সৌগত চক্রবর্তী: ‌পরিচালক মৈনাক ভৌমিকের প্রথম গোয়েন্দা ছবি ‘‌গোয়েন্দা জুনিয়র’‌ মুক্তি পাচ্ছে ২০ সেপ্টেম্বর। মুখ্য চরিত্র গোয়েন্দা জুনিয়র-‌এর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়। এছাড়াও আছেন শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, পুষান দাশগুপ্ত ও অনুষা বিশ্বনাথন।
মৈনাক ভৌমিকের ছবি মানেই একটা রোমান্টিক কমেডি। সেই চেনা ধাঁচ থেকে সম্প্রতি বেরিয়ে এসেছেন তিনি। পরিচালনা করেছেন থ্রিলার ‘‌বর্ণপরিচয়’‌ যা মুক্তি পেয়েছে কয়েকদিন আগেই। এবার তাঁর পরিচালনায় প্রথম গোয়েন্দা ছবি। কেন এই ছবির ধাঁচ পরিবর্তন?‌ মৈনাক জানালেন, ‘‌রোমান্টিক কমেডি কিন্তু আমি ছেড়ে দিইনি। শুধুমাত্র এই ধরনের বিষয় থেকে কয়েকদিনের ছুটি নিয়েছি মাত্র। আসলে এই সময়ের মানুষের সম্পর্কের গল্প বলতে আমি ভালবাসি। যে কারণে আমার এই নতুন ছবিতেও সেই সম্পর্কের একটা আভাস রয়েছে। তবে আমি যে বিষয় নিয়েই কাজ করি, দেখি সেই কাজ করে আমি নিজে আগে আনন্দ পাচ্ছি কি না।’‌
এর আগে তাঁর ‘‌জেনারেশন আমি’‌ তে অভিনয় করেছিলেন ঋতব্রত মুখোপাধ্যায় ও শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়। তাঁর এই ছবিতেও তাঁরা মুখ্য ভূমিকায়। মৈনাক বললেন, ‘‌আসলে আমি একটা লুপে আটকা পড়ে যাই। প্রত্যেক পরিচালকের মধ্যেই হয়ত এটা আছে। তবে আমার মধ্যে একটু বেশি। যখন স্বস্তিকাকে নিয়ে কাজ করছিলাম তখন একের পর এক ছবিতে অভিনয় করেছিলেন স্বস্তিকা। আবার ঋতব্রতকে নিয়ে কাজ করার পর আবার ওকে ফিরিয়ে আনলাম আমার নতুন ছবিতে’‌, হাসতে হাসতে বললেন মৈনাক।
কিন্তু ‘‌গোয়েন্দা জুনিয়র’‌ ছবির বিষয়টা কী?‌ মৈনাক বললেন, ‘‌গোয়েন্দা জুনিয়র যতখানি একটা গোয়েন্দা গল্প তার চেয়ে অনেক বেশি করে এটা একজন গোয়েন্দার তৈরি হওয়ার গল্প। ছবির কেন্দ্রে আছে একটি ১৬ বছরের ছেলে। এই ছবিতে আমরা তার বড় হয়ে ওঠার জার্নিটা পাব। তার বড় হয়ে ওঠার সময়কার সমস্যা, তার বন্ধুবান্ধব এই সবের মধ্যে দিয়ে তার গোয়েন্দা হয়ে ওঠার গল্প। কাজেই এটাকে একটা টু ফোল্ড ছবি বলতে পারেন। একটা সোজা সাপ্টা গোয়েন্দা গল্প নয়।’‌
তাঁর এই ছবির অন্যতম মুখ্য চরিত্রাভিনেতা ঋতব্রত মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে তাঁর মতামত কী?‌ ‘‌এই ছবিতে ঋতব্রত ‘‌জেনারেশন আমি’‌র চেয়েও অনেক আত্মবিশ্বাসি। একজন পরিচালক হিসেবে আমি জানি একজন অভিনেতার কাছ থেকে আমি ঠিক কী আশা করছি। তার শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কেও আমার স্পষ্ট ধারণা আছে। কাজেই এটা বলতে দ্বিধা নেই ঋতব্রত আমাকে বোকা বানিয়ে দিয়েছে। ওর কাছ থেকে আমি যেটা আশা করেছিলাম ও তার অনেকটাই বেশি দিয়েছে। কাজেই আমিও অনেক রিল্যাক্স মুডে কাজটা করতে পেরেছি’‌, বললেন মৈনাক ভৌমিক।
