দাদার বাড়ি যাওয়া হয়ে উঠল না। ওর ডাকগুলো আজ বড় করুণভাবে কানে বাজছে।
দাদা চলে গেলেন। সেই অঘটনের দিনেও আমি ‘‌দিদি নম্বর ওয়ান’‌–‌এর শুটিং করে চলেছি। অনুষ্ঠানের অতিথিদের সঙ্গে হাসছি, রসিকতা করছি। চোখে কোনও জল নেই। বুকের ভেতর অঝোরে কান্না। আমাদের শিল্পীদের জীবনটাই এমন!‌ কী আর করব!‌
এত বেদনার একটা খবর। সকালবেলা যখন প্রথম জানি বা দেখি, মনে হয়েছিল বাজে কথা। পড়ছি যখন অনলাইনে তখন ভাবলাম কত ফেক নিউজ তো রোজই আসে, এটাও তেমন ফালতু খবরই হবে!‌ কেউ হয়তো মজা করছে!‌
এখনও মনে হচ্ছে এটা সর্বৈব মিথ্যা কথা। দাদার মৃত্যুসংবাদটা ফেক নিউজ  হলেই ভাল হত।
কেন যে ফেক হল না!‌‌‌‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top