জয় সরকার
১৯৯৬ সালে প্রথম বঙ্গ সম্মেলনে গিয়েছিলেন জয় সরকার। আরতি মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বাজাতে। হিউস্টনে। এরপর বেশ কয়েকবার গিয়েছেন বঙ্গ সম্মেলনে। এবারেও তিনি উপস্থিত বাল্টিমোরে। কথা বললেন  শুভজিতের সঙ্গে।
প্রবাসী বাঙালির মধ্যে বঙ্গ সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে এই  এন এ বি সি- কে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন বলে মনে হয়?
খুবই গুরুত্বপূর্ণ । কারণ বঙ্গে বাংলার চর্চা থেকে বিদেশের মাটিতে বসে থাকা বাঙালির মধ্যে তাঁর মাতৃভাষা চর্চা করার আবেগটা অনেক আন্তরিক। তাঁদের কাছে এই সম্মেলনের গুরুত্ব অপরিসীম। তাঁরা কঠোর পরিশ্রম ক’রে এই সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংগঠনে অনেক সদস্য থাকেন ঠিকই, কিন্তু কাজের কাজটা করার ক্ষেত্রে কিছু মানুষের ওপর সম্পূর্ণ চাপ পড়ে। তাঁরাও সুনিপুণভাবে কঠোর পরিশ্রম ক’রে সেই দায়িত্ব পালন করেন। শিকড়ের টানেই। 
বর্তমান সংগঠকরা যখন কালের নিয়মে অবসর নেবেন,তখন দায়িয়্বভার কারা কাঁধে তুলে নেবেন বলে তোমার মনে হয়?
বর্তমান সংগঠকদের পরের প্রজন্ম পুরোপুরিভাবে আমেরিকান হয়ে গেছে। তাই তাঁদের কাছ থেকে এ আশা করা ঠিক হবে না। কিন্তু আমার মনে হয়, কর্মসূত্রে প্রতিবছর অসংখ্য বাঙালি বিদেশে যাচ্ছেন,তাঁরাই এই সম্মেলনকে সসম্মানে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। এছাড়াও কিছু বাবা-মা তাদের সন্তানদের কাছে বাংলা সংস্কৃতি ধরে রাখতে নিয়মিত বাড়িতে চর্চা,অভ্যাস চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও একটা উৎসাহ কাজ করবে বলে আমার মনে হয়। 
এবছর তুমি কী করছো ?
এবছর কাফিলা ব্যান্ডের সদস্য হয়ে আমি যাচ্ছি।  এই ব্যান্ডে তন্ময় বোস আছেন,শ্রীজাত আছেন, গানে আছেন শুচিস্মিতা, আখলাক হোসেন আছেন হারমোনিয়ামে। মূলত গজলকেন্দ্রিক ব্যান্ড এটা। এই ব্যান্ডে যোগদানের অফার আমায় তন্ময়দা দেন,পণ্ডিত তন্ময় বোস। 
তুমি বেশ কয়েকবার এন এ বি সি গেছো। অভিজ্ঞতা কীরকম?
সামান্য অব্যবস্থা নজরে আসলেও মোটের ওপর সাধুবাদ জানাই এই সম্মেলন এবং তার উদ্যোক্তাদের।  
দেশের বাঙালি আর বিদেশের বাঙালির মধ্যে পার্থক্য কী নজরে এলো?
লাইফস্টাইলের পার্থক্য আছে। সময়ানুবর্তিতার পার্থক্য আছে। এখানে কোন অনুষ্ঠান ৬ টায় শুরু হবে বলে ৮টা তেও শুরু হয়। কিন্তু বিদেশে সেটা হবে না। সময় নষ্টের জন্য ফাইন দিতে হয়। তাই ওখানকার বাঙালিদের মধ্যেও এই পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। তবুও আমি বলবো বাঙালি, বাঙালিই। ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে। সেটা বঙ্গ সম্মেলনে বোঝা যায়। জোরে জোরে কথা বলা,তুমুল আড্ডা, হই হট্টগোল, ঝগড়া ইত্যাদিতে তারা পুরোদস্তুর বাঙালিয়ানায় ভরপুর। তাই আমার মনে হয় বাঙালি মঙ্গলগ্রহে গেলেও বাঙালিই থাকবে।

জনপ্রিয়

Back To Top