বিনেদনের প্রতিবেদন:‌ জে এন ইউ-‌তে সমাজ বিরোধীদের তাণ্ডব সঙ্গে এন আর সি আর সি এ এ নামক জনবিরোধী নীতি রূপাযনের চেষ্টা। আর অন্যদিকে প্রতিবাদের উত্তাল তরঙ্গ। ঠিক এই সময়েই প্রতিবাদের গান নিয়ে লোপামুদ্রা মিত্র আসছেন জি ডি বিড়লা সভাঘরে। আগামী ২৬ জানুয়ারি। বললেন, ‘ভাবতে ইচ্ছে করে না, কী চাওয়া উচিত। ভাবতে ইচ্ছে করে না, নাকি ভাবতে ভয় হয়? মগজে কার্ফু।’‌ ছোটবেলা থেকেই ভয়কে পাত্তা দেননি এই শিল্পী। বরং ছিলেন ডাকাবুকো। একটা আপাদমস্তক রাজনৈতিক পরিবারে তাঁর জন্ম। প্রথম শেখা গান ‘বিদ্রোহ চারিদিকে, বিদ্রোহ আজ’। বললেন, ‘‌শিখেছি একের পর এক গণনাট্যের গান। একসঙ্গে চলা, এক সঙ্গে থাকা, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এই সব স্বপ্ন নিয়েই গড়ে উঠেছিল আমার বামপন্থী ছোটবেলা।’‌ 
কলেজে পড়তে পড়তেই পুলিসে চাকরি পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর স্বপ্নে ছিল গান। কিন্তু কল্পনাও করেননি গোটা জীবনটাই গান নিয়ে কাটিয়ে দেবেন। কিন্তু এখন তিনি বলেন, ‘‌ভাগ্যিস করিনি সেই চাকরি! ‌সার্বিক ভাবে আমাদের বোধ-বিবেচনা রাজনীতির কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছে। যদি সে দিন পুলিশের চাকরি নিতাম, তা হলে আমিও হয়তো সেই সংকীর্ণ ক্ষমতার বলয়ের অংশ হতাম আজ। হয়ে উঠতাম সিস্টেমের বোড়ে!’‌ বললেন, ‘‌বাবরি পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনীতিতে একটা শিবির গেরুয়া রং লাগিয়ে দিলেন। ক্ষমতা কী ভাবে আদর্শকে গিলে ফেলে এটাই তার উগাহরণ।’‌
লোপামুদ্রার বক্তব্য, ‘‌মানুষের প্রতিক্রিয়ায় বুঝতে পারি, একেকটা গানে কোনও কোনও শব্দের সঙ্গে রাজনীতির অনুষঙ্গ তৈরি হয়ে গিয়েছে তাঁদের। ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার সময় বলতাম, বাইরের শত্রু নয়, দেশের ভিতরের রাজনীতিই সাধারণ মানুষকে লুঠ করছে। গাইতাম, ‘এ মানচিত্র জ্বলছে জ্বলুক/ এই দাবানল পোড়াক চোখ/ আমার কাছে দেশ মানে এক লোকের পাশে অন্য লোক’, মানুষের প্রতিক্রিয়ায় সমর্থন পেতাম। সার্জিকাল স্ট্রাইকের পর দেখছি, সেই মানুষেরই প্রতিক্রিয়া বদলে গিয়েছে।’‌
তবু সেই পালটে যাওয়া প্রতিক্রিয়ার বিরুদ্ধেই গান গাইছেন তিনি। বললেন, ‘‌একটা অদৃশ্য বেয়নেটের সামনে দাঁড়িয়ে এখন আমরা গান গাইছি। সেই বেয়নেটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের সমাজ।  তবু এখনও বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয়, ‘প্রাণ জাগছে জাগছে জাগছে/ ঢেউ উঠছে...।’

জনপ্রিয়

Back To Top