দ্বৈপায়ন দেব: ●‌ নুরজাহান। পরিচালনা:‌ অভিমন্যু মুখার্জি, অভিনয়ে:‌ আদৃত রায়, পূজা চেরিরায়, অপরাজিতা আঢ্য, সুপ্রিয় দত্ত, কাঞ্চন মল্লিক, রুমকি চট্টোপাধ্যায়। 
ভাল করে ভেবে দেখলে যে কোনও প্রেমের গল্পই প্রকারান্তরে শ্রেণি–‌বোঝাপড়া বা শ্রেণি–‌সঙ্ঘাতের গল্প। নায়ক–‌নায়িকার মিলমিশ মানেই তো তাদের পেছনে থাকা তাদের দুই পরিবারের সঙ্ঘাত বা সন্ধির গল্প। 
ভাল করে ভেবে দেখলে এটাও ঠিক যে এই শ্রেণি–‌সঙ্ঘাতের গল্পটা যে সাহিত্য, যে সিনেমা যত ভালভাবে তুলে ধরতে পারে, সেটা তত সফল। ‘‌রোমিও জুলিয়েট’‌ ভাবুন। হালের হিট ‘‌চিরদিনই তুমি যে আমার’‌ও ভাবতে পারেন। 
‘‌নুরজাহান’‌–‌এর কথা ভাবলে অবশ্য ‘‌চিরদিনই.‌.‌.‌’‌ মডেলের কথাই মনে পড়বে। কারণ ‘‌রোমিও জুলিয়েট’‌–‌এর মতো এখানে দু’‌পক্ষেই মারকাটারি বাবা–‌দাদারা নেই। এখানে মেয়ে মানে জাহান মানে জাহানারার (‌পূজা চেরিরায়)‌ মা আমিনা বেগমই (‌অপরাজিতা আঢ্য)‌ একা একশো। ক্ষমতায়। বাবা এতই দুর্বল যে কহতব্য নয়। কারণ মা আমিনা ক্ষমতাসীন দলের আঞ্চলিক নেত্রী। তার চারপাশে সবসময়ই গুন্ডাসদৃশ ক্যাডারদল ঘোরে। অন্যদিকে নায়ক মানে নুরের (‌আদৃত রায়)‌ মা একেবারেই ছা‌পোষা অসহায় বিধবা (‌রুমকি চট্টোপাধ্যায়)‌। ফলে দু’‌জনের প্রেমে যে অশান্তি, তার উৎস একেবারেই আমিনা বেগম। কলেজে জাহানারা নুরের প্রেমে পড়েছে খবর পেয়ে আমিনা মেয়ের বিয়ে ঠিক করেন অন্যত্র। নুর এবং জাহান গ্রাম থেকে পালায়। চলে আসে শহরে। সেখানে নানা বীভৎস মজা!‌
নুর প্রথমে কাজ নেয় রাজমিস্ত্রির। এক নির্মীয়মাণ বহুতলে লুকিয়ে সংসার পাতে দু’‌জনে। দ্বিতীয়ার্ধের এই পর্বটা দেখে বেশ ভালই লাগে। অভাবের মধ্যে প্রেম ‌বরাবরই পর্দায় যেরকম আবেগ–‌বহুল রসায়ন তৈরি করেছে,  মনে পড়ে যেতে পারে ‘‌চিরদিনই তুমি যে আমার’‌–‌এর ‘‌টিন এজ’‌ প্রেমের কথা। মনে রাখতে হবে, এ ‌ছবির অন্যতম প্রযোজক রাজ চক্রবর্তী। ‘‌চিরদিনই.‌.‌.‌’‌–‌র পরিচালক। 
সমস্যা হল, এ ছবির প্রেম ও ‘‌হাউলিপ’‌–‌এর গল্পটা মাঝপথে বেপথু হয়ে পড়েছে। ঢুকে পড়েছে শহরের আন্ডার‌ওয়ার্ল্ড আর পুলিসের চু–কিৎ–‌কিৎ খেলা!‌ ‘‌রোমান্স’‌–‌এর সুর কেটে গেছে। গানগুলোও তেমন জমেনি। ফলে যেমনটা হয় আর কী। এরপর ফর্মুলা পথে এগোনো। 
নতুন দুই আদৃত আর পূজাকে মন্দ লাগেনি। একটা ‘‌ফ্রেশনেস‌’‌ কাজ করেছে। ভিলেন চরিত্রে অপরাজিতা আঢ্য নিজের দাপট দেখিয়েছেন। গ্যাংস্টারের সহযোগীর ভূমিকার কাঞ্চন মল্লিক যথারীতি দারুণ। 
শুধু একটা কথা, এ ‌ছবির একটা জায়গায় কলেজ পড়ুয়া নায়িকা নায়ককে বলে, আপাতত বিয়ে করাটা আর পালানোটা আগে। পড়াশোনার সুযোগ পরেও পাওয়া যাবে। সংলাপটা বড্ড কানে লেগেছে কিন্তু!‌ অন্তত মেয়েদের এই নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাওয়ার যুগে। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top