সৌগত চক্রবর্তী: • বেশ কয়েক বছর ধরে ‘‌দিদি নম্বর ওয়ান’‌ সঞ্চালনা করতে করতে রচনা ব্যানার্জি আর ‘‌দিদি নম্বর ওয়ান’ সমার্থক হয়ে গেছে। এটা কীভাবে দেখছেন?‌ কোনও অসুবিধে হয়?‌‌
•• না, অসুবিধে হবে কেন?‌ বরং আমি খুব হ্যাপি। ইট ইজ মাই চয়েস যে আমি ‘‌দিদি নম্বর ওয়ান’‌।
• আপনার সঞ্চালনায় এই শো আজও সমান জনপ্রিয়। এই জনপ্রিয়তার রহস্যটা কী?‌
•• সত্যিই বলছি, আমি জানি না। আসলে আমার মনে হয় এর রহস্যটা এক জায়গায়তেই লুকিয়ে আছে—আমি প্রথাগতভাবে ‘‌অ্যাঙ্কারিং’‌ করার মানসিকতা নিয়ে এই শো সঞ্চালনা করি না। বরং, আমি সবচেয়ে বেশি জোর দিই, এই শোয়ে যাঁরা অংশ নিতে আসেন তাঁদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশতে। কারণ আমি নিজেকেও একজন অতি সাধারণ মানুষ বলে মনে করি। তবে এই জনপ্রিয়তার পেছনে আমার ‘‌দিদি নম্বর ওয়ান’‌ টিমেরও একটা বড় অবদান আছে।
• কীরকম?
•• এই শো তো একটা গেম শো। এখানে কারা আসবেন, খেলা চলার সময় কোন গান গাওয়া হবে, কোন শিল্পীদের কারা গান করার জন্যে ডাকা হবে সেটা ওঁরাই ঠিক করেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল এডিটিং। এই শোয়ের জনপ্রিয়তার একটা বড় কারণ লুকিয়ে আছে সেখানে। আসলে এই ধরনের একটা মঞ্চে অনেকেই অনেক কিছু করতে চান, বলতে চান। তার মধ্যে থেকে আসল নির্যাসটুকু সাপল্যের সঙ্গে বের করে আনেন ওঁরাই। 
•‌ আপনি কি মনে করেন, বাংলা ছবিতে যতটুকু সময় পাওয়ার দরকার ছিল তা আপনি পাননি?‌
•• আমার তো ঠিক উল্টোটাই মনে হয়। মনে হয়, বাংলা ছবিকে আমার যতটুকু সময় দেওয়ার দরকার ছিল তা দিতে পারিনি।
• কেন এরকম মনে হয়?‌
•• ‘‌দুরন্ত প্রেম’‌ করার পরেই আমি বাংলা থেকে চলে যাই। পরে আমি আবার যখন বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে যখন আসি, তখন অলরেডি আমি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। কারণ আমি বেশিরভাগ সময়েই সাউথে কাজ করেছি। মি.‌ অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে ‘‌সূর্যবংশম’‌ করে ফেলেছি। বাংলায় খুব কম ছবিতে কাজ করেছি। তার মধ্যেই আমার বিয়ে হয়ে গেল, সংসার হয়ে গেল। এই কারণেই মনে হয়ে আমি এই ইন্ডাস্ট্রিকে সময়ই দিইনি।
• ‘‌সুর্যবংশম’‌ ছবির কথা যখন উঠল, তখন জিজ্ঞেস করি, অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা কেমন?‌
‌•• দারুণ অভিজ্ঞতা। মি.‌‌ বচ্চন একজন মাটির মানুষ। আমি দেখেছি যাঁরা সত্যিই বড় অভিনেতা বা অভিনেত্রী হন, তাঁরা একদমই মাটির মানুষ হন। তাঁরা খুব সিম্পল লাইফ লিড করেন। এবং তার জন্যেই এঁরা এমন একটা পজিশনে শেষপর্যন্ত পৌঁছতে পারেন।
• অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে এখন যোগাযোগ আছে?‌
•• নিয়মিত যোগাযোগ বলতে যা বোঝায়, তা অবশ্যই নেই। তবে উনি আমাকে মনে রেখেছেন। আমাকে রেকগনাইজ করতে পারেন।
• ইদানীং কালে ‘‌রামধনু’‌ ছাড়া আর কোনও উল্লেখযোগ্য ছবিতে কাজ করেননি। কারণটা কী?‌
•• আসলে, আমার সমস্ত মনযোগ ‘‌দিদি নম্বর ওয়ান’‌ কে ঘিরে। আমি একটা মাসের ১২/‌১৩ দিন শুটিং করি। বাকি সময়টা ছেলেকে দিতে হয়। আর, এটা এমন একটা শো যা বছরে ৩৬৫দিন চালু থাকে। আমাকে তাই ব্যাঙ্কিং-‌এর দিকেও খেয়াল রাখতে হয়। খুবই ট্রেসফুল একটা কাজ। এর বাইরে বেরিয়ে সময় বের করা সম্ভব নয়।
• আপনি কি তাহলে ‘‌দিদি নম্বর ওয়ান’‌ নিয়েই সন্তুষ্ট?‌
•• একদমই তাই। কিন্তু এটাও ঠিক দিনের শেষে আমি কিন্তু একজন অভিনেত্রী, একজন শিল্পী। আর শিল্পীরা  কখনও স্যটিসফায়েড নন। ১৫০টা ছবি করার পরেও আমার সেই খিদে মেটেনি। আরও ছবি করতে চাই।
• তাহলে ছবি করছেন না কেন?‌
•• সত্যি কথা বলতে কী, ‘‌দিদি নম্বর ওয়ান’‌ আর আমার ছেলে—এই দুটোকে বাদ দিয়ে যদি আমাকে এখন ছবি করতে হয় তবে সেটা এতটাই ভাল ছবি হতে হবে যে আমাকে এই বাঁধাধরা শিডিউল থেকে টেনে বের করে আনতে পারবে। আদারওয়াইজ আই অ্যাম নট ইন্টারেস্টেড।
• কিন্তু এখন তো অনেক নতুন প্রতিভাবান পরিচালক নিত্য-‌নতুন ভাবনা নিয়ে ছবি করতে আসছেন?‌
•• নিশ্চয়ই। এঁরা অনেকেই ভাল কাজ করছেন। সব সময় যে ‘‌স্টাম্পড’‌ ডিরেক্টররাই ভাল ছবি করবেন এমন কোনও কথা নেই। যদি ভাল গল্প নিয়ে তাঁরা আসেন তবে নিশ্চয়ই করব। কিন্তু আমার জন্য সেটা খুব ক্রাইসিস সিচ্যুয়েশন হবে কারণ, ‘‌বাই চয়েস’‌ আমি ছবি করি না। কাজেই, ওই যে বললাম, আমাকে সেই চয়েস ইগনোর করে যে ছবি বার করে নিয়ে আসতে পারবে, সেই ছবিই আমি করব।

ছবি:‌ সুপ্রিয় নাগ
 

জনপ্রিয়

Back To Top