সোমনাথ মণ্ডল: সুফি কবি মুহম্মদ জয়সীর লেখা কবিতা থেকে অনুপ্রাণিত।‌ আনুমানিক ১৫৪০ সালে রচিত ‘পদ্মাবত’। ৪৭৮ বছর পর নিজস্ব ঘরানায় কবিতার সেই ‘‌পদ্মাবত’‌কে সেলুলয়েডে তুলে ধরলেন পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালি।
সিনেমা নির্মাণের সময় থেকেই বিতর্কের ‌শুরু। কর্ণী সেনার হুমকি চলছে এখনও। সেই সুবাদে সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে ‘পদ্মাবতী’ (‌‌সেন্সর বোর্ডের হস্তক্ষেপে ‘পদ্মাবত’)‌ নিয়ে উৎসাহ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কমবেশি সবাই সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি এবং রানি পদ্মিনী সম্পর্কে খুঁটিনাটি জানতে ইতিহাসের পাতা উল্টেছেন। নয়তো গুগ্‌লের সাহায্য নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার মাল্টিপ্লেক্স এবং সিঙ্গল স্ক্রিনে যাঁরা চোখ রাখলেন, তাঁরা জানতে চেয়েছিলেন, কেন বিতর্ক? কেন কর্ণী সেনা হুমকি দিচ্ছে? ছবিতে কি রাজপুতদের মর্যাদাহানি করা হয়েছে?
পদ্মাবত দেখলেন ওঁরা। কিন্তু খুঁজে পেলেন না রাজপুতদের অমর্যাদা করার মতো কোনও দৃশ্য। সঞ্জয় লীলা বনশালি নিজস্ব মুনশিয়ানায় রাজপুতদের জয়গানই গেয়েছেন। কলকাতায় ২০টি হলে মুক্তি পেয়েছে বহুচর্চিত ছবিটি। প্রতিটি হলেই ছিল কড়া প্রহরা। হলের বাইরে ছিল পুলিসের গাড়ি। ভেতরে সাদা পোশাকে গোয়েন্দারা। আগে থেকেই পুলিসকর্তারা জানিয়ে দিয়েছিলেন, কোথাও কোনও গোলমাল হলে কড়া হাতে মোকাবিলা করা হবে। প্রস্তুতিও ছিল সেরকমই। অন্যান্য রাজ্যে বাধার মুখে পড়লেও, কলকাতায় এদিন কোথাও ছবি প্রদর্শনীতে সমস্যা হয়নি। বেহালার শিলপাড়ার বাসিন্দা অর্ক পাল বাবা–মাকে নিয়ে এসেছিলেন লেক মলে ‘‌পদ্মাবত’‌ দেখতে। অর্ক বনশালির ভক্ত। তাই এই ছবি নিয়ে আকর্ষণ ছিলই। হল থেকে বেরিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘‌বিতর্কের কোনও কারণই থাকতে পারে না। কোনওভাবেই কারও ভাবাবেগে আঘাত হানেননি পরিচালক। এই ছবি রাজপুতদের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে দেয়নি।’‌ গার্ডেনরিচের বাসিন্দা সুজন দাস ‘‌পদ্মাবত‌’‌ সম্পর্কে ‘‌খোঁজখবর’ নিয়েই হলে গিয়েছিলেন। তঁার বক্তব্য, ‘‌এই ছবিতে আলাউদ্দিন খিলজির চরিত্রে অভিনয় করা রণবীর সিংই সবার সেরা। তাঁর অভিনয় সবাইকে ছাপিয়ে গেছে। যদিও অন্যরাও হতাশ করেননি। তবে কিছুটা হলেও দীর্ঘায়িত হয়েছে ছবিটি।’‌ 
কর্ণী সেনার পাশাপাশি রাজপুত মহিলারা জহর ব্রত (সতীদাহ প্রথার মতোই‌) ‌পালনের হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিলেন। কিন্তু সেলুলয়েডের পদ্মিনীর এরকম কোনও অবমাননা হয়নি। এমনকী ‘‌ঘুমুর’‌ গানে দীপিকার কোমরের অংশ ঢাকতে গ্রাফিক্সের সাহায্য নিয়েছেন পরিচালক, জানালেন হীরক বিশ্বাস। তঁার মতে, ‘‌সিনেমার প্রয়োজনেই হয়তো বনশালি নিজস্ব ঘরানায় তৈরি করেছেন এই ছবি। 
বিহার থেকে কলকাতায় ঘুরতে এসেছিলেন প্রণবেশ ঝা। এখানে তাঁর ছেলেমেয়েরা কাজ করেন। ঢুঁ মেরেছিলেন দক্ষিণ কলকাতার নবীনা সিনেমা হলে।
সিনেমাপ্রেমী প্রণবেশ বললেন, ‘‌বনশালির ছোঁয়ায় দীপিকা, শাহিদ, রণবীরের অভিনয় ভাল হয়েছে। তবে এটা পরিচালকের সেরা ছবি বলা যাবে না। বিতর্কের কোনও কারণও খুঁজে পেলাম না।’ মেনকা সিনেমায় বন্ধুদের সঙ্গে ছবি দেখতে এসেছিলেন অমিত ভাওয়াল। তাঁর সাফ কথা, ‘‌প্রতিটি ফ্রেমে রাজপুতের আন–বান–শান তুলে ধরা হয়েছে। অপূর্ব দৃশ্য‌!‌ মেবারের রাজধানী চিতোরের রানা রতন সিংয়ের ভূমিকায় শাহিদ কাপুরকে ভালই লেগেছে। তবে রানি পদ্মিনীর ভূমিকায় দীপিকা পাড়ুকোন আমায় হতাশ করেছে। খিলজির ভূমিকায় রণবীর সেরা।’

জনপ্রিয়

Back To Top