সৌগত চক্রবর্তী: ‌উপমহাদেশের অন্যতম বিতর্কিত লেখক সাদাত হোসেন মান্টো আসছেন বড়পর্দায়। সেখানে তাঁর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি। ছবির নাম ‘‌মান্টো’‌ আর ছবির চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নন্দিতা দাস।
লুধিয়ানায় জন্ম মান্টোর। সাংবাদিক ও একসময়ের হিন্দি ছবির চিত্রনাট্যকার মান্টো তাঁর লেখক জীবন শুরু করেছিলেন ভিক্টর হুগো, অস্কার ওয়াইল্ড, ম্যাক্সিম গোর্কি অনুবাদ করে। পরে শুরু করেন মৌলিক লেখা। বিশেষ করে তাঁর লেখা ছোটগল্পগুলো একই সঙ্গে জনপ্রিয় ও বিতর্কিত হয়ে ওঠে। কারণ, তাঁর সবকটি লেখাই মানবজীবনের অন্ধকার দিকগুলো নিয়ে। তাঁর লেখায় মাতাল, ভবঘুরে, পাগল বা পতিতারা এক একটি চরিত্র হয়ে উঠেছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পর মধ্যে আছে ‘‌তামাশা’‌, ‘‌ঠাণ্ডা গোস্ত’‌, ‘‌খালি বোতল’‌ ইত্যাদি। তাঁর নিজস্ব জীবন চরিতও ছিল বোহেমিয়ান। অতিরিক্ত মদ্যপানে সিরোসিস অফ লিভারে আক্রান্ত হয়ে ৪২ বছর বয়েসেই প্রয়াত হন এই উর্দু সাহিত্যিক।
তাঁর জীবন চরিতে অভিনয়ের জন্যে পরিচালক নন্দিতা দাস খুব স্বাভাবিক ভাবেই বেছে নিয়েছেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকিকে। ‘‌ব্ল্যাক ফ্রাইডে’‌ ছবিতে অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে নজরে আসেন নওয়াজ। ‘‌বদলাপুর’‌ ছবিতে ক্যানসার আক্রান্ত খুনি ডাকাতের অভিনয় বা ‘‌কাহানি’‌র সেই রাশভারি পুলিস অফিসারের চরিত্রে তাঁর অভিনয় তো ভোলা যাবে না। এছাড়াও ‘‌গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর’‌ ছবিতে গাঁজা খোর ডন বা ‘‌বজরঙ্গি ভাইজান’‌ ছবিতে পাকিস্তানি রিপোর্টার চাঁদ নবাবের চরিত্রে দর্শকদের মজিয়েছেন তিনি। খুব অল্প সময়েই অতি বিচিত্র সব চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরেছেন তিনি। এবার পাওয়া গেল ‘‌মান্টো’‌ চরিত্রের জন্য তাঁর প্রস্তুতির কিছু ঝলক।
মান্টো সম্পর্কে তাঁর নিজের অনুভূতির কথা জানিয়েছেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে। জানিয়েছেন, ‘‌মান্টো এমন একজন লেখক যাঁর সত্যি কথাটা সরাসরি বলার ক্ষমতা ছিল।

সেই লেখা পড়ে কেউ খারাপ ভাববে কি না সে সম্পর্কে তিনি কেয়ার করতেন না। সেই জন্যেই তিনি বলেছেন—আমি যা দেখি সে কথাই লিখি। আর লিখি আমার চারপাশের জীবন নিয়েই।’‌ 
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বেশ বিস্তৃতভাবেই বলেছেন তাঁর এই চরিত্রের জন্যে প্রস্তুতি নেওয়ার কাহিনী। বলেছেন, ‘‌ছবির সংলাপগুলো বেশ দীর্ঘ। আর ভাষাও উর্দু। তবে সেটা কোনও সমস্যা হয়নি। কারণ ছোটবেলা থেকেই আমি উর্দু জানি। আসল সমস্যা ছিল মাত্র তিন মাসের মধ্যে মান্টোর মধ্যে ঢুকে যাওয়া বা মান্টোকে আমার মধ্যে ঢুকিয়ে নেওয়া।’‌
জানিয়েছেন, ‘এই কাজটা করতে গিয়ে ‌প্রথমেই নিজের পরিচিত জগৎ থেকে নির্বাসন নিয়েছিলাম। সবসময় মান্টোর মতো পোশাক পরে থাকতাম। সেটে তো বটেই, এমনকি যখন শুটিং শুরু হয়নি তখন থেকেই।’‌ এই প্রসঙ্গে নওয়াজ জানিয়েছেন, ‘‌আসলে এভাবেই আমি তাঁর শরীরে ও মনে ঢুকতে চেয়েছিলাম। আমি তাঁকে চিনি এই অনুভূতিটা আনতে সাহায্য করেছে এই পোশাক আর নির্বাসন। এমনকি যতদিন এই ছবিতে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, নিজের জীবনটাও কাটিয়েছি তাঁর মতো করেই। প্রতিদিন নির্জনে তাঁর মতো করে লিখতে বসেছি, তাঁর মতো করে দেশি মদের ঠেকেও চলে গিয়েছি। শুনেছি তাঁর পছন্দের গানগুলোও।’‌ শুধু তাই নয়, এই সময়ে নওয়াজউদ্দিন পড়ে ফেলেছেন মান্টোর লেখা ৩৪টা বই।
তাঁর আগামী ছবি বাল ঠাকরের জীবন নিয়ে। আর এই ছবিতে ঠাকরের ভূমিকাতে অভিনয় করবেন তিনি। জানালেন, ‘‌যেভাবে মান্টোর মধ্যে ঢুকেছি সেভাবেই ঠাকরের মধ্যে ঢুকে পড়তে হবে। আপাতত সেই কাজ চলছে। পরিচালকের কাছে সেই জন্যে কিছুটা সময় চেয়ে নিয়েছি। আগামী এপ্রিলেই সেই প্রস্তুতির কাজ শেষ করে ঠাকরের শুটিং শুরু করে দেব।’‌
নওয়াজউদ্দিনের সঙ্গে ‘‌মান্টো’‌ ছবিতে অভিনয় করেছেন তাহির রাজ ভাসিন, রসিকা দুগ্গল, রাজশ্রী দেশপাণ্ডে এবং চন্দন রায় সান্যাল। আছেন পরেশ রাওয়াল ও ঋষি কাপুরও। ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে এই ছবির প্রথম ঝলক ও ট্রেলার। ছবি মুক্তি পাবে ফেব্রুয়ারিতে।  ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top