পিয়ালী দাস: • আগে নাম ছিল ‘‌ইংক’‌। সেই ছবি এখন নাম পাল্টে ‘‌শান্তিলাল ও প্রজাপতি রহস্য’‌ হয়ে পর্দায় আসছে। এই ছবিতে আপনার চরিত্রটা কি? 
•• আমার চরিত্রের নাম নন্দিতা। যে একজন সফল অভিনেত্রী, সুপারস্টার। রাজনীতিতে যোগ দিয়েছে। ওর জীবনে সব কিছু যখন স্বাভাবিক ভাবে চলছে, এমন একটা সময় হঠাৎই ওর জীবনে শান্তিলালের আগমনে, রোলার কোস্টার রাইড এর মতো হয়ে যায় ওর জীবনটা। কিন্তু কেন এমন হল?  এমন কী, যা শান্তিলাল খোঁজ করছে বা তাঁর খোঁজ পেয়েছে? যা ওর জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে? সেটা ভালো কি খারাপ, তার জন্য দেখতে হবে ছবিটা। কারণ ১৫ আগস্ট মুক্তি পাচ্ছে 'শান্তিলাল ও প্রজাপতি রহস্য'। এটা ডিটেকটিভ ছবি, থ্রিলার। সে কারণেই ছবি নিয়ে এখন বেশি কিছু বলতে পারছি না। তবে শান্তিলাল আর নন্দিতার  অর্থাৎ একজন সাংবাদিক এবং একজন অভিনেত্রীর এই বন্ডিংটাই ছবির ইউএসপি। নন্দিতার জীবনের সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। তারপর যেটা ঘটে সেটাই রহস্য (হেসে)। 
• এই চরিত্রটা নির্বাচনের কারণ?
•• প্রতিমের সঙ্গে এটা আমার চতুর্থ কাজ। ওর সঙ্গে কাজ করতে এমনিই খুব ভাল লাগে। লেখেও অসাধারণ। এত সুন্দর সুন্দর চরিত্র আমাকে অফার করেছে এর আগেও। ‘‌মাছের ঝোল’‌ এর শ্রীলা। ‘‌মির্চি মালিনী’‌র মালিনী। ‘‌আহারে মন’‌-এর রমনা। নন্দিতা চরিত্রটাও ভীষণ সুন্দর। এ কারণেই ছবিটা করার কথা আমার মনে হয়েছিল। এছাড়া আরও একটা কথা বলব। অনেক ধরনের গোয়েন্দা গল্প নিয়ে তৈরি ছবি তো আমরা দেখি। সেই জায়গা থেকে এটা একেবারেই প্রতিমের নিজস্ব মৌলিক একটা গল্প। সেটাও চরিত্র নির্বাচনের একটা কারণ।
• নন্দিতা চরিত্রের সঙ্গে নিজের কোনও মিল খুঁজে পান?
•• (হেসে) প্রত্যেকটা মেয়েরই নিজস্ব কিছু ইমোশনাল জায়গা থাকে, সেখান থেকে হয়তো কিছুটা মিল খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু নন্দিতার স্ট্রাগল, নন্দিতার জীবন খুবই অদ্ভুত। সাধারণত একটা মেয়ের জীবন এমন হয় বলে আমি শুনিনি, আশেপাশে দেখিওনি। তেমন মেয়েদের সঙ্গে আমার কখনও দেখাও হয়নি। ‘‌আনইউজুয়াল স্টোরি’‌। ওর জীবনের স্ট্রাগলটাও ‘‌এক্সট্রা অর্ডিনারি’‌। সে কারণেই হয়তো নন্দিতা অনেক স্বার্থত্যাগের মধ্যে দিয়ে একটা উচ্চতায় পৌঁছতে পেরেছে। তাছাড়া ওর জীবনের অনেক কথাই গোপন থেকে যায়। সেটাই কি শান্তিলাল জানে? (হেসে)
 • এই চরিত্রের সঙ্গে আপনার আগে অভিনীত কোনও চরিত্রের মিল খুঁজে পান?
•• না না। (একটু ভেবে) টেলিভিশনের জন্য মহানায়ক সিরিয়ালে অভিনেত্রী সুচরিতা সেনের চরিত্র করেছি। তবে ফিচার ফিল্মে এই প্রথম আমি একজন অভিনেত্রীর চরিত্র করছি। 'নাটকের মতো' ছবিতে খেয়া চক্রবর্তী নামে যে চরিত্রে আমি অভিনয় করেছি সে ছিল একজন থিয়েটারের অভিনেত্রী। তার ব্যাকড্রপটা একেবারে আলাদা। আর নন্দিতা হচ্ছে গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের বিখ্যাত অভিনেত্রী। সারাক্ষণ সেজেগুজে থাকা, খুব ইন্টারেস্টিং লাগল চরিত্রটা করতে গিয়ে।
• আপনি তো সব সময় একটু অন্য ধরনের চরিত্র নির্বাচন করেন। ভবিষ্যতে আপনার মেইনস্ট্রিম বা মূলধারার কোনও ছবিতে অভিনয় করার ইচ্ছে আছে কি? 
•• আমি তো বলব 'কণ্ঠ' হান্ড্রেড পার্সেন্ট মেইনস্ট্রিম। তাছাড়া এখন মেইনস্ট্রিমের সংজ্ঞাটা পাল্টে গেছে। এখন আর টিপিক্যাল নাচাগানা মানেই মেইনস্ট্রিম, সেটা ধরা হয় না। ‘‌পাসওয়ার্ড’‌ও মেইনস্ট্রিম ছবি। ‘‌সাঁঝবাতি’‌ও মেইনস্ট্রিম ছবি। সেই অর্থে বাঙালি মেইনস্ট্রিম ছবি বললে অনেক করেছি, করছিও।  তবে রিমেক মেইনস্ট্রিম করিনি বলেই আমার মনে হয়। আসলে সবটাই নির্ভর করে বিষয়ের উপরে। 