কিন্তু এরকম একটা জুনিয়র গোয়েন্দাকে নিয়ে ছবি করলেন কেন মৈনাক? ‘‌অনেক আগে থেকেই ছোটদের নিয়ে একটা ছবি করার কথা ভেবেছিলাম। ছোটবেলায় ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়ের ‘‌পাণ্ডব গোয়েন্দা’‌ পড়েছিলাম। তখন আমার বয়সী ছেলেদের কাছে বাবলু, বিলু, ভোম্বলরা ছিল হিরো। তাই প্রথমে ভেবেছিলাম এই ‘‌পাণ্ডব গোয়েন্দা’‌কে নিয়েই ছবি করব। আমি তাই ‘‌পাণ্ডব গোয়েন্দা’‌র‌ সিনেমা রাইটও কিনেছিলাম। কিন্তু দেখলাম ছবিটাকে এই সময়ের উপযোগী করতে গেলে গল্পের অনেক কিছুই পরিবর্তন করতে হবে। তাতে হয়ত গল্পের এসেন্সটাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ভাবলাম একেবারে মৌলিক কিছু করা যাক। তাই ‘‌গোয়েন্দা জুনিয়র’‌-‌এর সৃষ্টি’‌, বললেন মৈনাক।
এখন তো বাংলা ছবিতে থ্রিলার আর গোয়েন্দা গল্পের ছড়াছড়ি। সাম্প্রতিককালের মধ্যে মুক্তি পেয়েছে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘‌ভিঞ্চিদা’‌, সুদেষ্ণা রায় ও অভিজিৎ গুহর ‘‌সামসারা’‌, প্রতিম ডি গুপ্তর ‘‌শান্তিলাল ও প্রজাপতি রহস্য’‌। কাজেই এত থ্রিলার আর গোয়েন্দার ভীড়ে কি ‘‌গোয়েন্দা জুনিয়র’‌-‌এর হারিয়ে যাওয়ার ভয় নেই?‌ মৈনাক আত্মবিশ্বাসী গলায় বললেন, ‘‌অনেক সুপারহিরো নিয়েই মারভেল কমিকস-‌এর গল্প তৈরি হচ্ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও যখন ‘‌ব্ল্যাক প্যান্থার’‌ সিরিজ এল তখন তার জনপ্রিয় হয়ে উঠতে দেরি হয়নি। আসল হল মানুষের ভাল লাগা। যদি আমার গল্প মানুষ পছন্দ করেন, সাধারণ দর্শকের কাছে যদি আমার গল্পের একটা অ্যাপিল থাকে তাহলে এই ছবির হারিয়ে যাওয়ার ভয় নেই। যদি এই ছবির দর্শকের বয়স ১০ হয়, তাহলে তার কাছে আমার ছবির নায়ক বিক্রমের জার্নিটাকে নিজের বলেই মনে হবে। আবার যদি দর্শকের বয়স ৪০ উর্ধ হয়, তাহলে সেও তো এই বয়সটাকে পেরিয়ে এসেছে। ফলে বিক্রমের গল্প তার কাছে নস্ট্যালজিক বলে মনে হবে।’‌
তাহলে কি এবার থেকে আমরা আরও বিক্রম সিরিজের গল্প সিনেমায় পাচ্ছি?‌ ‘‌আগে দর্শকের প্রতিক্রিয়া দেখা যাক। যদি দর্শক এই ছবিকে পছন্দ করেন তাহলে ইচ্ছা আছে বিক্রমের গল্প নিয়ে আরও ছবি করার’‌, বললেন মৈনাক।

ছবি:‌ বিপ্লব মৈত্র

জনপ্রিয়

Back To Top