উদ্দালক ভট্টাচার্য

 

মেঘে ঢাকা তারা মুক্তি পেয়েছিল ১৯৬০ সালে। আর সেই ছবিতে সুপ্রিয়া দেবীর মুখে উচ্চারিত হয়েছিল সেই বিখ্যাত সংলাপ, ‘‌দাদা আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম.‌.‌.‌.‌.‌দাদা আমি বাঁচব।’ আজ এত বছর পরেও, মানে এই যুগান্তকারী ছবি মুক্তি পাওয়ার প্রায় ৬০ বছর পরে এসে, এখনও এই ছোট্ট বাক্য অনেকেই মনে রাখতে পারেন না। ‌ভুল বলেন। বলেন, ‘‌দাদা আমি বাঁচতে চাই।’‌ না, এই বাক্যবন্ধ মেঘে ঢাকা তারার সংলাপ হিসাবে কোনওদিনই লেখা হয়নি।
আজ ঋত্বিক ঘটকের জন্মদিন। স্বভাবতই আজকের দিনে তাঁকে নিয়ে সংবাদপত্রে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক কথাই হবে। হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু আপত্তি হওয়া স্বাভাবিক যখন ভুল সংলাপ লেখা হয়। বাঙালি ভুল জানে, তা নয়। হতে পারে, বাঙালি ভুলে গিয়েছে। ভুল সংলাপেই ঋত্বিকবাবু বেঁচে আছেন। তাই ৬০ বছর বাদেও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হয়, ‘‌দাদা আমি বাঁচতে চাই’, যে সংলাপ ছবির ওই বিখ্যাত দৃশ্যে একবারও উচ্চারিত হয়নি। বারবার সুপ্রিয়া দেবী অভিনীত চরিত্রটি বলেছে, ‘‌‌দাদা আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম.‌.‌.‌.‌.‌দাদা আমি বাঁচব।

’ 
মদ্যপ ঋত্বিককে নিয়ে অনেকে অনেক কথা লিখেছেন। ঋত্বিক আলোচিত হলেই উঠে এসেছে তাঁর মদ খাওয়ার প্রসঙ্গ। কেন?‌ কেন এক শিল্পীর আলোচনায় বারবার মদ খাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে আনা হয়। অনেকেই ঋত্বিকের মদ খাওয়ার অভ্যাসের গল্পটা জানেন, কিন্তু একটিও ছবি মন দিয়ে দেখেননি। তাঁরাও এই নিয়ে মত প্রকাশ করেন। বারবার তাঁর আলোচনায় যেন মদ খাওয়াটা সিনেমা বানানোর মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কতটা দাপুটে এই শিল্পী আজীবন শিল্পচর্চা করে গেলেন, সেটা নিয়ে আলোচনার মাঝে তাঁর মদ খাওয়াটা কী করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, সেটা অবশ্য আলোচকরাই বলতে পারবেন। 
১৯২৫ সালে ওপার বাংলার ডাকায় জন্মেছিলেন ঋত্বিক। মাত্র ৫ বছর বাদে শতবর্ষ পেরিয়ে যাবেন তিনি। তবু, তাঁর যুগান্তকারী ছবি এখনও ফিল্ম স্কুলের ল্যাবে পড়ে থাকে। যত বাঙালি তাঁর জীবন নিয়ে তৈরি ছবি দেখেন, তত বাঙালি তাঁর ছবি দেখেন না। স্পর্ধা অনেক দূর, বিনয়ও নেই এখন, হাঁটুতে এসে ঠেকেছে মেধা, তাই ঋত্বিক, আজ বিস্তৃত। কবে একশো বছর হবে। কটা লোক হয়ত কদিন নাচানাচি করবে। তারপর সব আবার একই তিমিরে পড়ে থাকবে। তিনি উদ্বাস্তু, তাঁর উত্তরসূরিদের তাড়াতে চলেছে দেশ। তিনি যে থাকবেন না, তা তো সত্যিই। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top