• এই প্রসঙ্গেই বলি, লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘‌সাঁঝবাতি’‌ ছবিটা মেইনস্ট্রিম হলেও একটু অন্য ধরনের। এই ছবিতে দেবের সঙ্গে আপনার প্রথম অভিনয়। কিন্তু ভবিষ্যতে দেবের সঙ্গে সো কল্ড নাচা-গানার ছবির অফার পেলে করবেন?
• অবশ্যই করব। নাচা-গানার ছবি করতে চাই। আমার ভালোই লাগবে। কারণ আমি নাচতে খুব ভালোবাসি।
• প্রতিমের সঙ্গে যেমন পরপর ছবি করলেন, ঋত্বিকের সঙ্গেও এ নিয়ে অনেকগুলো ছবি করা হয়ে গেল। ওর সম্পর্কে কী বলবেন?
•• ঋত্বিকের সঙ্গে কাজ করতে সব সময় ভাল লাগে।
• আপনি তো মেগা সিরিয়াল থেকে অভিনয়ে এসেছেন। কিন্তু এখনকার অনেক পরিচালকেরা বলেন, রোজ যাকে টেলিভিশনে দেখা যায় তাঁকে সিনেমাতে নিলে অসুবিধা হবে। আপনি কি এই কথায় বিশ্বাস করেন?
•• না, আমার সেটা মনে হয় না। কারণ আমাদের জেনারেশনের অনেকেই এরকম ছোটপর্দা থেকে সিনেমাতে এসেছে। যেমন আবির, রুদ্রদা, রাহুল, প্রিয়াঙ্কা। সোহমও তাই। এরকম প্রচুর নাম আছে, আমরা যারা টেলিভিশন থেকে কাজ শুরু করেছিলাম। তখন আমরা প্রচুর এক্সপেরিমেন্টও করেছি কাজ নিয়ে। আমার মনে হয়, যে মিডিয়ামেই কাজ কর না কেন, সেটা ম্যাটার করে না। যারা ভাল কাজ করবে তারা অবশ্যই ভাল কাজের সুযোগ পাবে।
• ধরুন লীনা গঙ্গোপাধ্যায় কোনও মেগা সিরিয়ালে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আপনাকে ভাবলেন, মনের মতো চরিত্র হলে কি আপনি অভিনয় করবেন?
•• আমার শেষ টেলিভিশন ছিল লীনাদি'র সঙ্গেই।  তারপর ‘‌মাটি’‌ ছবিটা করলাম। এখন তো ‘‌সাঁঝবাতি’‌ করছি। লীনাদির লেখাও খুব সুন্দর। তাছাড়া প্রত্যেকটা মাধ্যমের একটা কমিটমেন্ট থাকে। যারা মেগা করেন তাদের সারা বছরের একটা কমিটমেন্ট থাকে। সেরকমই আমার এই মুহূর্তে হাতে যা যা প্রজেক্ট রয়েছে, সে সব ছেড়ে এখন টেলিভিশনে আসা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।
• বর্তমানে আর কী কী কাজ করছেন?
•• পুজোতে মুক্তি পাবে ‘‌পাসওয়ার্ড’‌, ক্রিসমাসে মুক্তি পাবে ‘‌সাঁঝবাতি’‌। ‘‌কালি’‌ সিজন-টু হবে। যেটা পরমব্রত প্রোডিউস করছে। হিন্দি-বাংলা দুই ভার্সনেই হবে।
• বিয়ের পর আপনি তো এখন গুয়াহাটির বাসিন্দা। শ্বশুরবাড়িতে বেশি থাকা হচ্ছে না কলকাতায়?
 •• কাজ চলছে বলে অবশ্যই আমি এখন বেশি কলকাতায় থাকছি। 
• ওখানকার অসমিয়া বা অন্য কোনও ছবিতে কাজের অফার পাচ্ছেন?
•• না, এই মুহূর্তে পাই নি।
• আপনি তো বলিউডেও কাজ করেছেন। দর্শক হেট স্টোরি তে আপনাকে দেখেছে? মুম্বইয়ে এই মুহূর্তে কাজের প্ল্যানিং আছে?
•• (থামিয়ে দিয়ে) নেটফ্লিক্স অরিজিনালস এর জন্য আমি একটা ছবি করলাম। ওটার নাম 'বুলবুল'। স্ট্রিমিং হবে ডিসেম্বর বা জানুয়ারি থেকে।
•• কাজ, সংসার, নতুন জীবন সবটা কী ভাবে সামলাচ্ছেন?
• চলে যাচ্ছে (হেসে)। আমার নিজেকে কিছুই সামলাতে হয় না খুব একটা। কাজের মধ্যে থাকি। তাছাড়া বাড়ির কাজ করতেও আমি খুব পছন্দ করি। যখন বাড়িতে থাকি নিজের হাতে অনেক কাজ করি। অনেক সময় খুব মিস করি গুয়াহাটির বাড়ি, পরিবারের মানুষজনদের। যখনই ছুটি পাই ওখানে যাই। সবাই মিলে একসঙ্গে বেড়াতে যাই। আমার হাজব্যান্ডের সহযোগিতায় সব মিলিয়ে একটা ব্যালেন্স হয়েই যাচ্ছে।‌‌‌‌‌

ছবি:‌ বিপ্লব মৈত্র
 

জনপ্রিয়

Back To Top