সৌগত চক্রবর্তী‌: কালীচরণ দাসকে তার পাড়াপড়শি শালিচরণ দাস বলে ডাকত। কারণ, বউ-‌এর মৃত্যুর পর সে তার শালি মিতালিকে বাড়িতে এনে রেখেছিল। তার বাড়ির দোতলার ভাড়াটের দাবি, প্রথমে দুটো ঘরে মিতালি আর কালীচরণের দুটো বিছানা থাকলেও পরে মাত্র একটা ঘরে একটাই বিছানা দেখা যেত। আরও একটা কথা চাউর হয়ে গেল, কালীচরণের পাশের বাড়ির যাত্রা ও থিয়েটার অভিনেতা বিশ্বনাথ পাল নাকি দিবাভিসারে আসত মিতালির কাছে। কথাটা হয়ত কালীচরণের কানেও ঢুকেছিল। ফলে একদিন অসময়েই কালীচরণ বাড়ি ফিরে আসল। আর তারপর আদিরস ও রুদ্ররসের মিশ্রণে যে বিষ্ফোরণ ঘটল, তাতে দুটো ঘটনা ঘটল। প্রথমত, কালীচরনের হাতে খুন হল মিতালি আর দ্বিতীয়ত নিরুদ্দেশ হল বিশ্বনাথ পাল। কিন্তু এটাই শেষ নয়। গল্পের শুরু যখন কালীচরণ ১৪ বছর জেল খেটে বাড়ি ফিরল। তখন বিশ্বনাথ পাল নাম করা থিয়াটার ও সিনেমা অভিনেতা। সেই বিশ্বনাথ পাল একদিন থিয়েটার করতে করতেই মঞ্চে রহস্যময়ভাবে খুন হল। কীভাবে?‌ কে করল খুন?‌ না, তা জানা যায়নি। কারণ এই কাহিনী ‘‌বিশু পাল বধ’‌ লেখা আর শেষ করে যেতে পারেননি শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ব্যোমকেশ কাহিনির এটাই শেষ উপন্যাস এবং অসম্পূর্ণ। পরে সেই কাহিনি সম্পূর্ণ করেন নারায়ণ সান্যাল।
এবার সেই কাহিনিই আসছে সিনেমায়। এবং এই ছবিতে ফের সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ বক্সীর ভূমিকায় অভিনয় করবেন যিশু সেনগুপ্ত। এর আগে অঞ্জন দত্তর পরিচালনায় তিনটি ব্যোমকেশ ছবিতে অভিনয় করেছেন যিশু— ‘‌ব্যোমকেশ বক্সী’‌, ‘‌ব্যেমকেশ ও চিড়িয়াখানা’‌ এবং ‘‌‌ব্যোমকেশ ও অগ্নিবান’‌।
ব্যোমকেশকে নিয়ে এই ছবি প্রযোজনা করবেন কৌস্তুভ রায়। ‘‌বিশু পাল বধ’ অবলম্বনে এই ছবিটি পরিচালনা করবেন ইন্দ্রনীল ঘোষ। আর সেই ছবিতেই ‘‌ব্যোমকেশ’ হিসেবে প্রত্যাবর্তন ঘটছে যিশু সেনগুপ্তর।
১৯৭০-‌এ শরদিন্দু লিখতে শুরু করেন এই কাহিনী। সেই বছরেই ২২ সেপ্টেম্বর মারা যান শরদিন্দু। পরে এই অসমাপ্ত কাহিনি শেষ করেন নারায়ণ সান্যাল। কিন্তু সম্পূর্ণ হওয়ার পর কেমন দাঁড়াল সেই গল্প?‌ শরদিন্দুর ব্যোমকেশ কাহিনি বলার ‘‌ঢং’‌ কি অপরিবর্তিত থেকেছে সেই গল্পে নাকি, অন্য একটা মাত্র পেয়েছে সেই গল্প?‌ ব্যোমকেশ কি সেই একই বয়সী রয়ে যাবেন এই গল্পে না কি ধীরে ধীরে বয়স বাড়বে ব্যোমকেশের?‌ আপাতত এই প্রশ্নগুলোই ঘুরছে ব্যোমকেশ প্রেমীদের মনে। সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে আরও কয়েকদিন পরে।

জনপ্রিয়

Back To Top