বিনোদনের প্রতিবেদন: ‌‘‌মনের মানুষ’‌ ছবি থেকেই নিজেকে ক্রমশ ভাঙছেন আর গড়ছেন প্রসেনজিৎ। ছবিতে নিজের লুক নিয়ে চিন্তা-‌ভাবনা করছেন, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন। তবে এবার তিনি যে চ্যালেঞ্জটা নিলেন তা সম্ভবত সেরা। এবার সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘‌গুমনামী’‌ ছবিতে সুভাষচন্দ্র বসুর চরিত্রে অভিনয় করবেন তিনি। ‘‌মনের মানুষ’‌-‌এর মুখ্য চরিত্র লালন ফকির বাস্তব চরিত্র হলেও তাঁর চেহারার সঙ্গে পরিচিত ছিলেন না আমজনতা। অন্যদিকে ‘‌অটোগ্রাফ’‌ বা ‘‌বাইশে শ্রাবণ’‌ ইত্যাদি ছবি গুলিতে নিজের লুক পরিবর্তন করলেও সেই সব চরিত্রই কাল্পনিক। কিন্তু সুভাষচন্দ্র বসুর চেহারার সঙ্গে পরিচিত নন, এমন মানুষ ভূ-‌ভারতে কেউ নেই। তাই সেই চরিত্রে অভিনয় করে তাকে দর্শকের সামনে প্রতিষ্ঠিত করা যে বেশ চ্যালেঞ্জের তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
তবে এই চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি বিতর্কও তৈরি হয়েছে এই ছবি ঘিরে। ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনায় সাংঘাতিক ভাবে আহত হয়েছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু। কিন্তু সেই দুর্ঘটনায় তিনি মারা গিয়েছিলেন কী না তার কোনও তথ্যপ্রমাণ নেই। যেটুকু তথ্য হাতে আছে তা দিয়ে সঠিক কোনও সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব নয়। আর সেখান থেকেই তৈরি হয়েছে তাঁকে নিয়ে নানান জল্পনা। তাইওয়ানে বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর বিষয়টিকে জল্পনা বলে নাকচ করে দিয়েছেন বহু ইতিহাসবিদ ও গবেষক।
এই জল্পনাকে বাড়িয়ে দিয়ে ৫০-‌এর দশকে অযোধ্যায় আবির্ভূত হন এক সাধু। তিনি পরিচিত ছিলেন ‘‌কাপ্তান বাবা’‌ বা ‘‌গুমনামী বাবা’‌ নামে। যাঁকে দেখতে অনেকটা সুভাষচন্দ্র বসুর মতো।
আর সেখান থেকেই ‘‌গুমনামী বাবা কি নেতাজি’‌—এই নিয়ে শুরু হয়ে যায় নানা বিতর্ক। যে বিতর্কের আঁচ বাড়িয়েছে অনুজ ধর ও চন্দ্রচূড় ঘোষের লেখা ‘‌কনানড্রাম’‌ বইটি। এই বই অবলম্বনেই সৃজিত তৈরি করেছেন তাঁর ‘‌গুমনামী’‌ ছবির চিত্রনাট্য। কিন্তু ছবি নিয়ে উঠেছে বিতর্ক। তবে, শোনা যাচ্ছে, সৃজিত কোনও বিশেষ মতকেই ‘‌ধ্রুব’‌ বলে মেনে নেননি। সমস্ত সম্ভাবনাই নাকি দেখা যাবে এই ছবিতে। তাই ‘‌গুমনামী’‌ দেখার আগে সঠিক কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। সমালোচকদের একটু অপেক্ষা করা দরকার। 
ছবিতে আগেই বলা হয়েছে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রসেনজিৎ। এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্যে প্রস্থেটিক মেক আপ ব্যবহার করেছেন প্রসেনজিৎ। সোমনাথ কুণ্ডু আছেন সেই মেক আপের দায়িত্বে। সেই মেক আপ করতে প্রসেনজিতের সময় লেগেছে ২ ঘণ্টা। মেক আপ তুলতেও ২ ঘণ্টা। এভাবেই এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তৈরি হয়েছিলেন প্রসেনজিৎ। ছবিতে পাওয়া যাবে আরও কয়েকটি ঐতিহাসিক চরিত্রকে। যেমন জওহরলাল নেহরুর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সঞ্জয় মতিলাল গুরুবক্সানী, মহাত্মা গান্ধীর চরিত্রে দেখা যাবে সুরেন্দ্র রাজনকে। এছাড়াও দুটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে অনির্বান ভট্টাচার্য ও তনুশ্রী চক্রবর্তীকে। অনির্বান অভিনয় করেছেন চন্দ্রচূড় এর ভূমিকায় ও তনুশ্রী অভিনয় করেছেন রণিতার ভূমিকায়। আগামী পুজোয় মুক্তি পাবে এই ছবি। আপাতত মুক্তি পেল তার প্রথম ঝলক। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top