সৌগত চক্রবর্তী‌: ‌• একটা নতুন ‘‌ব্যোমকেশ’‌ ছবি। সেখানে যিনি চিত্রনাট্য নির্মিতা ও প্রধান উপদেষ্টা পরিচালক সেই অঞ্জন দত্ত নিজেই বেশ কিছু ‘‌ব্যোমকেশ’‌ ছবির সফল পরিচালক। আর পরিচালনায় আছেন সায়ন্তন ঘোষাল। একজন প্রবীণ আর একজন নবীন। এই ছবি তৈরির ক্ষেত্রে এই নবীন আর প্রবীণের দ্বন্দ্বটা কেমন ছিল?‌
••  অঞ্জন দত্তর ‘‌ব্যোমকেশ’ ছবির চিত্রনাট্য লেখেন একটা দার্শনিক জায়গা থেকে। তাঁর চিত্রনাট্যে ব্যোমকেশর মধ্যে সেই দার্শনিক দিকটাই বেশি ফুটে ওঠে। অন্যদিকে সায়ন্তন ঘোষাল চায় এই ছবির মধ্যে দিয়ে ‘‌ইয়ুথ’‌টাকে ধরার। দুজনের কাজের মধ্যে মূলত এটাই পার্থক্য। আর অঞ্জনদা এই ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন। সায়ন্তন করেছে পরিচালনা। একজন পরিচালক মানে তো এই নয় যে, তার হাতে যে চিত্রনাট্য তুলে দেওয়া হল, সেটাই সে কপি পেস্ট করে দেবে। কাজেই সায়ন্তনেরও পরিচালক হিসেবে একটা দায়িত্ব থেকে যায়। কিন্তু অঞ্জনদা প্রায় সায়ন্তনের বাবার বয়সী। হয়তো সায়ন্তনের বাবাও অঞ্জনদার মত বয়স্ক নন।  ব্যোমকেশকে নিয়ে যে ছবি তৈরি করা যায় সেটা অঞ্জনদাই প্রথম দেখিয়েছেন। কাজেই কোনও দ্বন্দ্বের ব্যাপার নেই। সায়ন্তন আর অঞ্জনদা মিলেমিশেই কাজটা করেছেন। হয়তো সায়ন্তন ক্যামেরার সামনে একটা মুভ তৈরি করলো। অঞ্জনদা সেটা দেখে বললেন, সায়ন্তন, এটা তেমন ভাল লাগল না। সায়ন্তন সঙ্গে সঙ্গে সেটার পরিবর্তন করল। এভাবেই কাজটা এগিয়েছে। সায়ন্তন পরিচালনার দায়িত্ব সামলেছে। অঞ্জনদা হয়তো যুক্তি দিয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। 
• তাহলে কি বলা যাবে, সায়ন্তন তাঁর ছবিতে অঞ্জন দত্তর ধারাকেই অনুসরণ করেছেন?‌
•• অঞ্জনদার ব্যোমকেশ ছবির ধারা এই ছবিতেও অক্ষুন্ন আছে। তবে তার সঙ্গে সায়ন্তন সাযুজ্য রেখেই সায়ন্তন ব্যোমকেশের মধ্যে একটা স্বাতন্ত্র‌্যও এনেছেন। সায়ন্তনের এই ব্যোমকেশ হয়ে উঠেছে আরও নবীন, আরও চটপটে। একটা স্পীড বা পেশও আছে ছবিটার মধ্যে। আর আমি তো মনে হয় এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে নবীন ব্যোমকেশ (‌হাসি)‌।‌ সায়ন্তনের এই ছবিটা ‘‌ইয়ুথ’‌কে আরো বেশি করে টানবে, এটাই আশা করছি।
• অঞ্জন দত্ত বললেন, এই ছবিতে ব্যোমকেশ অনেক বেশি রাজনৈতিক। আপনি কী বলবেন?‌
•• না, আসলে ব্যোমকেশ রাজনৈতিক বলতে মনে হয় অঞ্জনদা বোঝাতে চেয়েছেন এই ছবির পরিপ্রেক্ষিত নিয়ে। অঞ্জনদা তো গল্পটাকে ১৯৭১ সালে এনে ফেলেছেন। তখনকার সিচ্যুয়েশনটা একবার মনে করুন। একদিকে নকশাল আন্দোলন চলছে আবার অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে। আর তার ছায়া এসে পড়েছে প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যেই। কাজেই ব্যোমকেশও বা তার ব্যতিক্রম হবে কেন?‌ আর আমরা যদি ব্যোমকেশের গল্পগুলো মন দিয়ে পড়ি, তাহলে দেখতে পাব, সমসময়ের প্রত্যেকটা ঘটনায় ব্যোমকেশের একটা প্রতিক্রিয়া আছে। কাজেই এখানেও সেই প্রতিক্রিয়া থাকবে। ব্যোমকেশের সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে কিছু 
