আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ডলবি থিয়েটারে  ৯০তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে জলের জয়জয়কার। এই বছর সেরা ছবি হয়েছে ‘‌দ্য শেপ অফ ওয়াটার’। এই ছবির জন্যই সেরা পরিচালক হয়েছেন মেক্সিকান পরিচালক গিলেরমো দেল তোরো এবং সেরা ওরিজিনাল স্কোর পেয়েছেন গীতিকার অ্যালেস্কান্ড্রে ডেসপ্লেট। ১৯৬২ সালে ঠান্ডা যুদ্ধের সময় আধামানুষ–আধামাছ এক হিউম্যানয়েড অ্যাম্ফিবিয়ানের সঙ্গে মূক যুবতী এলিসার ভালোবাসার গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে এই ছবি। ছবিতে এলিসা বাল্টিমোরে একটি গোপন সরকারি গবেষণাগারের সাফাইকর্মী। তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু এক সমকামী অভিনেতা গাইল্‌স এবং আরেক সাফাইকর্মী জেল্ডা। দক্ষিণ আমেরিকার একটি নদী থেকে ওই ফিশম্যানকে উদ্ধার করে আনেন কর্নেল রিচার্ড স্ট্রিকল্যান্ড। সাফাইয়ের সময়ই ফিশম্যানের সঙ্গে ভালোবাসা হয় এলিসার। এদিকে, পরীক্ষার জন্য ফিশম্যানকে ভিভিসেক্ট বা জীবন্ত অবস্থাতেই দ্বিখণ্ডিত করার নির্দেশ দেন গবেষণাগারের প্রধান জেনারেল ফ্র‌্যাঙ্ক হয়েট।

বিজ্ঞানীর ছদ্মবেশে থাকা রুশ চর দিমিত্রি মোসেনকভ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এলিসা মার্কিন বিজ্ঞানীদের পরিকল্পনা জেনে গিয়ে ফিশম্যানকে মোসেনকভ এবং তাঁর বন্ধুদের সাহায্যে নিজের বাথটাবে লুকিয়ে রাখেন। সেখানেই দুজনের প্রেম পূর্ণতা পায়। ফিশম্যানের ছোঁয়ায় গাইলসের চোট সেরে যায়, তাঁর টাকে চুল গজায়। এরপরই প্রাণীটির বিশেষত্ব বুঝতে পেরে এলিসা এবং গাইল্‌স পরিকল্পনা করে, দিন কয়েক বাদে যখন তাদের বাড়ি লাগোয়া খালের সঙ্গে মহাসাগরের সংযোগ খুলবে তখন ফিশম্যানকে সেখানে ছেড়ে দেবে তারা। এদিকে, ফিশম্যানকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে খুঁজে আনতে স্ট্রিকল্যান্ডকে নির্দেশ দেন হয়েট। মোসেনকভ এবং জেল্ডার কাছ থেকে এলিসার সন্ধান পেয়ে খালের কাছে পৌঁছয় স্ট্রিকল্যান্ড। যে মুহূর্তে ফিশম্যানকে জলে ছাড়ছিল এলিসা এবং গাইল্‌স তখনই তাদের আক্রমণ করে সে। কিন্তু দুজনকেই সুস্থ করে তুলে এলিসাকে নিয়ে জলে ঝাঁপ দেয় ফিশম্যান। তার আগে এলিসার গলায় হাত ছুঁয়েছিল প্রাণীটি। গাইল্‌স জেল্ডাকে বলে তার বিশ্বাস, জলের তলায় গলা দিয়েই শ্বাস নিচ্ছে এলিসা, সেখানেই সে সুখে আছে ফিশম্যানের সঙ্গে।

যদিও পালিৎজারজয়ী নাট্যকার পল জিন্ডেলের অভিযোগ, ১৯৬৪ সালে লেখা তাঁর নাটক ‘‌লেট মি হিয়ার ইউ’‌–র গল্প আগাগোড়া টুকেই ছটিটি বানিয়েছেন দেল তোরো। যেখানে এইরকম এক মূক সাফাইকর্মীর সঙ্গে প্রেম হয় এক হিউম্যানয়েড অম্ফিবিয়ানের। তোরোর বিরুদ্ধে কপিরাইট মামলাও করেছেন জিন্ডেল। তোরো অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি ওই নাটকটি কখনও পড়েননি।  
উইনস্টন চার্চিলের চরিত্রে অভিনয় করে ‘ডার্কেস্ট আওয়ার’ ছবির জন্য সেরা অভিনেতা হলেন গ্যারি ওল্ডম্যান। ৫৯ বছরের অভিনেতা গ্যারির এটাই প্রথম সেরা অভিনেতা হিসেবে অস্কার। 
কিশোরী মেয়ের ধর্ষণ এবং খুনের বিচার না পাওয়া অসহায় মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে সেরা অভিনেত্রী হলেন ফ্রান্সেস ম্যাকডর্ম্যান্ড, ‘‌থ্রি বিলবোর্ডস আউটসাইড এবিং মিসৌরি’‌ ছবির জন্য। এই ছবিতে এক বর্ণবিদ্বেষী, মদ্যপ পুলিস অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করে সেরা সহ অভিনেতা হয়েছেন স্যাম রকওয়েল।

নিজের পুরস্কার বন্ধু ফিলিপ হফম্যানকে উৎসর্গ করেন। 
‘আই টোনিয়া’ ছবির জন্য সেরা সহ অভিনেত্রী হয়েছেন অ্যালিসন জেনি। সেরা অ্যানিমেটেড ছবি হয়েছে ডিজনির নতুন ছবি ‘‌কোকো’। এই ছবিরই গান ‘‌রিমেম্বার মি’–র জন্য সেরা গায়ক–গায়িকা হয়েছেন সঙ্গীতশিল্পী দম্পতি ক্রিস্টেন এবং রবার্ট লোপেজ। ‘ফ্রোজেন‌’ ছবির ‘‌লেট ইট গো’ গানের জন্যও তাঁরা অস্কার জিতেছিলেন। সেরা অ্যাডাপ্টেড স্ক্রিনপ্লে–র জন্য অস্কার পেয়েছে ‘‌কল মি বাই ইওর নেম’। সেরা ওরিজিনাল স্ক্রিনপ্লে–র জন্য অস্কার পেল ‘গেট আউট’। প্রথম অ্যাফ্রিকান–আমেরিকান লেখক হিসেবে এই বিভাগে মনোনীত হয়েছিলেন জর্ডন পিলি। সেরা অ্যানিমেটেড শর্ট ফিল্ম হয়েছে কোবি ব্রায়ান্টের ‘‌ডিয়ার বাস্কেটবল‌‌’। সেরা চিত্র পরিচালকের পুরস্কার পেলেন রজার ডেকিন্স, ‘ব্লেড রানার ২০৪৯’ ছবির জন্য। 

জনপ্রিয়

Back To Top