আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ নির্জন একটা রেললাইনের ওপর একটা মৃতদেহ পড়ে আছে। পুরুলিয়া বা ঝাড়খণ্ডের মালভূমি অঞ্চল। মৃতদেহের পাশে একটা পোস্টার। ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ সিনেমার পরে নতুন সিনেমা বানাচ্ছেন পরিচালক রাজাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলা ভাষায় এটিই ওঁর পরিচালিত প্রথম সিনেমা। ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ তৈরি হয়েছিল কুর্মালি ভাষায়। এবারের ছবিটি বাংলায়। দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শিব রাত্রি’ গল্প অবলম্বনে লেখা হয়েছে চিত্রনাট্য।
সিনেমার শুরুতেই মালভূমির মায়ামাখা প্রান্তর ক্যামেরার লং শটে দর্শকের চোখের ওপরে
আলতোভাবে বসতি গড়ে তোলে। ক্যামেরা নেমে আসতে আসতে বুঝতে পারা যায় নির্জন একটা রেললাইনের ধারে একটি মানুষের মৃতদেহ পড়ে আছে। এইরকম একটা জায়গায় নির্জন রেললাইনের ওপরে পড়ে থাকা একটা মৃতদেহ আর তার পাশে যদি একটা লাল কালিতে লেখা পোস্টার পড়ে থাকে তাহলে নাগরিক কাপুড়ে মধ্যবিত্তরা জিহ্বায় সুন্দরবনের বাঘের গল্প শোনার সোয়াদ আস্বাদন করে। উগ্র বামপন্থা আর ছোটনাগপুরের এই মালভূমি চায়ের দোকানের ঠেক থেকে মধ্যবিত্তের সাজানো ফ্ল্যাটবাড়ির খাবার টেবিলে রাখা ‘চিকেন কষা’র নিমিত্তে জমিয়ে রাখা স্যালাইভার রসের সাথে মিশ্রিত হয়ে কিংবদন্তীর আকার লাভ করে! পোস্টারটায় লেখা আছে ‘’আমি একটা যুদ্ধ লড়ছি / বলছি না তুমি আমায় সমর্থন করো / শুধু বলছি ভেবে দেখো / একটা মানুষকে কেন যুদ্ধ লড়তে হয়?’
মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে সিতানপুরে আসে পুলিশ।

সত্যেন আর তার বস রামগোপাল বাবু আসেন পুলিশের হয়ে প্রশাসনের তরফে তদন্ত করতে। সরকারের দায়িত্ব নাগরিককে নিরাপত্তা প্রদান। কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা কোথাও ঘটলেই প্রশাসন সেই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করাবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশাসনের কপালে ভাঁজ ফেলে সিতানপুরে পর পর আরও কয়েকটি খুনের ঘটনা ঘটে যায়। অবশেষে দেশের সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সংস্থাগুলি থেকে জানানো হল যে এই হত্যাগুলি রাজনৈতিক হত্যা। একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী দল এই হত্যাগুলি সংগঠিত করছে। তারাও কিন্তু একটা স্বপ্ন দেখে। তারা স্বপ্ন দেখে অন্য একটা ভারতবর্ষের। তারা স্বপ্ন দেখে অন্য একটা পৃথিবীর। শোষনহীন একটা সমাজের কথা ভাবে তারা। তাহলে কি ওরা সত্যিই কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী দল না কি স্বপ্নদর্শী কিছু মানুষ। যারা স্বপ্ন দেখে তারা কি পারে একজন মানুষকে হত্যা করে রেললাইনের ওপরে ফেলে রেখে যেতে? রাজাদিত্যর সিনেমার বৈশিষ্ট্যই বোধহয় এইটা যেখানে মৃত্যু আর স্বপ্ন একটা সমান্তরাল রেখা ধরে এগিয়ে যায়।
সিনেমার প্রযোজক ব্যাক বেঞ্চারস ফিল্ম। মূল গল্প দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। চিত্রনাট্য, সংলাপ এবং পরিচালনা রাজাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সিনেমায় অভিষেক ঘটছে অত্যন্ত প্রতিভাবান শিশু অভিনেতা এবং নৃত্য শিল্পী আরিয়ান দত্তর। সে এর মধ্যেই অনেকগুলি পুরস্কার পেয়েছে বিভিন্ন জায়গা থেকে। এছাড়াও এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন রাজাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থসারথি দেব, সুমন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রভৃতিরা এবং অঞ্জলির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আর্যা ব্যানার্জী।

জনপ্রিয়

Back To Top