সৌগত চক্রবর্তী: • ‘‌মুক্তধারা’‌র অনেকদিন পরে আবার আপনি শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়ের ছবিতে কাজ করলেন। এটা কি একরকম ঘরে ফেরা?‌
•• না, এটাকে আমি একদমই ঘরে ফেরা বলব না। ঘরটা যদি ‘‌উইনডোজ’‌ হয় তাহলে সেখানে আমি বরাবরই ছিলাম। শিবু আর নন্দিতাদির সঙ্গে যোগাযোগটা বরাবরই ছিল। যখনই ওদের কোনও সিনেমা মুক্তি পেয়েছে তখনই আমাকে নিমন্ত্রণ করেছে। ওদের সঙ্গে হলে বসে সিনেমা দেখেছি। তবে আবার অনেকদিন পরে শিবু আর নন্দিতাদির ছবিতে কাজ করলাম। ওরা আমাকে আবার সিনেমার মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনল।
• ‘‌মুক্তধারা’‌র পর দেবের সঙ্গে ‘‌যোদ্ধা’ ছবিতে কাজ করেছেন। কিন্তু তারপরেই ছবি থেকে হারিয়ে গেলেন। কেন?‌
•• ‘‌মুক্তধারা’‌ আমার কাছে একটা দারুণ ব্যাপার। শিবু আর নন্দিতাদি আমাকে একটা দারুণ সুযোগ দিয়েছিলেন। ছবির শুটিং, ছবির প্রমোশন বা মুক্তি—সবমিলিয়ে এমন একটা জমজমাট ব্যাপার ছিল যে ঘোরটা কাটতেই চাইছিল না। ‘‌মুক্তধারা’র পর প্রায় চারমাস কোনও কাজ করিনি। তারপর ‘‌যোদ্ধা’‌। এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল। কিন্তু তারপরেই গণ্ডগোল হল। কয়েকটা ছবিতে কাজ করেছিলাম কিন্তু সেই ছবি গুলো করে আমার কোনও উপকার হয়নি। কেন জানি না তেমন কোনও প্রস্তাবও আমার কাছে আসছিল না। বাজে ছবি করার চেয়ে একদম না করা অনেক ভাল।
• এই ছবিতে আপনার চরিত্রটা কীরকম?‌
•• ছবিতে আমার চরিত্রের নাম তারেক আলি। আট বছর জেল খাটা আসামি। মুক্তিদেবীর ছেলে বাড়ির দেখাশোনার জন্যে তাকে রাখে। জন্মাষ্টমীর পুজোয় এই তারেকই ভোগ নিবেদন করে। এটা কি সমাজ মেনে নেবে?‌ সেটাই দেখা যাবে ছবিতে।
• এই ছবির ‘‌রঙ্গবতী’‌ নাচ তো এখন বিখ্যাত। এই গানে নেচে আপনার কেমন লাগল?‌
•• দারুন লেগেছে। ওড়িশার চন্দ্রভাগা নদীর তীরে এই নাচের শুটিং সিকোয়েন্স ছিল। প্রায় ১৭ ঘণ্টা ধরে প্রচন্ড গরমে এই শুটিং হয়েছে। বাঘা নাচ, ময়ূরভঞ্জের ছৌ, মুখোশ নাচ, ইত্যাদি অনেক নাচের মিশ্রণে তৈরি হয়েছিল এই নাচ। শুটিং দেখতে দেখতেই এই নাচটা করার জন্য পা নিসপিস করছিল। কিন্তু ছবিতে যে নাচটা দেখা যাবে তাতে কিন্তু আমি নেই। সেখানে নেচেছে পেশেদার নাচিয়েরা। কিন্তু খুব ইচ্ছে করছিল নাচটা করতে। তাই শিবুকে অনুরোধ করেছিলাম। পরে যখন ছবির প্রোমো শুট হয়, তখন বৃষ্টির মধ্যে রঙ্গবতী নাচটা আমি নেচেছিলাম।
•  এই ছবিতে কাজ করেছেন অনসূয়া মজুমদারের সঙ্গে। কেমন অভিজ্ঞতা?‌
•• এককথায় দারুণ‌। উনি দারুণ ইনস্পায়ারিং। ওঁর সঙ্গে কাজ করতে পারা একটা দারুণ প্রিভিলেজ। একদম মাটির মানু্ষ। মিষ্টি স্বভাব। বিশেষ করে বলতে হয় ওঁর সঙ্গে অভিনয় করলে অভিনয়ের অনেক খুঁটিনাটি শেখা যায়। অনেক কিছু শিখেছি ওঁর কাছ থেকে।
• আর মানালির সঙ্গে অভিনয়ের কেমন অভিজ্ঞতা?‌
•• ওকে তো আগে চিনতাম না। মানে পরিচয় ছিল না। এই ছবির ওয়ার্কশপ করতে গিয়েই প্রথম আলাপ। আমরা একসঙ্গে পুরো ওয়ার্কশপটা করেছি এবং সেটা করতে করতেই আমার সঙ্গে মানালির একটা মিষ্টি বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। যেটা পরে ছবির শুটিংয়ে কাজে লেগেছে।
• আপনি তো নাটকও করেন। কোলাহল থিয়েটার ওয়ার্কশপ তৈরি করেছেন।
•• হ্যঁা। এই কাজটা বেশ সিরিয়াসলি করছি। অনেকগুলো কাজ করা হয়ে গেল। প্রথম শুরু করেছিলাম ‌ট্রান্সজেন্ডারদের নিয়ে। তারপর যৌনকর্মীদের দিয়ে একটা নাটক করেছি। আর এবার ড্রাগ অ্যাডিক্টদের নিয়ে ‘‌বেওয়ারিস’‌ নামে একটা নাটকের শো চলছে।
• কিন্তু এই নাটকে তো আপনি অভিনয় করছেন না।
•• না। আমার কাজ মূলত স্টেজের পেছনে। আমি চাই এই ধরনের মানুষগুলোকে দিয়েই অভিনয়টা করাতে। তাতে ওদের মধ্যে একটা আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। ওরা বিশ্বাস করতে শুরু করে ওদের পক্ষে গঠনমূলক কিছু করা সম্ভব। এই বিশ্বাসটা যখন ওরা করতে শুরু করে তখনই ওরা আস্তে আস্তে সুস্থ জীবনে ফিরে আসে। এই থিয়েটার থেরাপির স্বার্থেই ওদের দিয়ে অভিনয়টা করানো জরুরি।
• তাহলে কি থিয়েটার মঞ্চে নাইজেল আকারাকে পাওয়া যাবে না?‌
•• পাওয়া যাবে না কেন। হয়তো কোনও নাটকে আমিও অভিনয় করতে পারি। তবে সেটা কবে হবে সেটা জানি না।

জনপ্রিয়

Back To Top