সৌগত চক্রবর্তী: ‘‌একটা ব্যোমকেশের মধ্যেই লুকিয়ে আছে অনেকগুলো ব্যোমকেশ। এক একটা ব্যোমকেশ ছবিতে তার এক একটা দিক ধরা পড়েছে। উত্তমকুমার অভিনীত ‘‌চিড়িয়াখানা’‌য় ব্যোমকেশর একটা দিক যেমন উঠে এসেছে তেমনি ধৃতিমান বাবু (‌ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়)‌ যখন ব্যোমকেশ করলেন তখন তার মধ্যেও ব্যোমকেশ চরিত্রের একটা আলাদা দিক ধরা পড়েছিল। আর এই ছবিতে ব্যোমকেশ অনেক বেশি রাজনৈতিক। সমকালীন নানা রাজনৈতিক ঘটনায় তার একটা স্পষ্ট মতামতও আছে’‌, বললেন অঞ্জন দত্ত। যিনি নিজে একাধিক ব্যোমকেশ ছবির সফল পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার।
এবার আসছে নতুন ব্যোমকেশ ছবি। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘‌মগ্নমৈনাক’‌ অবলম্বনে এই ছবির নাম ‘‌সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ’‌। এই ছবিরও চিত্রনাট্যকার তিনি। সেই সঙ্গে ছবির উপদেষ্টা পরিচালকও বটে। যদিও এই উপন্যাসের প্রেক্ষাপট ১৯৬৩, অঞ্জন দত্ত সেই গল্পকে এনেছেন ১৯৭১-‌এর রাজনৈতিক আবহে। তখন একদিকে নকশাল আন্দোলন আর অন্যদিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তোলপাড় কলকাতা। ছবিতে এসেছে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভার কথাও। আর তার মধ্যেই লুকিয়ে আছে একটা মৃত্যু ও তার রহস্য।
এই ছবি পরিচালনা করেছেন সায়ন্তন ঘোষাল। যাঁর পরিচালনায় এর আগে এসেছে ‘‌যখের ধন’‌ ও ‘‌আলিনগরের গোলকধাঁধা’‌। মুক্তি প্রতীক্ষায় ‘‌সাগরদ্বীপের যখের ধন’ আর ‘‌টেনিদা অ্যান্ড কোং’‌‌। জানালেন, ‘‌ছোট থেকেই আমি অ্যাডভেঞ্চার গল্পের পোকা। 
তাই স্বাভাবিক ভাবেই রহস্য ছবি করার দিকেই আমার ঝোঁক বেশি।’‌ বললেন, ‘‌গল্পের প্রেক্ষাপট ৭০ দশক। তখন পোশাকে আশাকে অনেকটাই আধুনিক বাঙালি। আমার বাবাকে সেই সময় দেখেছি বোলবটম পরতে। আমার এই ছবিতেও তাই ব্যোমকেশ বেলবটম পরবে। তবে সাধারণত আমরা ব্যোমকেশকে ধুতি-‌পাঞ্জাবিতেই দেখতে অভ্যস্ত। তাই শুধু বেলবটম পরলে দর্শক একটু হোঁচট খাবেন। তাই কিছু দৃশ্যে ব্যোমকেশ বেলবটম পরেছে।’‌ বললেন, ‘‌আসলে এই ছবিতে নতুন প্রজন্মকেই আমি ধরতে চেয়েছি। তাই এই পরিবর্তন।’‌
তবে ‘‌মগ্নমৈনাক’‌ নিয়ে এই ছবি তৈরি করতে গিয়ে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা বোধহয় ঘটে গেছে ‘‌সুকুমারী’‌ চরিত্রে। মূল উপন্যাসে যার অস্তিত্ব এক পাতার সেই চরিত্রই অঞ্জন দত্তর হাতে হয়ে উঠেছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। ছবির ট্রেলারেও তার আঁচ বেশ ভালমতোই পাওয়া যায়। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন গার্গী রায়চৌধুরি। বললেন, ‘‌প্রথম যখন এই চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব এল, আমি ‘‌না’ করে দিয়েছিলাম। বারবার অঞ্জনদা প্রস্তাব দিয়েছেন কিন্তু আমি বলেছি সুকুমারীর চরিত্র আমি করব না। কারণ, ওই চরিত্রে অভিনয় করার কিছু নেই। এমনকি, ছবির মহরতেও আমি যাইনি। শেষ পর্যন্ত অঞ্জনদা বললেন, আরে একবার চিত্রনাট্যটা পড়েই দেখ না। তখন পড়ে বেশ ভালই লাগল।’ বললেন, ‘আমার কাছে অঞ্জন দত্ত একজন দক্ষ পরিচালকের পাশাপাশি একজন দক্ষ চিত্রনাট্যকারও। আশা করা যায় এই পুজোয় সায়ন্তনের পরিচালনায় ‘‌ইন্টারেস্টিং’‌ ব্যোমকেশ উপহার পাবেন দর্শকরা।’‌‌‌‌
এই ছবিতে অজিতের ভূমিকায় আছেন রুদ্রনীল ঘোষ। বললেন, ‘‌অঞ্জনদার প্রথম ছবি ‘‌আদিম রিপু’‌তে আমি একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। সেই ছবিতেই ব্যোমকেশ আর অজিতের সম্পর্কটা বেশ ভাল লেগেছিল। কিন্তু তার পরের ব্যোমকেশগুলোয় সেই সম্পর্কটা আর উঠে আসেনি। অজিত যেন ক্রমশ ব্যোমকেশের অ্যাসিস্ট্যান্ট হয়ে উঠেছিল। কিন্তু মনে রাখতে হবে অজিত কখনোই ব্যোমকেশের অ্যাসিস্ট্যান্ট নয়। সে বন্ধু। আর বেশ ইনটেলিজেন্ট। আমি সেই অজিতকেই ধরার চেষ্টা করেছি।’‌‌ 
গল্পে হঠাৎ মোড় আসবে সন্তোষ দত্তর বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া এক রহস্যময়ী সুন্দরী হেনা মল্লিককে নিয়ে।  এই চরিত্রে অভিনয় করছেন আয়ুশী তালুকদার। মূল গল্পে সত্যবতী অনুপস্থিত। তবে অঞ্জন দত্তর করা চিত্রনাট্যে আছেন সত্যবতীও। সেই চরিত্রে অভিনয় করেছেন মধুরিমা। আর অঞ্জন দত্ত নিজে অভিনয় করেছেন রবি বর্মার চরিত্রে। এছাড়াও যাঁকে নিয়ে এত কাণ্ড ব্যোমকেশ আর অজিতের, সেই যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভার মন্ত্রী সন্তোশ দত্তর চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুমন্ত মুখোপাধ্যায়। গ্রিন টাচ এন্টারটেনমেন্টের প্রযোজনায় ‘‌সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ’ মুক্তি পাচ্ছে ২ অক্টোবর।‌‌‌‌

ছবি:‌  সুপ্রিয় নাগ

জনপ্রিয়

Back To Top