শঙ্কু আবার আমাজনে

সৌগত চক্রবর্তী: ১৯৬৫-‌তে সন্দেশ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশ পেয়েছিল প্রফেসর শঙ্কুর কাহিনী। সেই হিসেবে এখন শঙ্কুর বয়স ৫৩ বছর। আর এই ৫৩ বছর পরে বড়পর্দায় প্রথম মুখ দেখাতে চলেছেন তিনি। শঙ্কুর স্রষ্টা সত্যজিৎ রায়ের এই গল্পের নাম ‘‌প্রফেসর শঙ্কু ও এল ডোরাডো’‌। এই গল্প নিয়েই প্রফেসর শঙ্কুর এই প্রথম ছবির নাম ‘‌নকুড়বাবু ও এল ডোরাডো’‌। এর আগেই গত নভেম্বরে  ব্রাজিলের সাওপাওলোতে হয়ে গেছে ছবির বেশ কিছুটা শুটিং। এবার পরবর্তী পর্যায়ের শুটিংয়ের জন্যে দলবল নিয়ে ব্রাজিলের মানাউস অভিযান শুরু করলেন পরিচালক সন্দীপ রায়। দলবল বলতে সঙ্গে আছেন প্রফেসর শঙ্কু ওরফে ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায় এবং নকুড়বাবু ওরফে শুভাশিস মুখোপাধ্যায়। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে শুটিং। চলবে এক সপ্তাহ।
শঙ্কুর গল্পে এই নকুড়বাবুর একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁর অত্যাশ্চর্য ক্ষমতা নিয়ে একাধিকবার শঙ্কুকে আসন্ন বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন এই নকুড়বাবু। আর তাঁর প্রথম আগমন এই ‘‌প্রফেসর শঙ্কু ও এল ডোরাডো’‌ দিয়েই।
সাওপাওলোতে শুটিং চলার সময় মুখ্য চরিত্রের অভিনেতা ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায় অসুস্থ পড়লে শুটিং বন্ধ রেখে ফিরে আসতে বাধ্য হন সন্দীপ। আসলে এই গল্পের তিনটি পর্যায়। প্রথম পর্যায়ে আছে গিরিডি, দ্বিতীয় পর্যায়ে সাওপাওলো এবং শেষ পর্যায়ে আমাজনের জঙ্গল। সেই শেষ পর্বেরই শুটিং শুরু হবে এবার মানাউসে।
কিন্তু মানাউস কেন?‌ ব্রাজিলের উত্তর-‌পশ্চিমে এই মানাউস। এখান থেকেই আমাজন জঙ্গলের শুরু।

অসংখ্য শাখা নদী আর ঘন জঙ্গল। সেখানেই কোথাও লুকিয়ে আছে রূপকথার দেশ এল ডোরাডো, যেখানে সব কিছুই সোনার। তবে কি এবার সোনার সন্ধানে যাচ্ছেন প্রফেসর শঙ্কু?‌ একদমই নয়। আসলে গিরিডিতে থাকার সময়েই শঙ্কুর কাছে তাঁর আবিষ্কারগুলো নিয়ে এক প্রদর্শনীর প্রস্তাব আসে সাওপাওলো থেকে। আর সেই সময়ই তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন নকুড়বাবু। তিনি তাঁর অতীন্দ্রীয় ক্ষমতার বলে জানতে পেরেছেন তিনি সঙ্গে না থাকলে শঙ্কুর ভয়াবহ বিপদ। অগত্যা তাঁকে সঙ্গে নিয়েই রওনা হন শঙ্কু। তাঁর সঙ্গে যোগ দেয় দুই বন্ধু ক্রোল আর সন্ডার্স। আর সাওপাওলোতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় ধনকুবের সলোমন ব্লুমগার্টেনের সঙ্গে। যিনি টাকার জোরে শঙ্কুর সব আবিষ্কারের স্বত্ত্ব কিনে নিতে চান। রাজি না হলে মিস্টার লোবোকে ঘুষ দিয়ে হাতিয়ে নেন শঙ্কুর সব আবিষ্কারের ফর্মুলা। তারপরই শঙ্কুকে বাঁচাতে নকুড়বাবু দলবল সহ রওনা হন আমাজনের জঙ্গলে।
ক্রোল, সন্ডার্স, লোবো, ব্লুমগার্টেন ছাড়াও এই গল্পে আছেন প্রফেসর রডরিগেজ, জাদুকর মাইরন, মিস্টার জো হপগুড প্রমুখ বিদেশী চরিত্র। এই সব চরিত্রে অভিনয় করবেন ব্রাজিলের অভিনেতারা। এছাড়াও আছে শঙ্কুর গিরিডির বাড়ির কেয়ারটেকার প্রহ্লাদ ও প্রতিবেশী অবিনাশবাবু আর পোষা বেড়াল নিউটন। অবিনাশ বাবু এই গল্পে থাকবেন কী না জানা নেই। তবে থাকার কথা প্রহ্লাদের। তবে অবশ্যই থাকবে বেড়াল নিউটন। না, কম্পিউটার গ্রাফিক্সে নয়, জলজ্যান্ত ও শিক্ষিত একটি বেড়াল। ছবির গোড়ার দিকের শুটিং হয়েছে হাজারিবাগে।
এই ছবিতে কম্পিউটার গ্রাফিক্সও একটা বড় ভূমিকা নেবে। বিশেষ করে এল ডোরাডো সৃষ্টিতে। সেই কাজ শুরুও হয়ে গেছে। সবশেষে বড়দিনের নির্ধারিত সময়েই মুক্তি পাবে শ্রীভেঙ্কটেশ ফিল্মস প্রযোজিত এই ছবি। ‌