আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সাহিত্য মানুষকে পাগল করে দেয়। মাথা বিগড়ে দিয়ে দৌড় করায় মাঠে। মাঝরাতে ঘুম থেকে তুলে দেয়। বউয়ের সঙ্গে ঝগড়া বাঁধায়। উপোস করায়। 
কিন্তু সব সাহিত্যিকের জন্য বোধহয় এই কথাগুলো প্রযোজ্য নয়। কারণ সবাই সাদাত হাসান মান্টো হন না। এটাই বোধহয় বুঝতে পেরেছেন নাওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি। তাই মান্টোর জীবন নিয়ে ছবি তৈরির আগে নিজেকে এখন ঘনঘন প্রশ্ন করছেন তিনি। কারণ, মান্টো যেমন সাহিত্যের প্রতি সৎ ছিলেন, নাওয়াজ তেমনই অভিনয়ের প্রতি সৎ। 
একটি বেসরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন মান্টো। সেই অনুষ্ঠান হলের ভরা শ্রোতার সামনেই তিনি নিজে তুললেন মান্টোকে নিয়ে তৈরি নতুন ছবির প্রসঙ্গ। কিন্তু মান্টোর প্রতিভার মাদকতা বোঝাতে গিয়ে নিজের কথা তুলে আনলেন তিনি। বললেন, ‘‌আমি তো মান্টোর মতো সৎ নই। আমি এখনও প্রতিদিন মিথ্যা বলি। এখনও আমার জীবনে নানারকম ছলনা আছে। তাই এই চরিত্রে অভিনয় করার জন্য অনেকটা বদলাতে হয়েছে আমাকে। নিজেকে শুদ্ধ করতে হয়েছে। আমাকে নির্দেশক বলেছেন, আমি নিজেকে শুদ্ধ করার চেষ্টা করেছি।’‌ 
সাদাত হাসান মান্টোকে নিয়ে ছবি তৈরি করছেন নন্দিতা দাস। উর্দূ ভাষায় তৈরি এই ছবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে নানা জল্পনা। মান্টোর প্রতিবাদী ভূমিকা, তাঁর জীবন ও লেখা, সবকিছুই দেখা যাবে এই ছবিতে। ‌‌পাকি্তানের এক বিস্ফোরক সাহিত্যিক ছিলেন সাদাত হাসান মান্টো। তাঁর লেখায় বারবরা উঠে এসেছিল মুসলিম সমাজের নানা জটিল সমস্যার কথা। তবে মান্টো তা কখনই সমাজবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখেননি। দেখেছিলেন একেবারে মনস্তত্ত্বেদর দিক থেকে। নারী কামনা, নারী-‌পুরুষের সম্পর্কের আদিম আবেদনের নানা চিত্রপট লিখিত হয়েছিল মান্টোর কলমে। খুব কম বয়সেই মৃত্যু হয় তাঁর।  

জনপ্রিয়

Back To Top