 মতামতও থাকবে। তবে আবার বলছি, এই ছবি কিন্তু সেইসময়ের ডকুমেন্টেশন নয়।
• উত্তমকুমার থেকে যিশু সেনগুপ্ত—অনেকেই বাংলা ছবিতে ব্যোমকেশের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। কার অভিনয় ভাল লেগেছে?‌
•• দেখুন প্রথমেই বাদ রাখছি উত্তমকুমারকে। কারণ তিনি সব ধরাছোঁয়ার বাইরে। সুশান্ত সিং রাজপুতকেও বাদ রাখছি, কারণ তিনি বাংলার নন। ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়কেও বাদ দিচ্ছি, কারণ তিনিও নমস্য অভিনেতা। এঁদের ছাড়া হাতে রইল তিনজন। আবির, যিশু ও অনির্বান। তার মধ্যে আবিরের ব্যোমকেশই আমার কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়েছে। অন্তত, আবির ওর অন্যান্য ছবির চরিত্রের চেয়ে ব্যোমকেশের প্রতিই বেশি সুবিচার করেছে।
• আর আপনি?‌ আপনার অভিনীত ব্যোমকেশ সম্পর্কে আপনি কী বলবেন?‌
•• বিচার তো করবেন দর্শকরা। আমি সে কথা বলার কে?‌ তবে নিঃসন্দেহে এই ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে যাতে দর্শকরা একই রকম অভিনয় দেখে বোর না হন, তাই কিছু পরিবর্তন অবশ্যই এনেছি অভিনয়ের ক্ষেত্রে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা মনে হয় আছে ব্যোমকেশ ও অজিতের সম্পর্কে। যেহেতু পর্দার বাইরে আমার আর রুদ্রনীলের বন্ধুত্ব ১৭ বছরের বেশি, তাই আমাদের স্ক্রিন শেয়ারেও তার ছাপ পড়েছে। ব্যোমকেশ আর অজিত এখানে অনেক বেশি ‘‌ক্যানডিড’‌। অনেক বেশি অন্তরঙ্গ।
• যখন একের পর এক ব্যোমকেশ ছবি তৈরি হচ্ছে তখন কি আপনার একবারও মনে হয়নি, একবার এই চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেলে ভাল হয়?‌
•• না মনে হয়নি। আমি তো একবার এই চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাবও পেয়েছিলাম। কিন্তু সেই সময়ে একটা ছবি পরিচালনার দায়িত্ব ছিল আমার কাঁধে। তাই সেবার করতে পারিনি। তাছাড়া তখন ব্যোমকেশের হয়তো দুটো ছবি রিলিজ করেছে। দর্শক দেখেছেন কিন্তু ব্যোমকেশ নিয়ে এই মাতামাতিটা তখনও শুরু হয়নি। তবে বেটার লেট দ্যান নেভার। এবার ভাল করেই সুযোগটা এল।
• এই পুজোয় মুক্তি পাচ্ছে আপনার দুটো ছবি। ‘‌সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ’ আর ‘‌পাসওয়ার্ড’‌। আপনার ভোট কোনদিকে?‌
•• (‌হেসে)‌ একটা বেশ নতুন চ্যালেঞ্জ এসে পড়েছে। পরমব্রত ভার্সাস পরমব্রত। ‘‌ব্যোমকেশ’‌ ভার্সাস ‘‌ইসমাইল’। হিরো ভার্সাস ভিলেন। ক্লিন সেভেন ভার্সাস ফ্রেঞ্চকাট। আমি চাইব দুটো ছবিই দর্শক দেখুন। তবে ব্যক্তিগতভাবে দর্শক হিসেবে আমার ভোট ব্যোমকেশের দিকে। আমি চাইব দর্শকও প্রথমে ‘‌ব্যোমকেশ’‌ই‌ দেখুন।
• আপনার পরিচালনায় নতুন ছবি ‘‌খেলেছি আজগুবি’‌র খবর কী?‌
•• মাঝখানে প্রযোজকদের নিয়ে একটু গণ্ডগোল হয়েছিল। কিন্তু এখন ঠিক হয়ে গেছে। আশা করছি আর দুমাসের মধ্যেই ‘‌খেলেছি আজগুবি’‌ রিলিজ করবে।
• আর নতুন ছবি ‘‌বনি’‌র খবর?‌
•• শুটিং শেষ। এবার শুরু হয়েছে ডাবিং। এই ছবি রিলিজ করবে আগামী পয়লা বৈশাখে।‌‌

ব্যোমকেশের নতুন জুটি রুদ্রনীল ও পরমব্রত। ছবি: সুপ্রিয় নাগ

জনপ্রিয়

Back To Top