সম্রাট মুখোপাধ্যায়: ‘‌বাঙালি ছেলের বিশ্বদর্শন’‌ও নাম হতে পারত এ ‌ছবির। কারণ, গল্পসূত্রে নায়ক পাড়ি জমাচ্ছে ইউরোপে। আর তারপর ছবির সিংহভাগই সেখানে।
ছবির নাম ‘‌হাবিলদার হবে অফিসার’ও হতে পারত। কারণ, ছবির ‘‌প্লট’‌ বলতে যেটুকু তা দাঁড়িয়ে আছে নায়কের ওই ইচ্ছাটুকুর ওপরে। সে পুলিসের কনস্টেবল। হতে চায় ইনস্পেক্টর। আসলে তার পূর্বপুরুষদের যারাই পুলিসে চাকরি করেছে তারাই ওই কনস্টেবলের পদেই চাকরি করেছে। সে বংশে প্রথম ইনস্পেক্টর হতে চায়। অবশ্য ইনস্পেক্টর হওয়ার আগেই সে মিথ্যে করে বাড়ির আর গ্রামের লোকেদের কাছে ইনস্পেক্টর সেজে আছে। আর সেটাতেই এ ‌ছবির প্লটের আসল মজা।
এ ‌ছবির আরও একটা নাম হতেই পারত ‘‌ইতালিতে ইচ্ছাপূরণ’‌। কারণ, এরপর ইনস্পেক্টর নটিকে, মানে হাবিলদার নটবর খাড়া (‌জিৎ)‌ যাচ্ছে ইতালিতে। এক বিশেষ মিশনে। আর সেখানেই তার সঙ্গে দেখা হচ্ছে নায়িকা সমীরার। আসলে সমীরাকে (‌নুসরত ফারিয়া)‌ খুঁজতেই সে ইতালি যাচ্ছে। আর সেই যাওয়াটা ঘটছে পুলিসের এসপি–র ইচ্ছায়।
এসপি (‌যিনি বাড়িতে পূর্ববঙ্গীয় আর অফিসে পশ্চিমবঙ্গীয় ভাষায় কথা বলেন!‌)‌ আর তাঁর স্ত্রী আলাদা থাকেন। স্ত্রীর সঙ্গে ইতালি চলে গেছে মেয়ে সমীরা। এসপি চান মেয়েকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনতে। ইতালিতে মেয়ে বা স্ত্রীর বিস্তারিত ঠিকানা অবশ্য তিনি জানেন না। তাই দারোগা দেবেন ‘‌ঘুষ’‌ (‌পদবিটা আসলে ‘‌ঘোষ’‌, কিন্তু দেবেন ইংরেজিতে তা ‘‌ডাবল ও’‌ ব্যবহার ‌ক‌রে লিখে রাখেন ‘‌ঘুষ’‌!‌)‌–‌এর পরামর্শে এসপি চালাকচতুর হাবিলদার নটিকেই পাঠান ইতালি, মেয়েকে বুঝিয়ে–সুঝিয়ে ফেরত আনার জন্য। দেবেন (‌খরাজ মুখোপাধ্যায়)‌ আসলে ক্ষুব্ধ ছিলেন (‌কেন যে কে জানে!‌)‌ নটির ওপরে, তাই তাকে জব্দ করতে (‌কীভাবে যে কে জানে!‌)‌ এমন একটি বিদেশ ঘোরার সুযোগ করে দেন!‌ আর নটির সামনে প্রলোভন ঝোলানো থাকে, সে মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে পারলে তাকে অফিসার করে দেবেন এসপি।
এমন প্লটে আর একটু ‘‌উপরন্তু’‌ও আছে, নটিকে যে পুলিস বিভাগ বিদেশ পাঠাবে, তার জন্য তৈরি করা হয় এক কাল্পনিক ‘‌তাতিয়া ডাকু’‌কে। ঘুষ নেওয়ার জন্য এক বিদেশযাত্রীর পাসপোর্ট আটকে তাকে লক–‌আপে ধরে রেখেছিল নটি, স্কুটারের পেছনে কিছু লেখার বেনিয়ম দেখিয়ে!‌ তার ছবিতেই কারিকুরি দেখিয়ে তাতিয়া ডাকু সাজানো হয়!‌ এসবের কোনওটাই সম্ভব কি না সে প্রশ্ন এ ‌ছবি দেখতে গিয়ে ঘনঘনই দর্শকের মনে জাগবে। এবং আইন‌কানুন–‌রীতি‌নীতি সবকিছু ডিঙোনো উদ্ভট এসব কাণ্ডকারখানা দেখতে–‌দেখতে বিষম খাওয়া চেপে সিটে বসে থাকতে হবে শুধুমাত্র এই কৌতূহলটুকু মেটাতে যে নটি কি তাহলে পেল সমীরাকে। যিনি এমন মৌলিক কৌতূহল জাগিয়ে রাখতে পারবেন তিনি ছবিটি পুরো দেখবেন, যিনি পারবেন না তাঁর মনে হয় ইতালিই পালাতে ইচ্ছা হবে!‌
বলা হয়ে থাকে, একজন ‘‌সুপারস্টার’‌ তিনিই, যিনি নিজের কাঁধে করে তাবৎ অবাস্তবতার বোঝা বয়েও, নিজের ‘‌পার্সোনা’‌ জোরে তাকে যুক্তিগ্রাহ্য করে তোলেন। এবার একটু অন্যরকম চরিত্র, ফর্মুলার বাইরে গিয়ে যা রক্ত–মাংসের, যাকে ঘিরে একটা সাহিত্যধর্মী গল্প আছে, এমন চিত্রনাট্য বাছলে ভাল হয় নাকি জিৎ?‌ তারকা তো দিনান্তে একজন অভিনেতাও।‌ আপনি পারবেন।

জনপ্রিয়

Back To Top