সৌগত চক্রবর্তী: • বড়পর্দার ছবিতে আপনি অভিনয় করছেন নিয়মিত। এর মধ্যেই হঠাৎ করে টেলিভিশন ধারাবাহিকে ফিরে এলেন কেন?‌
•• আসলে অনেকদিন ধরেই একটা নতুন কিছু করবার কথা ভাবছিলাম। তাই ‘‌সুপার ফ্যামিলি’‌ সঞ্চালনার এই প্রস্তাবটা পেয়ে রাজি হয়ে যাই। এই ধারাবাহিকের প্লে-‌ব্যাকও করেছি আমি। এই প্রথমবার। এটাও একটা অভিজ্ঞতা বটে।
• শুটিং-‌এর অভিজ্ঞতা কী?‌
•• পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে শুটিং করতে হচ্ছে। এটা আসলে একটা গেম শো। পাঁচটা রাউন্ডে হবে এই প্রতিযোগিতা। ‘‌ধর তো দেখি’‌, ‘‌লে হালুয়া’‌, ‘‌শাঁখের করাত’‌, ‘‌কপাল জোরে’‌ আর বাকিটা ব্যক্তিগত’‌। এই ধারাবাহিকের কল্যাণেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে নানা কথা হচ্ছে তাঁদের মনের মধ্যে থাকা নানা আশা আকাঙ্খার সাক্ষী হতে পারছি। সব মিলিয়ে একটা প্রাণবন্ত অভিজ্ঞতা।
• কিন্তু এতে আপনার সিনেমা অভিনয়ে কোনও ক্ষতি হবে না?‌
•• না, হবে না। এটা তো একটা গেম শো। একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চলবে। কাজেই যথেষ্ট সময় পাওয়া যাবে সিনেমায় অভিনয়ের জন্য।
• আপনার প্রথম ছবি ‘‌চিরদিনই তুমি যে আমার’‌। সুপার হিট এই ছবির পরেই আপনি ও রাহুল একসঙ্গে বেশ কিছু ছবিতে সই করেছিলেন। কিন্তু সেই ছবিগুলোর একটাও বক্স অফিসে সফল হয়নি। এখন আফসোস হয় তার জন্যে?‌
•• না। কোনও কিছুর জন্যে আপশোস করি না আমি। আসলে সেই সময়ে নিজেকে একটা পরিচিতির বৃত্তে আনার জন্যেই হোক বা অর্থনৈতিক কারণেই হোক, এই কাজগুলো আমার দরকার ছিল। এই সুযোগে ইন্ডাস্ট্রির বেশ কিছু মানুষের সঙ্গে পরিচিতিও হয়েছিল। কিন্তু সেই সুযোগটা আমি কাজে লাগাতে পারিনি। আসলে আমাকে গাইড করার কেউ ছিল না।
• ‘‌অন্দরকাহিনী’‌ ছবিতে একসঙ্গে পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ছবিটি বিভিন্ন দেশে বেশ প্রশংসাও পেয়েছিল। কিন্তু একটা জটিলতার কারণে এই দেশে সেই ছবি মুক্তি পায়নি। মুক্তি পেলে হয়ত আপনার সিনেমা কেরিয়ার অন্যরকম হতে পারত। আফসোস হয়?‌
•• আগেই তো বলেছি আমি আফসোস নিয়ে বাঁচি না। কী হলে কী হতে পারত তা নিয়ে আমি চিন্তাও করি না। তবে অর্ণবের এই ছবিতে কাজ করে আমার খুব ভাল লেগেছে। মন ঢেলে অভিনয় করেছি। তবে হয়ত আরও ভাল করা যেত।
• বিরসা দাশগুপ্তর বিবাহ অভিযানে একটা ছোট্ট চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। যেখানে আপনার কিছুই করার ছিল না। এরকম চরিত্র বাছলেন কেন?‌
•• ওখানে আমি তো অতিথি শিল্পী হিসেবেই ছিলাম। আর ওরকম ডাকাবুকো মেয়ের চরিত্রে তো আগে অভিনয় করার সুযোগ পাইনি। তাছাড়া, এর একটা কারণ, অনির্বাণ ভট্টাচার্যর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া। অনির্বাণ আমার প্রিয় অভিনেতাদের একজন।
• মূলধারা না কি অন্যধারার ছবি?‌ কোনটা বেশি পছন্দ করেন?‌
•• আমার দুটোই বেশ ভাল লাগে। অন্যধারার ছবিতে মানুষ নিজের ক্রাইসিসকে পর্দায় দেখতে পান। সেখানে নিজেকে রিলেট করার একটা ব্যাপার থাকে। আবার মূলধারার ছবিতে মানুষ একটা লার্জার দ্যান লাইফ দুনিয়ায় থাকেন। যেখানে খারাপ লোকেরা শাস্তি পায়, ভাল লোকেরা জিতে যায়, নায়ক-‌নায়িকা গান গায়—দুটো ছবিতেই কিন্তু বেশ মজা আছে।
• সোহমের সঙ্গে ‘‌প্রতিঘাত’‌ ছবিতে অভিনয় করেছেন। অনেকদিন পরে আবার একটা মূলধারার ছবিতে কাজ করলেন। কেমন লাগছে?‌
••  সোহমের সঙ্গে আগেই কাজ করেছিলাম রাজা চন্দর ছবি ‘‌আমার আপনজন’‌-‌এ। কিন্তু স্ক্রীন শেয়ার বেশি ছিল না। কাজেই আমার আর সোহম-‌দুজনেরই ইচ্ছা ছিল একটা ভাল কাজ করার। তখনই রাজীব বিশ্বাসের এই অফারটা এল। ছবির চিত্রনাট্য পড়ে আমার বেশ পছন্দ হয়েছিল।
• ওয়েব সিরিজ ‘‌হ্যালো’‌য় আপনাকে বেশ ব্যতিক্রমী চরিত্রে দেখা গেছে। সম্প্রতি শেষ হল এই ওয়েব সিরিজের দ্বিতীয় সিজন।
•• খুব চ্যালেঞ্জিং একটা চরিত্র ছিল। একজন সমকামী মেয়ে নীনার চরিত্র। আমার এখনও পর্যন্ত প্রিয় চরিত্রগুলোর একটা এই নীনা। ‘‌হ্যালো’‌ পরিচালক অনির্বাণ মল্লিক এই সুযোগটা আমায় দিয়েছিলেন বলে আমি কৃতজ্ঞ।
• আর কী কাজ করছেন?‌
•• সুজিত মণ্ডলের একটা ছবি করছি। নাম এখনও ঠিক হয়নি। আমার বিপরীতে আছে যশ। 
• আপনার অবসর কাটে কীভাবে?‌
•• গল্পের বই আর ওয়েব সিরিজ আমার সঙ্গী। আর ছবি আঁকা। সময় পেলে এখনও আঁকি।
• আপনার জীবন এখন কীরকম?‌
•• ফাইন। মনে হচ্ছে একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ করলাম। প্রচুর ভুল করেছি, সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি এখন আবার নিজের ট্র‌্যাকে ফিরে এসেছি।

ছবি:‌ সুপ্রিয় নাগ     

জনপ্রিয়

Back To Top