অদিতি রায়: এতদিন বাড়ির কাজ আর শুটিং সামলাতে হত, এবার জুড়ল রাজনীতি, কঠিন হলেও অসম্ভব নয়, ঠিক ম্যানেজ করে নেবেন, বলছেন দক্ষিণ ২৪ পরগণার বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অভিনেত্রী নুসরত জাহান। অন্যদিকে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী বলছেন, তাঁর মাল্টি টাস্কিংয়ের অভ্যাস আছে, কাজেই রাজনীতিও তিনি ভালভাবেই ম্যানেজ করে নিতে পারবেন। হ্যাঁ, রাজনীতির সঙ্গে বিনোদন জগতকে ব্যালেন্স করতে হবে, আর এক্ষেত্রে তাঁদের সামনে তো উদাহরণ রয়েছেনই, অভিনেতা-‌সাংসদ দেব। কাজেই কেরিয়ার শেষ বলে রাজনীতি নয়, নিন্দুকেরা যে যাই বলুক। 
মিমি চক্রবর্তীর ‘মন জানেনা‌’‌ মুক্তি পাবে আগামী সপ্তাহেই, ছবিতে তাঁর নায়ক যশ দাশগুপ্ত। মিমির ঝুলিতে রয়েছে আরও দুটি ছবি, অরিন্দম শীলের ‘খেলা যখন‌’‌ এবং বীরসা দাশগুপ্তর ‘বিবাহ অভিযান‌’‌। যদিও এই মুহূর্তে নতুন কোনও ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হননি নুসরত। অর্থপূর্ণ ছবিতেই তিনি মন দিতে চান, এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন নুসরত। রাজনীতির আঙিনায় তিনি পা রাখবেন আগে থেকেই কি আঁচ করেছিলেন?‌ সে যাই হোক, মিমি-‌নুসরতের ভক্তদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই, যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে।
এই প্রজন্মের দুই কন্যা। শুরুটা তাঁদের রূপকথারই মতো। জলপাইগুড়িতে স্কুল শেষ করে কলকাতার আশুতোষ কলেজে পড়তে পড়তেই ২০০৮-‌এ একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ধারাবাহিক ‘চ্যাম্পিয়ন‌’‌-‌এ অভিনয় করেন মিমি। ‘‌ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া’‌-‌তে অংশগ্রহণও করেন। ‘চ্যাম্পিয়ন‌’‌-‌এর পর ২০১০-‌এ ‘‌গানের ওপারে’‌ ধারাবাহিকে ‘পুপে‌’‌ চরিত্রে অভিনয়ের পর মিমিকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তাঁর প্রথম ছবি ‘বাপী বাড়ি যা‌’‌ মুক্তি পায় ২০১২-‌তে।

তারপর থেকেই দর্শকদের পছন্দের মিমি চক্রবর্তী। ‘‌বোঝে না সে বোঝেনা’‌ থেকে হালের ‘‌ক্রিসক্রস’‌। একের পর এক ছবিতে তাঁর দাপুটে পারফরমেন্স তাঁকে বাংলার দর্শকের ‘‌ঘরের মেয়ে’‌ করে তুলেছে।
ভবানীপুর কলেজের কমার্সের স্নাতক নুসরত জাহান। কলকাতারই কন্যা। ২০১০-‌এ ‘‌ফেয়ার ওয়ান মিস কলকাতা’‌ সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়ে শুরু করেন মডেলিং। এরপর সোজা মায়ানগরীর হাতছানি। ২০১১-‌তে রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় জিতের বিপরীতে ‘শত্রু‌’‌ ছবিতে নায়িকা হয়ে যান নুসরত। তিনি তখন বিস্ময়াহত এক টিনএজার। প্রথম ছবিতেই জিৎ-‌এর নায়িকা!‌ সুন্দরী নুসরতের কেরিয়ার তড়তড় করে এগিয়ে যাওয়ারই কথা ছিল, কিন্তু ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার জেরে অনেকদিন আলোকবৃত্তের বাইরে ছিলেন তিনি। এরপর ২০১৩-‌তে দেবের বিপরীতে ‘খোকা ৪২০‌’‌ এবং অঙ্কুশের বিপরীতে ‘‌খিলাড়ি’‌-‌তে অভিনয়ের পর বাংলার এক নম্বর নায়িকার আসনের দাবিদার হয়ে ওঠেন নুসরত। ‘‌কেলোর কীর্তি’‌ বা ‘বলো দুগ্গা মাঈকি‌’‌র মতো মূলধারার ছবির পাশাপাশি ‘‌হর হর ব্যোমকেশ’‌ বা ‘জুলফিকর‌’‌-‌এর মতো অন্যধারার ছবিতেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে। সম্প্রতি ‘‌ক্রিসক্রস’‌ ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রতিভার ঝলকও দেখতে পান বাংলার দর্শক।
এই দুই কন্যা এই প্রজন্মের প্রতিনিধি। আজকের মেয়েদের লড়াইয়ের মুখ হয়ে উঠবেন তাঁরা এই আশা রাখছেন তাঁদের দর্শকরা। মিমি-‌নুসরতও ভরসা রাখছেন তাঁদের দর্শকদের ওপর। এতদিন এই দর্শকদের ভালবাসাতেই তাঁদের শিল্পী জীবন উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়েছে। এখন দুজনেই চাইছেন তাঁদের দর্শকদের উপচে পড়া আশীর্বাদ। সামনে যে কঠিন পরীক্ষা!‌ ‌

জনপ্রিয়

Back To Top