অদিতি রায়: গোয়েন্দা মানেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, ধারালো নাক, ঠোঁটে পাইপ, ওভারকোট, কালো চশমা নয়। গোয়েন্দা মানে নরম-‌সরম, শাড়ি পড়া এক বাঙালি মহিলা, যিনি প্রয়োজনে সালোয়ার-‌কামিজের দোপাট্টা কোমরে জড়িয়ে গুণ্ডাদমনে সপ্রতিভ, তীক্ষ্ণ বুদ্ধির অধিকারী, স্বামী-‌সন্তান নিয়ে ভরপুর সংসারের এক গৃহিণীও হতে পারেন বৈকি! মনে নেই টাপুরের মিতিন মাসিকে?‌ পুজোর সময় টাপুরের মিতিন মাসির অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করত কচিকাঁচার দল। মিতিন মাসি ওরফে গোয়েন্দা প্রজ্ঞাপারমিতা মুখোপাধ্যায়ের স্রষ্টা সুচিত্রা ভট্টাচার্যের প্রয়াণের পর সেই অপেক্ষাও আর নেই। তবে সুখবর, এবার পুজোয় আবার মিতিন মাসি আসছেন। পরিচালক অরিন্দম শীল ফিরিয়ে আনছেন মিতিন মাসিকে।
ক্যামেলিয়া প্রোডাকশন্সের ব্যানারে, রূপা দত্ত প্রযোজিত, সুচিত্রা ভট্টাচার্যের ‘হাতে মাত্র তিনটে দিন‌’‌ উপন্যাস অবলম্বনে ‘‌মিতিন মাসি’‌র নামভূমিকায় রয়েছেন কোয়েল মল্লিক। ‘‌পার্থ মেসো’‌র চরিত্রে শুভ্রজিত দত্ত এবং ‘‌টাপুর’‌-‌এর চরিত্রে রিয়া বণিক। এছাড়াও ছবিতে অন্য গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকায় দেখা যাবে বিনয় পাঠক, অরুণিমা ঘোষকে। অরিন্দম জানাচ্ছেন, ‘‌বাংলা ছবিতে মহিলা গোয়েন্দা আগে কখনও হয়নি, সেই লোভটা আমার বরাবরই ছিল। গত ১ বছর ধরেই ‌এই পরিকল্পনা দানা বাঁধছিল। ক্যামেলিয়া প্রোডাকশন্সের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে।’‌
কোয়েলকে মিতিনের চরিত্রে কেন ভাবলেন অরিন্দম?‌ প্রথমত, একটা জনপ্রিয় মুখ দরকার। পুজোর সময় একা ছবিটা টেনে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাও থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, কোয়েল যেমন মারপিটের দৃশ্যও করে ফেলতে পারবে অনায়াসে, তেমনই বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহিণীর চরিত্রেও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। বললেন পরিচালক। কোয়েলের পক্ষে সওয়াল করে, প্রযোজক রূপা দত্তর সহাস্য উত্তর, ব্যোমকেশ-‌ফেলুদা-‌কিরীটির ভিড়ে বাংলা সিনেমা এবার একজন মহিলা গোয়েন্দাকে পাবে, এটা তো দারুণ ব্যাপার!‌ 
জুলাই মাসে কলকাতা এবং আশেপাশেই শুরু হচ্ছে ‘‌মিতিন মাসি’‌র শুটিং। ছবিতে সুরের দায়িত্বে থাকছেন বিক্রম ঘোষ, চিত্রগ্রাহক শুভঙ্কর ভড়। যৌথভাবে চিত্রনাট্য লিখেছেন পদ্মনাভ দাশগুপ্ত এবং অরিন্দম শীল। ‌
ছবি:‌ সুপ্রিয় নাগ
 

জনপ্রিয়

Back To Top