‌‌‌‌‌‌‌‌সংবাদ সংস্থা, মুম্বই: প্রয়াত দিকপাল সুরকার খৈয়াম। সোমবার রাতে মুম্বইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। বয়স হয়েছিল ৯২। বেশ কয়েক দিন ধরে ফুসফুসে সংক্রমণ এবং বার্ধক্যজনিত রোগ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। তঁার মৃত্যুসংবাদ দিয়ে ‘‌খৈয়াম ট্রাস্ট’‌–‌এর মুখপাত্র প্রিতম শর্মা জানিয়েছেন, সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন খৈয়াম সাহেব। বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন দীর্ঘ দিন। গত রাতে হাসপাতাল থেকেই তঁার মৃত্যুর খবর দেন গজল–‌গায়ক তালাত আজিজ। জানান, ২১ দিন ফুসফুসের সংক্রমণের সঙ্গে লড়ে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে খৈয়ামের মৃত্যু হয়েছে। 
মঙ্গলবার সকালে প্রয়াত সুরকারের জুহুর বাসভবনে তঁাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে চলচ্চিত্র ও ছোট পর্দার বিশিষ্টদের ঢল নামে। বিকেলে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তঁাকে সমাধিস্থ করা হয়। শেষ যাত্রায় তঁাকে বিদায় দিতে হাজির ছিলেন কবি, গীতিকার, চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক গুলজার। ছিলেন সস্ত্রীক গায়ক সোনু নিগম, অভিনেত্রী পুনম ধিলেঁা, অভিনেতা বিশ্বজিৎ, রাজা মুরাদ।
মহম্মদ জাহুর খৈয়াম হাশমি ওরফে খৈয়ামের জন্ম ১৯২৭–‌এর পাঞ্জাবের রাহেঁাতে। শৈশবের বাবার কড়া শাসন এড়াতে দিল্লিতে কাকার কাছে পালিয়ে যান। সেখানে পণ্ডিত অমরনাথের কাছে শুরু হয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম। মাত্র ১৭ বছরে সুরকার বাবা চিস্তির সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে চলাকালীন কিছু দিন সেনায় ছিলেন। তার পর পাকাপাকি ভাবে চলে আসেন মু্ম্বইয়ে। হিন্দি ছবিতে প্রথম কাজ ১৯৪৮–‌এ। ছবির নাম ‘‌হীর–‌রাঞ্ঝা’‌। তবে শর্মাজি ছদ্মনামে। স্বনাম মানে খৈয়াম নামে প্রথম কাজ ১৯৫৩–‌এ মুক্তিপ্রাপ্ত ‌‘‌ফুটপাথ’‌ ছবিতে। জনপ্রিয়তা দেয় ‘‌শোলা অওর শবনম’‌। কালজয়ী সব গান সৃষ্টি করেছেন ‘‌কভি কভি’‌,‘‌উমরাও জান’‌, ‘‌বাজার’‌, ‌‘নুরি’‌, ‘‌রাজিয়া সুলতান’‌–‌এর মতো ছবিতে। ‘‌উমরাও জান’‌–‌এর সুবাদে ১৯৮১–‌এ জাতীয় পুরষ্কার পেয়েছিলেন খৈয়াম। সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য ২০০৭–‌এ সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার পেয়েছেন। পদ্মভূষণ পেয়েছেন ২০১১–‌তে। 
প্রবাদপ্রতিম সুরকারের প্রয়াণে শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির টুইট:‌ ‘‌স্মরণীয় সব সঙ্গীতের জন্য ভারত খৈয়াম সাহেবের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবে। নতুন সঙ্গীতশিল্পীদের সর্বদা সমর্থন করার জন্য তঁার মানবিকতাকেও মনে রাখবে। তঁার প্রয়াণ অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’‌
শোকবার্তায় অমিতাভ বচ্চন তঁার ব্লগে লিখেছেন, ‘‌সঙ্গীতের দিকপাল। মৃদুভাষী, সজ্জন মানুষ। অসংখ্য ছবি, বিশেষত আমার বেশ কিছু ছবিতে তঁার ভূমিকা রয়েছে। সেই খৈয়াম সাহেব চলে গেলেন। প্রার্থনা ও সমবেদনা।’‌
খৈয়ামের সঙ্গে অজস্র ছবিতে কাজ করেছেন সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর। টুইটারে তঁার আন্তরিক স্মৃতিচারণে জানিয়েছেন, ‘‌মহান সুরকার খৈয়াম সাহেব আজ আর আমাদের মধ্যে নেই। এই খবর যে কত দুঃখের, বলে বোঝাতে পারব না। খৈয়াম সাহেবের সঙ্গে একটা যুগের অবসান হল। তঁার প্রতি আমার বিনীত শ্রদ্ধাঞ্জলি।’‌
তঁার একটি টুইট এই রকম:‌ ‘‌খৈয়াম সাহেব আমাকে ছোট বোন মনে করতেন। আমার জন্য নিজের বিশেষ পছন্দের গান সৃষ্টি করতেন। ওঁর সঙ্গে কাজ করতে খুব ভাল লাগত। আবার বেশ ভয়ও করত। কারণ উনি ছিলেন পারফেকশনিস্ট। ওঁর শের–‌শায়েরির বোধ ছিল অসাধারণ। তাই মির তকি মিরের মতো অসামান্য কবির কবিতাকে গানের রূপ দিয়েছিলেন।’‌ 
স্ত্রী জগজিৎ কওর এবং অসংখ্য গুণমুগ্ধকে রেখে গেলেন খৈয়াম।

জনপ্রিয়

Back To Top