বিজয়প্রকাশ দাস,পূর্ব বর্ধমান: গ্রামের এক প্রবীণ মহিলার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন একটি মেয়ে। সেটা কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি গ্রামেরই এক মাতব্বর। স্বভাবতই একেবারে দলবল নিয়ে ওই মহিলার বাড়িতে চড়াও হলেন মাতব্বরটি। শোনা যাচ্ছে, এই মাতব্বরের চরিত্রেই অভিনয় করছেন অভিনেত্রী শুভশ্রীর বাবা দেবপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়। অভিনয় জগতে একেবারে নতুন মুখ তিনি। মেয়ের আবদারে জামাই রাজ চক্রবর্তীর ছবি ‘ধর্মযুদ্ধ’–এ অভিনয় করছেন দেবপ্রসাদবাবু।  আর এ নিয়েই বেশ শোরগোল পড়ে গেছে রাজের শ্বশুরবাড়ি পূর্ব বর্ধমান শহরে। এই বর্ধমান শহরেরই মেয়ে বাংলার রুপোলি পর্দার গ্ল্যামার কুইন অভিনেত্রী শুভশ্রী। বর্ধমানের মানুষ তঁাকে ঘরের মেয়ের মতোই ভাবেন। তঁার বাবা আরেক ঘরের লোক সিনেমায় নামছেন জেনে যার পর নাই উৎফুল্ল বর্ধমান শহরের মানুষ।
এক বছর আগেই রাজ ও শুভশ্রীর জঁাকজমক করে বিয়ে হয়েছে। এদিকে, দেবপ্রসাদবাবু সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। অবসর নেওয়ার পর স্বভাবতই তঁার টালিগঞ্জ পাড়ায় মেয়ের আউটডোর ও ইন্ডোর শুটিংয়ে যাতায়াত একটু বেড়ে যায়। এতে ছায়াছবি জগতের নামিদামি মানুষের সঙ্গে তঁার পরিচিতিও ঘটে। বিনয়ী দেবপ্রসাদবাবু সকলের সঙ্গে সহজেই আন্তরিকতার সঙ্গে মিশে যেতে পারেন। এরই মধ্যে তঁার জামাই রাজ চক্রবর্তী ‘ধর্মযুদ্ধ’ নামে একটি ছায়াছবি করবেন বলে প্রস্তুতি নেন। তাতে গ্রামের এক মাতব্বরের চরিত্রে শ্বশুর মশাইকেই ভাল মানাবে বলে চিন্তাভাবনা করেন রাজ। এরই মধ্যে বাড়ির অন্দরে সেই মনের কথা শ্বশুর মশাইয়ের কাছে প্রস্তাব হিসেবে তুলে ধরেন জামাই। প্রথমে দেবপ্রসাদবাবু সেই প্রস্তাব শুনে অনেকটা আকাশ থেকেই পড়েন। আবার জামাইয়ের ঠাট্টা ভেবে ‘‌ওসব হবে না’‌ বলে প্রথম একটু পাশ কাটিয়েও যান। কিন্তু নাছোড় তঁার আদরের মেয়ে শুভশ্রী। বাংলার জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী তঁার বাবার কাছে জামাইয়ের ছবিতে অভিনয়ের আবদার করে বসলেন। মেয়ের আবদার বলে কথা! তা আর ফেরাতে পারেননি দেববাবু। তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই মেয়ে–জামাইয়ের ধর্মযুদ্ধে নামলেন দেবপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়।
যত দূর জানা গেছে, তিনি মেয়ে–জামাইয়ের মান রেখেছেন অভিনয়ে। কারণ, শুভশ্রীর অভিনয়ের প্রথম দিন থেকেই তঁার যাতায়াত ছিল এই ক্ষেত্রটিতে। এতে বয়সের সঙ্গে তঁার কিছুটা অভিজ্ঞতাও হয়েছে। স্বভাবতই অভিনয় করতে গিয়ে তঁাকে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। এই ‘ধর্মযুদ্ধ’ ছায়াছবিতে অবশ্যই তঁার মেয়ে শুভশ্রী নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। আরও দুই নায়ক এই সিনেমায় রয়েছেন একজন সোহম ও অন্যজন ঋত্বিক। গোটা সিনেমার শুটিংপর্ব ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন চলছে সম্পাদনার পালা। সামনের মার্চ মাসে ধর্মযুদ্ধ মুক্তি পেতে চলেছে সগৌরবে।
‌বর্ধমান চলচ্চিত্র চর্চা কেন্দ্রের সহ–সভাপতি অনন্ত মণ্ডল বলেন, ‘‌অভিনেত্রী শুভশ্রীর বাবা অভিনয় জগতে পা রেখেছেন শুনে খুব ভাল লাগছে। তিনি যে সিনেমায় অভিনয় করুন না কেন, তঁার স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় দিয়ে যদি তিনি দর্শকের মন জয় করতে পারেন, তা হলে বর্ধমানবাসী হিসেবে নিশ্চয়ই আমরা গর্বিত বোধ করব। বর্ধমান আরও একজন অভিনেতাকে পাবে। এর চেয়ে আনন্দের কথা আর কী হতে পারে!’‌ 
বর্ধমানের মানুষ  এখন  ‘‌ধর্মযুদ্ধ’‌ রিলিজের অপেক্ষায় রয়েছেন। 

বাবার সঙ্গে শুভশ্রী। ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top